প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক যুবক এবং এক নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করার পাশাপাশি ভিডিও ধারণ, মারধর, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিছু আনসার সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার সময় হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের একটি টয়লেটে ওই যুবক এবং নারীকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী যুবকের নাম বিজয় সরকার। তিনি হরিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জানান, অসুস্থ নানিকে চিকিৎসার জন্য বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কারণ নানির দেখভালের জন্য কোনো নারী না থাকায় তিনি পূর্বপরিচিত এক নারীকে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আসতে বলেন। রাতের এক পর্যায়ে, যখন তারা হাসপাতালের একটি টয়লেটে অবস্থান করছিলেন, নাইট ডিউটিতে থাকা ওয়ার্ডবয় শাহীন বিষয়টি টের পেয়ে গোপনে তাদের ভিডিও ধারণ করেন। এরপর তাদের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে ওয়ার্ডবয় শাহীন এবং কয়েকজন আনসার সদস্য তাদের মারধর করেন এবং একটি আইফোন-১৩ মোবাইল ও নগদ ৩ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেন। এছাড়াও, আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, কিছু সময় পরে, ধারণ করা ভিডিও দেখানোর মাধ্যমে নারীসঙ্গীকে নিয়ে রাত কাটানোর জন্য অভিযোগকারীরা আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রাজি না হলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সোমবার (১৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে জানান আনসার প্লাটুন কমান্ডার আলম। তবে ঘটনার পরে, আনসার প্লাটুন কমান্ডার আলম এবং সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) রাসেল ভুক্তভোগী যুবকের মোবাইল ফোন ফেরত দিয়েছেন।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, "আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি জানলাম।" পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের ডেকে তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নেন।
সহকারী প্লাটুন কমান্ডার রাসেল বলেন, সকাল ৯টার দিকে ওয়র্ডবয় শাহিনের সঙ্গে দেখা হলে আমি বিষয়টি জানতে চাই। তিনি নাস্তা খেতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।
অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় শাহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এরপর খোঁজখবর নিয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসনিক তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন