প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় গুণগত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জোরদারে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সরকার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় গুণগত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই বিভাগগুলোর জন্য সরকারের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের কার্যকারিতা, প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সরকার তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও সুপারিশকে সবসময় ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে, যা নীতি নির্ধারণে কার্যকর সহায়তা প্রদান করে।
তিনি জানিয়েছেন, কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করেছে। কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই করার জন্য ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিপণনের উন্নয়ন, পাটবীজ, পেঁয়াজ বীজ ও আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাটির অম্লতা হ্রাস এবং সারের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থায় সৌরশক্তি নির্ভরতার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন যাতে আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পেঁয়াজের সংরক্ষণের জন্য এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি সরবরাহ, ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, বস্তায় আদা চাষ সম্প্রসারণ, চুক্তিভিত্তিক পাটবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বাণিজ্যিক ও রপ্তানিমুখী কৃষির ওপর জোর দিয়ে বলেন, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও রপ্তানিমুখী ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্যাকিং হাউস, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের কথা উল্লেখ করে জানান, চাহিদার প্রকৃত তথ্য না থাকায় বর্তমানে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে দেশ পেঁয়াজ আমদানি থেকে বেরিয়ে আসবে। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে আদা ও রসুন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি পাট ও পেঁয়াজ বীজের আমদানি নির্ভরতাও পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক, সানেম (SANEM) এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন