ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে : কৃষিমন্ত্রী


কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় গুণগত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জোরদারে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সরকার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় গুণগত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই বিভাগগুলোর জন্য সরকারের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের কার্যকারিতা, প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সরকার তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও সুপারিশকে সবসময় ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে, যা নীতি নির্ধারণে কার্যকর সহায়তা প্রদান করে।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

তিনি জানিয়েছেন, কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করেছে। কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই করার জন্য ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিপণনের উন্নয়ন, পাটবীজ, পেঁয়াজ বীজ ও আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাটির অম্লতা হ্রাস এবং সারের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থায় সৌরশক্তি নির্ভরতার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন যাতে আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পেঁয়াজের সংরক্ষণের জন্য এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি সরবরাহ, ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, বস্তায় আদা চাষ সম্প্রসারণ, চুক্তিভিত্তিক পাটবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বাণিজ্যিক ও রপ্তানিমুখী কৃষির ওপর জোর দিয়ে বলেন, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও রপ্তানিমুখী ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্যাকিং হাউস, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের কথা উল্লেখ করে জানান, চাহিদার প্রকৃত তথ্য না থাকায় বর্তমানে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে দেশ পেঁয়াজ আমদানি থেকে বেরিয়ে আসবে। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে আদা ও রসুন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি পাট ও পেঁয়াজ বীজের আমদানি নির্ভরতাও পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হবে।

আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক, সানেম (SANEM) এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসপাতাল কর্মীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আটক নারীকে নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২২ পি.এম


হাসপাতাল কর্মীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আটক নারীকে নিয়ে

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক যুবক এবং এক নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করার পাশাপাশি ভিডিও ধারণ, মারধর, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিছু আনসার সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার সময় হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের একটি টয়লেটে ওই যুবক এবং নারীকে আটক করা হয়।

ভুক্তভোগী যুবকের নাম বিজয় সরকার। তিনি হরিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জানান, অসুস্থ নানিকে চিকিৎসার জন্য বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কারণ নানির দেখভালের জন্য কোনো নারী না থাকায় তিনি পূর্বপরিচিত এক নারীকে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আসতে বলেন। রাতের এক পর্যায়ে, যখন তারা হাসপাতালের একটি টয়লেটে অবস্থান করছিলেন, নাইট ডিউটিতে থাকা ওয়ার্ডবয় শাহীন বিষয়টি টের পেয়ে গোপনে তাদের ভিডিও ধারণ করেন। এরপর তাদের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে ওয়ার্ডবয় শাহীন এবং কয়েকজন আনসার সদস্য তাদের মারধর করেন এবং একটি আইফোন-১৩ মোবাইল ও নগদ ৩ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেন। এছাড়াও, আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, কিছু সময় পরে, ধারণ করা ভিডিও দেখানোর মাধ্যমে নারীসঙ্গীকে নিয়ে রাত কাটানোর জন্য অভিযোগকারীরা আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রাজি না হলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সোমবার (১৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে জানান আনসার প্লাটুন কমান্ডার আলম। তবে ঘটনার পরে, আনসার প্লাটুন কমান্ডার আলম এবং সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) রাসেল ভুক্তভোগী যুবকের মোবাইল ফোন ফেরত দিয়েছেন।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, "আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি জানলাম।" পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের ডেকে তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নেন।

সহকারী প্লাটুন কমান্ডার রাসেল বলেন, সকাল ৯টার দিকে ওয়র্ডবয় শাহিনের সঙ্গে দেখা হলে আমি বিষয়টি জানতে চাই। তিনি নাস্তা খেতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।

অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় শাহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এরপর খোঁজখবর নিয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসনিক তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থনীতি পুনর্গঠনে ব্যয়সংকোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


অর্থনীতি পুনর্গঠনে ব্যয়সংকোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

জাতীয় সংসদে আজ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে হলেও সরকার সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী প্রদানের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির কিছু সমন্বয় করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে সরকারি ব্যয়, বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সংশোধিত বাজেটে বাজেট ঘাটতি প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৩ শতাংশের সমান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরিমাণ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।

সম্পূরক বাজেটের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রাণবন্ত ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, যা সরকারের নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।

সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী স্পিকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সকল সদস্যের প্রতি সম্পূরক আর্থিক বিবৃতিতে বর্ণিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় বাবদ দাবিকৃত মঞ্জুরি অনুমোদনের আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুশ হামলায় জ্বলল কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল, নিহত ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৫ পি.এম


রুশ হামলায় জ্বলল কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল, নিহত ১১

সোমবার ইউক্রেনের কয়েকটি বড় শহরে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

এর ফলে অন্তত ১১ জন নিহত হয়ে গেছেন। হামলার কারণে আগুন লেগেছে অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাসনালয়েও।

এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, হামলার পুরো সময়জুড়ে কিয়েভের বাসিন্দাদের আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় ছুটতে দেখা গেছে। আকাশে ক্ষেপণাস্ত्र ও ড্রোনও প্রতিহত করা হচ্ছিল।

অন্ধকার শহরের বিভিন্ন স্থানে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি জানাচ্ছে।

এই হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের প্রতি মস্কোর ওপর আরো চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির বিষয়টি ওই সম্মেলনের আলোচনায় প্রাধান্য পাওয়ার কথা।

হামলায় রাজধানী কিয়েভে পাঁচজন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়েছেন। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরার প্রাঙ্গণে আগুন লেগেছে। এর ফলে এর ডরমিশন ক্যাথেড্রালের ছাদে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর এটি একটি।’

একাদশ শতকে প্রতিষ্ঠিত এই ধর্মীয় স্থাপনাটি ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশের অর্থোডক্স বিশ্বাসীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কিয়েভ, খারকিভ ও দনিপ্রো অঞ্চলের সামরিক স্থাপনায় ‘বৃহৎ আকারের হামলা’ চালিয়েছে।

তবে লাভরায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মস্কো দাবি করেছে, সেখানে একটি পুরোনো মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। এর মধ্যে ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৮২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

সকালে কিয়েভে এএফপির এক প্রতিবেদক দেখেছেন, ক্যাথাড্রেল এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। এ সময় গির্জার ঘণ্টায় ইউক্রেনের জাতীয় সংগীতের সুর বাজছে।

জেলেনস্কি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের নেতাদের প্রতি হামলার ‘দৃঢ় ও কার্যকর’ জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, আগ্রাসনকারীর ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরও সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন্ডার লিয়েন বলেছেন, জি-৭ নেতারা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর পরবর্তী পদক্ষেপ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনা এবং এই অর্থহীন হত্যাযজ্ঞ বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।

‘পবিত্র স্থাপনায় হামলা করা যায় না’ - মঠে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিয়েভের জাদুঘরকর্মী নাটালিয়া কোরোল।

৫২ বছর বয়সী এই নারী এএফপিকে বলেছেন, ‘এটি একটি পবিত্র স্থান। তারাও বলে এটি তাদের পবিত্র স্থান। পবিত্র স্থাপনায় হামলা করা যায় না।’

সোনালি গম্বুজখচিত কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা মঠকে রুশ ও ইউক্রেনীয় উভয় অর্থোডক্স চার্চই তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে।

উপাসনালয়টির বিস্তৃত গুহা নেটওয়ার্কে উভয় চার্চের শ্রদ্ধেয় বহু সাধুর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে।

রাতের হামলায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ডরমিশন ক্যাথেড্রাল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরে ১৯৯০-এর দশকে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রুশ অর্থোডক্স চার্চের ইউক্রেনীয় শাখা এই ধর্মীয় স্থাপনাটি পরিচালনা করত।

কিন্তু ২০২২-২৩ সালে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে মস্কোপন্থী ইউক্রেনীয় চার্চের সন্ন্যাসীদের মঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের এই সার্বজনীন ঐতিহ্যের ওপর হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর মিস্তেতস্কি আর্সেনাল জাতীয় শিল্প ও জাদুঘর কমপ্লেক্সের একটি ভবনেও আগুন লেগেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঐতিহ্যবাহী খান্দুরা মজ্জুব পীর সৈয়দ রফিকুল হুসাইন এর চেহলামে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ রহমত আলী হবিগঞ্জ থেকে

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


ঐতিহ্যবাহী খান্দুরা মজ্জুব পীর সৈয়দ রফিকুল হুসাইন এর চেহলামে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্ত বর্তী বি-বাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী খান্দুরা উত্তর হাবেলী মজ্জুব পীর তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ রফিকুল হুসাইন প্রকাশ রফিক মিয়া এর চেহলামে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শান্তি পূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের উৎসবের মধ্য দিয়ে সোমবার (১৫ জুন) ভোর সকাল থেকে দিন ব্যাপী মরহুমের বড় সন্তান পীরে তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ মজিবুল হুসাইন লিটন , ছোট সন্তান পীরে তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ আশরাফুল হুসাইন জনি ও কন্যা সন্তানের জামাতা মুড়ারবন্দ ১২০ আউলিয়া দরবার শরীফের মোতাওয়াল্লী পীরজাদা আলহাজ্ব সৈয়দ সফিক আহমেদ চিশতী সফি সমন্বয়ে আয়োজনে মরহুমের নিজ বাড়িতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, অধ্যক্ষ, শিক্ষক , মসজিদের পেশ ইমাম , মোয়াজ্জেম সহ পরিবারের লোকজন নিয়ে মরহুমের আত্মার মাগফিরাতের কামনায় কোরআন খতম , খতমে সহীহ বুখারী শরীফ পড়ে এবং শেষে মরহুম সহ পরিবারের সকলের মাজার শরিফে শায়িত মুর্দা দের জিয়ারত করা হয় ।

পরে মরহুমের কর্মজীবন আলোচনা শেষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় ।

এ চেহলাম ও দোয়া মাহফিল উপলক্ষ্যে আত্মীয় স্বজন , বিভিন্ন পেশার মানুষ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ , মুহাদ্দিস, মুনাসির, মুফতি ওলামা - মা শায়েখ , এলাকার নারী-পুরুষ , হবিগঞ্জ ও বি-বাড়িয়া জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্ত - বৃন্দ মুরিদান সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আশেকান ভক্ত - মুরিদান , অসহায় হতদরিদ্র , ফকির -মিসকিনরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%