ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারায়ণগঞ্জের এমপি মান্নানের ছেলে খাইরুল ডিবি হেফাজতে


নারায়ণগঞ্জের এমপি মান্নানের ছেলে খাইরুল ডিবি হেফাজতে

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

শনিবার (২১ জুন) দুপুরবেলায় রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাকে আটক করার পর বিকেলবেলা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। পরে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হওয়ার পর সন্ধ্যাবেলায় সজীবকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী। তিনি উল্লেখ করেন, সজীবের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো মামলা নেই। তবে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আছে। এই অভিযোগগুলোর তদন্তের প্রয়োজনেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ৯৩ পূজামণ্ডপকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করেছে এসআরবি

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য মিলেছে এবং অতিরিক্ত তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহের জন্য সজীবকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরক্কোর বিশ্বকাপ তারকা মাজরাউই কুরআনের হাফেজ ও ইমাম হতে চান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ পি.এম


মরক্কোর বিশ্বকাপ তারকা মাজরাউই কুরআনের হাফেজ ও ইমাম হতে চান

ফুটবলারদের ক্যারিয়ার শেষে কোচিং, টেলিভিশন বিশ্লেষক কিংবা ক্লাব প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া একটি পরিচিত দৃশ্য হলেও, মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই বেছে নিতে চান সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ। তিনি সবুজ মাঠ ছেড়ে ভবিষ্যতে নিজেকে কুরআনের হাফেজ এবং একজন মসজিদের ইমাম হিসেবে দেখতে চান।

বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও মরক্কো জাতীয় দলের অন্যতম ভরসার নাম মাজরাউই। তার বয়স মাত্র ২৮ বছর, যখন একজন ডিফেন্ডারের ক্যারিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে থাকে, তখনই তিনি অবসরের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাজরাউই জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর তিনি পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেয়ার কথা ভাবছেন। কারণ, জীবনের পরবর্তী সময়ে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা, কুরআন অধ্যয়ন এবং আত্মিক উন্নয়নের জন্য সময় দিতে চান।

তার ভাষ্য হলো,

"ফুটবল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে-- খ্যাতি, অর্থ ও সাফল্য। কিন্তু জীবন খুবই ছোট। আমি কুরআন হিফজ করতে চাই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মসজিদের ইমাম হওয়ারও ইচ্ছা রয়েছে।"

মাজরাউই জানান, তার সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলোর একটি হলো সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করা। এরপর ইসলামী জ্ঞান অর্জন করে তিনি একজন ইমাম হিসেবে মানুষের সেবা করতে চান। আধুনিক ফুটবলে এমন লক্ষ্য খুব কমই দেখা যায়। বিশেষ করে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা একজন তারকা ফুটবলার ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে এমন পরিকল্পনার কথা জানালে তা স্বাভাবিকভাবেই সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন মাজরাউই। সেই আসরে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় মরক্কো। এরপরও ক্লাব ও জাতীয় দল-- দুই পর্যায়েই ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন তিনি।

যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের পর সত্যিই তিনি অবসর নেন, তাহলে ফুটবল বিশ্ব হারাবে একজন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে। আর নুসাইর মাজরাউই তখন শুরু করবেন জীবনের নতুন একটি অধ্যায়-- যেখানে স্টেডিয়ামের গ্যালারির বদলে জীবনের প্রকৃত অর্জন হতে পারে ঈমান, জ্ঞান এবং আত্মিক পরিপূর্ণতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাজিলের হারের ধাক্কায় স্ট্রোক, চার বছর পর বিশ্বকাপ ফিরিয়ে দিল হাসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ পি.এম


ব্রাজিলের হারের ধাক্কায় স্ট্রোক, চার বছর পর বিশ্বকাপ ফিরিয়ে দিল হাসি

২০২২ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারিয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর নেইমার জুনিয়রকে কাঁদতে দেখে মন খারাপ হওয়া ফুটবলপ্রেমীদের সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু কেরালার অক্ষয় নামের এক তরুণের জন্য এই হারের ধাক্কা খুব বেশি জোরাল ছিল। ব্রাজিলের বিদায়ের শোক সামলাতে না পেরে সে স্ট্রোক করে বসেন। গত চার বছর ধরে শয্যাশায়ী অবস্থায় থাকা এই যুবকের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মাঝে আরেকটি বিশ্বকাপের আগমনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আশা তাদের বিশ্বাস, সেলেসাওদের সাফল্য কোনো মিরাকল সৃষ্টি করে অক্ষয়কে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে।

কেরালায় ব্রাজিল সমর্থকের সংখ্যা কখনোই কম ছিল না। কিন্তু কাক্কানাডের বাসিন্দা অক্ষয়ের পরিবার ও তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জন্য এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টা সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত। দক্ষিণ আমেরিকার দলের সাফল্য হয়তো চার বছর ধরে শয্যাশায়ী থাকা তাদের প্রিয় অক্ষয়কে আবার হাঁটার সুযোগ করে দিতে পারে।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রত্যাবর্তন ইতোমধ্যে ২৬ বছর বয়সী অক্ষয়ের মুখে নতুন হাসি নিয়ে এসেছে। এতে তার পরিবারের মধ্যে নতুন করে আশা উদিত হয়েছে যে ফুটবলের प्रति তার অগাধ ভালোবাসা সুস্থতার পথেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। গত শনিবার (২০ জুন) কয়েকজন বন্ধু অক্ষয়কে দেখতে গিয়ে বলেছিলেন যে ব্রাজিল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তারা তার মধ্যে দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করেছেন।

'সে হাসল,'– তার পরিবার স্মৃতিচারণ করে বলেছে।

গত শনিবার যখন ব্রাজিল গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে মোকাবেলা করে, তখন তাদের বাড়ির কাছেই একটি স্থানীয় ক্লাবে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন ছিল। অক্ষয়ের বাবা কে টি পুরুষোত্তমন, তিনি একজন হেডলোড শ্রমিক, ম্যাচের আগে বলেন, 'হাসপাতালে যাওয়ার বাইরে গত চার বছরে এটাই হবে অক্ষয়ের প্রথম বাইরে বের হওয়া।'

অক্ষয় নিজেও এক সময় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি ছিলেন ব্রাজিলের একনিষ্ঠ সমর্থক। তার পরিবার কখনো কল্পনাও করেনি যে ফুটবল সম্পর্কিত এমন একটি ঘটনা তাদের জীবনে নেমে আসবে।

পুরুষোত্তমন সেই ঘটনার কথা এখনও ভুলতে পারেননি। তিনি বলেন, 'ব্রাজিলের হারের দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু অক্ষয় বাড়ি ফিরছিল না। পরে আমি তাকে পাবলিক স্ক্রিনিংয়ের জায়গায় নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলাম। সে কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। আমরা তাকে দ্রুত কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাই।'

চিকিৎসকেরা দ্রুত জানিয়ে দেন, অক্ষয়ের স্ট্রোক হয়েছিল মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে। চার বছর ধরে পরিবারের পাশে থাকা কানিভু প্যালিয়েটিভ কেয়ারের আঞ্চলিক সম্পাদক প্রদীপ এন কে জানান, 'ম্যাচ চলাকালীন বা ম্যাচের পরপরই তার স্ট্রোক হয়েছিল।'

অক্ষয়ের বন্ধুরা জানায়, শেষ বাঁশি বাজার পর সে একদম স্থির হয়ে বসে ছিল। তারা ভেবেছিল, প্রিয় দলের হৃদয়ভাঙা পরাজয় সামলাতে সে একা থাকতে চায়। তাই সে চুপচাপ চলে গিয়েছিল। কিন্তু যেটিকে তারা শোক মনে করেছিল, সেটিই ছিল একটি চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা।

চার বছর ধরে তার শরীরে শুধু চোখ দুটিতে কিছু নড়াচড়ার লক্ষণ দেখা গেছে। পরিবার কখনো নিশ্চিত হতে পারেনি, সে আশপাশে কী ঘটছে তা বুঝতে পারছে কি না।

তার মা জয়া বলেন, 'কেউ আমাদের বাড়িতে এলে সে চোখ বন্ধ করে রাখে। তারা চলে যাওয়ার পর আবার চোখ খোলে।'

প্রদীপের বিশ্বাস, ফুটবল আবারও অক্ষয়ের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এবার সুস্থ হয়ে ওঠার পথে।

তিনি বলেন, 'আমরা চেষ্টা করছি তার জন্য একটি টেলিভিশনের ব্যবস্থা করতে, যাতে সে বাসায় বসেই ব্রাজিলের ম্যাচগুলো দেখতে পারে।'

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল টুর্নামেন্ট শুরু করেছে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দলটি সহজেই শেষ ৩২-এ পৌঁছাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে, যদিও খুব কম মানুষই তাদের শিরোপার প্রধান দাবিদার মনে করছেন।

কিন্তু অক্ষয়ের পরিবারের কাছে ফলাফলের গুরুত্ব ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। তাদের কাছে ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচ এবং প্রতিটি জয় নতুন করে বেঁচে ওঠার আলোকবর্তিকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর: বাণিজ্য ও শ্রমবাজারে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর: বাণিজ্য ও শ্রমবাজারে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

রোববার (২১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে গেছেন। এটি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে সম্পৃক্ত হবেন, প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনা এবং উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন।

সফরের উদ্দেশ্যে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের শ্রমবাজারকেন্দ্রিক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো নতুন ভবিষ্যৎ দিকে বিস্তৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সম্পর্কেও একটি সমঝোতা স্মারক সই সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের আলোচনায় শ্রমবাজার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, হালাল শিল্প ও সেমিকন্ডাক্টরসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেইসাথে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনার বিষয়টিও আলোচনায় উল্লেখিত হবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। এটি বাংলাদেশের বড় শ্রমবাজার এবং একই সাথে জ্বালানি, পাম অয়েল, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবেও পরিচিত। অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ ও কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা থাকলেও, দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা বিরাজমান। ব্যবসায়ীদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগিয়ে গেলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনা পারস্পরিক আস্থাকে বাড়াবার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জনশক্তি খাত ছাড়া বর্তমানে বড় কোনো অমীমাংসিত বিষয় নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজারই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা ও হালাল অর্থনীতির মতো সমুজ্জ্বল খাতগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এবারের সফরের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আনোয়ার শহীদের মতে, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হলেও বাংলাদেশের রপ্তানির অংশ তুলনামূলকভাবে কম। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং অন্যান্য মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো গেলে রেমিট্যান্স আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

মালয়েশিয়াপ্রবাসী ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সাবেক পরিচালক মাহবুব আলম শাহ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তার মতে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্প, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং হালাল শিল্পে আগ্রহ রয়েছে। সফরের পর সরকারি পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সেই আগ্রহ বাস্তব বিনিয়োগের রূপ নিতে পারে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে প্রশিক্ষিত কর্মী, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। এতে একদিকে যেমন রেমিট্যান্স আয় বাড়বে, তেমনি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে।

মাহবুব আলম শাহ জানিয়েছেন, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির এটি উপযুক্ত সময়। মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। এই খাতে প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদায়নে সহযোগিতা জোরদার করে বাংলাদেশের খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনীসহ নানান পণ্যের রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা যাবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। যৌথ গবেষণা, কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্পের চাহিদাবহিরাগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করার মাধ্যমে উভয় দেশই সুফল লাভ করতে পারে।

ব্যবসায়ীদের মতে, সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সফর-পরবর্তী বাস্তবায়নের উপরে। এফটিএ-সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, বিনিয়োগ সহজীকরণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারত্ব বৃদ্ধির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পাঁচ দশকের অধিক সময় পর এবারের সফরকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ৪৫ মিনিট বের হননি মোদি, যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ পি.এম


দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ৪৫ মিনিট বের হননি মোদি, যা জানা গেল

দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য সাধারণ নিয়ম হল দ্রুত বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হওয়া। কিন্তু মোদি সেই নিয়ম অনুসরণ করেননি এবং তিনি বিমানবন্দরের ভেতরেই প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থান করেছেন। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হলেও পরে জানা যায় যে, তিনি কোনওভাবে ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি না করতেই বিমানবন্দর থেকে বের হতে দেরি করেছিলেন। খবরসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

অন্যদিকে, ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে যে, সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোদি রোববার (২১ জুন) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান। সাধারণত তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বাসভবনে চলে যান। কিন্তু আজ মোদি বিমানবন্দরে অবস্থান করার একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত নেন। এর কারণ হল, নিট পরীক্ষাটি দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল।

কর্মকর্তাদের মতে, ওই সময়ে দিল্লির রাজধানীতে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী তাদের নিজ নিজ কেন্দ্রের পথে ছিল, তাই যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে মোদির এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর চলাচলের সময়ে নির্দিষ্ট রুটে সাধারণত বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও কিছু সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়। তাই, পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথের শিক্ষার্থীদের যাত্রায় কোনো বিঘ্ন এড়াতে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় বিলম্বিত করেন মোদি। দুপুর ২টায় নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষা শুরু হওয়ার পর তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করে বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।

এভাবে নিট-ইউজির আগের পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের ৫ হাজার ৪৪০টি এবং বিদেশের ১৪টি কেন্দ্রে মোট ২২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী এই পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেন। এই উপলক্ষে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।

পরীক্ষার সময়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ৯৫ হাজারের বেশি কক্ষকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়। ইলেকট্রনিক জালিয়াতি ঠেকাতে ৫১ হাজারের বেশি সিগন্যাল জ্যামারও স্থাপন করা হয়েছিল। নিট-ইউজি আসলে ভারতের অন্যতম বৃহৎ ভর্তি পরীক্ষা, যা স্নাতক পর্যায়ের মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%