বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৩:৫৭ পি.এম
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বর্তমানে বেসরকারি মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সের জন্য অসচ্ছল এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ শতাংশ মেধাবী ও অসচ্ছল কোটা কার্যকর রয়েছে।
এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা উল্লেখ করেন।
এ সময়, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল অভিযোগ করেন যে, দেশে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং ডেন্টাল কলেজগুলোতে শিক্ষা ব্যয়বহুল; তাই দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠ গ্রহণের সুযোগ পায় না। তিনি জানতে চান, এ ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কলেজগুলোতে দরিদ্র মেধাবীদের জন্য বিশেষ কোটা ব্যবস্থা এবং এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার ব্যয়বহন কমানোর জন্য আপনার মন্ত্রণালয় কি পদক্ষেপ নেবে?
উত্তরে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষা সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন এবং গুণগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এই লক্ষ্যের আলোকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত দূরদর্শী নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে বেসরকারি মেডিক্যাল/ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সের অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ৫% মেধাবী ও অসচ্ছল কোটা চলছে।
এ বছর, ৫% হারে মোট ৩৯৪ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বেসরকারি মেডিক্যাল/ ডেন্টাল কলেজে মেধাবী ও অসচ্ছল কোটায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে স্বামী হত্যা মামলায়, আদালত স্ত্রী ফিরোজা খাতুন এবং তার পরকীয়া প্রেমিকসহ ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সময়ে প্রত্যেক আসামির জন্য ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে, জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক গৌতম কুমার ঘোষ এই আদেশটি প্রদান করেন।
দন্ডিতদের মধ্যে রয়েছে, নিহত হরিণাকুন্ডু উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের মুকুল মল্লিকের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন, তার পরকীয়া প্রেমিক একই গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন, এবং নাসির উদ্দিন মন্টুর ছেলে ফারুক হোসেন।
মামলার বিবরণে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল রাতে, গোপিনাথপুর গ্রামের মুকুল মল্লিক তার বাড়িতে স্ত্রী ফিরোজা এবং তার পরকীয়া প্রেমিক আলমগীরকে অদ্ভুত অবস্থায় দেখতে পান। তখন স্ত্রী ফিরোজা খাতুনের সহযোগিতায় আলমগীর এবং নাসির উদ্দিন মন্টু, মুকুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং তার লাশ গ্রামের একটি ধানক্ষেতে পুঁতে রাখেন। ঘটনার ৬ দিন পর, পুলিশ ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের মা আছিরণ বেগম ঘটনার পর বাদী হয়ে ২ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে হরিণাকুন্ডু থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর, পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৬ জুন ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে, মামলায় নিহতের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন, তার পরকীয়ার প্রেমিক আলমগীর হোসেন ও সহযোগী বিল্লাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামি ফারুক হোসেন ও মাসুদ রানাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয় আদালতের পক্ষ থেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চুরি হওয়া বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার দক্ষিণ ফুলজান নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত হামজার ছেলে জামাল উদ্দিন (২৫) এবং একই ইউনিয়নের আজগর হোসেনের ছেলে আবুল হোসেন ওরফে রাহাত (১৯)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণচর, হাতিয়া, সদর ও কোম্পানীগঞ্জসহ নোয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার, বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ রয়েছে। চুরি করা এসব সরঞ্জাম দক্ষিণ ফুলজান নগরের সেলিমের বাড়িতে এনে ট্রান্সফরমার ভেঙে তামা আলাদা করা হতো বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। পরে ওই তামা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হতো।
এলাকাবাসীর দাবি, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া একটি ট্রান্সফরমারসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জামাল নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে মালামাল চুরি করে এনে তার কাছে হস্তান্তর করার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
চরজব্বার থানার তদন্ত কর্মকর্তা দেবাশীষ সরকার বলেন, স্থানীয়রা হাতেনাতে দুই ব্যক্তিকে ট্রান্সফরমারের তামার তারসহ আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, ২৮ জুন তারিখ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য টুরিস্ট ভিসা স্বাভাবিকভাবে দেয়া হবে। তার পাশাপাশি, মানবতাকে মাথায় রেখে প্রয়োজনের তাগিদে বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ভিসাও চালু থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা সেন্টার পরিদর্শনের পর তিনি এসব কথা বলেন।
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ কথা জানিয়ে বলেন, মানবতাকে মাথায় রেখেই প্রয়োজনের তাগিদে বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ভিসা চালু থাকবে। আপাতত ঢাকায় ২টি এবং চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনায় মোট ৫টি ভিসা সেন্টার থেকে টুরিস্ট ভিসা প্রদান করা হবে। সবার পরে ধীরে ধীরে সকল সেন্টারগুলো চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৮ জুন থেকেই বাংলাদেশিদের জন্য আবার পর্যটন ভিসা (টুরিস্ট ভিসা) দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। এই ভিসা আবার চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার ভিসা সেন্টারগুলো থেকে একযোগে ভিসা কার্যক্রম শুরু হবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, যখন বাংলাদেশে বেনাপোল হয়ে আসছিলাম, তখনই ভিসার প্রশ্নটি উঠে আসে। আমি দেখেছি, ভিসা একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়। তাই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিন দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার ক্রেডেনসিয়াল পেশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) তিনি পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বেনাপোল পৌঁছালে, শূন্যরেখায় তাকে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় দূতাবাস ও বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রতিনিধিরা।
গত ৫ জুন দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে তিনি ক্রেডেনসিয়াল গ্রহণ করেন।
ভারতের জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৫০ সালে নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও কলকাতায় তার বেড়ে ওঠা। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কংগ্রেস, জনতা দল ও তৃণমূল কংগ্রসে সক্রিয় থাকার পর ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে তার নিয়োগের ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি। তিনি প্রণয় কুমার ভার্মারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। সাধারণত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে পেশাদার কূটনীতিকদের নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এবার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বেছে নিয়েছে ভারত সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই দাবি করেছেন যে, ইরানের পক্ষে যুদ্ধ করতে মুখোমুখি হয়ে তুরস্ক প্রস্তুত ছিল। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে এই সংঘাতে যোগ দিতে থামিয়েছেন। একইভাবে, ট্রাম্প চীন ও রাশিয়াকেও এই সংঘাত থেকে দূরে থাকতে থামানোর কথা বলছেন।
বুধবার (২৪ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন যে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ‘ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কারণ তিনি ইসরাইলকে খুব একটা পছন্দ করেন না।’
ট্রাম্পের দাবিতে প্রদর্শিত হয়েছে যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করে এরদোয়ানকে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য বলেছেন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সেই অনুরোধ মেনে নিয়েছেন।
এদিকে, আঙ্কারার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত যুদ্ধবিমানের জন্য প্রয়োজনীয় জেট ইঞ্জিন কেনার অনুরোধে তিনি ইতিবাচক সাড়া দেবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘সম্ভবত এমন কিছু করবেন' যা তুরস্ককে সন্তুষ্ট করবে। এরদোয়ানের প্রতি ‘শ্রদ্ধা জানিয়ে’ তিনি আঙ্কারায় আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাকেও নিশ্চিত করেছেন।
চীন ও রাশিয়া সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন, আরেকজন যিনি অসাধারণ ছিলেন, তিনি হলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি [জিনপিং]। তিনি যুদ্ধে যোগ দিতে পারতেন, কারণ তার অর্ধেক তেল ওই এলাকা থেকে পাওয়া যায় এবং আমি বুঝতে পারছিলাম যে তিনি তা করতে চাইছেন, কিন্তু আমি তাকে অনুরোধ করেছিলাম যেন তিনি দূরে থাকেন এবং তিনি সেটা পালন করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবং সত্যি বলতে, [রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির] পুতিনও তাই করেছিলেন। আপনি যদি ভালোভাবে লক্ষ্য করেন, তবে বলতে পারেন যে ভ্লাদিমিরের মনোযোগ দেওয়ার মতো অন্যান্য বিষয় ছিল, কিন্তু তারা সবাই দূরেই ছিলেন। আমার মতে, এটা সত্যিই, সত্যিই আশ্চর্যজনক ছিল।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ