ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু


হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩২ জন।

আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ সংবাদে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯১৫ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৯১ জন।

আরও পড়ুন: স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ ঢাকায়

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১১৭ জন, যখন গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৬২০ জন।

১৫ মার্চ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩ হাজার ১৩৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৯৬৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম সন্দেহে তিন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৫২২ জন।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৩৬ হাজার ৪১৫ জন হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৬৮০ জন।

আরও পড়ুন: চীনে বিশেষ সংবর্ধনা পেলেন বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের চারদিন পর মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


বিয়ের চারদিন পর মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকের মৃত্যু

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের চারদিন পর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাইমুন ইসলাম ওরফে সাগর (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই দুর্ঘটনায় তার বন্ধু রিফাত গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরএলাহী-গাঙচিল সড়কের জহিরের খামারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাগরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে  দিবাগত রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাথা আলার দোকান এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত সাগর একই এলাকার সৌদি প্রবাসী বেলাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন নিজের খালাতো বোনকে বিয়ে করেন সাগর। বিয়ের পর শুক্রবার রাতে বন্ধু রিফাতকে সঙ্গে নিয়ে চরএলাহী বাজার থেকে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন তিনি। পথে জহিরের খামার এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে সাগর ও রিফাত দুজনই গুরুতর আহত হন।

চরএলাহী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন তোতা জানান, সাগরের বাবা-মা উভয়েই সৌদি আরব প্রবাসী। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করা হলে সাগরের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পথে তার মৃত্যু হয়। আহত রিফাত বর্তমানে নোয়াখালী মাইজদীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাগরের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, ঘটনাটি নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারের দলীয় সংসদ সদস্যদের সংসদীয় সভা শুরু হয়েছে।

আজ শনিবার বিকেল বেলা জাতীয় সংসদ ভবনে এ সভা শুরু করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এই তথ্য জানান।

সংসদীয় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি, ইঁদুরের উপদ্রবে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি, ইঁদুরের উপদ্রবে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের আলোতেও ইঁদুরের স্বাভাবিক বিচরণ এখন নগরবাসীর জন্য নতুন এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাবারের সন্ধানে খোলা জায়গায় ঘোরাফেরা করা এসব প্রাণী শুধুমাত্র বিরক্তিই তৈরি করছে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুর বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণুর বাহক হিসেবে কাজ করে। তাদের মলমূত্র বা শরীরের সংস্পর্শে খাদ্য ও পানি দূষিত হলে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ঝুঁকি আরও বেশি বলেও সতর্ক করছেন তারা। অন্যদিকে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ঢাকায় ইঁদুরের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হলো দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ। নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়া, খোলা স্থানে আবর্জনা ফেলে রাখা এবং পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের অভাব পরিস্থিতিকে ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নগর স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম মৌলিক শর্ত হলেও স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও দেশে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এর ফলে রাজধানীতে ইঁদুরের পাশাপাশি মশা ও অন্যান্য রোগবাহক প্রাণীর উপদ্রবও ক্রমাগত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত অবস্থায় গত মে মাসে হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ইঁদুরবাহিত এ ভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা তার পরও সতর্ক করে বলছেন, হান্টা ভাইরাস ছাড়াও ইঁদুর থেকে অন্তত ৬০ ধরনের রোগ বিভিন্নভাবে মানুষের দেহে ছড়াতে পারে, যার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে নগর এলাকায় বসবাসরতদের ক্ষেত্রে।

প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুর অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম ও বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রাণী। মানুষের বসতবাড়ির আশপাশের পরিবেশেই মূলত এর বাস। সাধারণত গর্ত, ড্রেন, নর্দমা, আবর্জনার স্তূপ, গুদামঘর, রান্নাঘরের ফাঁকফোকর কিংবা দেয়ালের ফাটলের মতো অন্ধকার ও নির্জন স্থান ইঁদুরের বসবাসের জন্য উপযোগী।

ইঁদুরের প্রধান দুটি প্রজাতি হলো বড় আকারের ব্রাউন র‍্যাট ও গৃহস্থালি বা ছাদের ইঁদুর। তবে বিভিন্ন পরিবেশে আরো নানা প্রজাতির ইঁদুর দেখা যায়। সর্বভুক প্রাণী হওয়ায় এরা শস্যদানা, চাল, গম, ফলমূল, সবজি, খাদ্যবর্জ্য এমনকি পচা জৈব পদার্থও খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। খাদ্য সংকটে কাগজসহ অন্যান্য নরম বস্তু কুটে খাওয়ার ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়। ফলে অপরিচ্ছন্ন ও বর্জ্যপূর্ণ পরিবেশে ইঁদুর দ্রুত বংশবিস্তার করে।

একসময় গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের জন্য ইঁদুর ছিল বড় দুশ্চিন্তার কারণ। খেতের ধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন শস্য রক্ষায় এর উপদ্রব ছিল দীর্ঘদিনের এক বড় চ্যালেঞ্জ। ফসল রক্ষায় তাই এসব প্রাণীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বাড়তি শ্রম দিতে হতো, পাশাপাশি বহন করতে হতো অতিরিক্ত ব্যয়ও। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে গ্রামাঞ্চলে ইঁদুরের উপদ্রব আগের তুলনায় কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বিপরীতে শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে রাজধানীতে, ইঁদুরের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। ঢাকার কাঁচাবাজার, আবর্জনার স্তূপ এবং আধুনিক আবাসিক ভবনেও এখন ইঁদুরের বিচরণ চোখে পড়ার মতো।

প্রাণী গবেষকদের মতে, নগরজীবনের অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও খাদ্যবর্জ্যের সহজলভ্যতা শহরে ইঁদুরের আধিপত্য বৃদ্ধি বা বংশবিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকসহ নানা বর্জ্যে ভরাট হয়ে যাওয়া ড্রেন, নালা-নর্দমা ও খালগুলো পরিণত হয়েছে প্রাণীটির নিরাপদ আশ্রয়স্থলে। এছাড়া দ্রুত নগরায়ণের ফলে জলাভূমি ও খোলা জায়গা কমে যাওয়ায় ইঁদুর তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ছেড়ে শহরমুখী হয়েছে বলেও মনে করেন প্রাণী গবেষকরা। পাশাপাশি নগরজুড়ে চলমান নির্মাণকাজ এবং উচ্চ জনঘনত্বও এ সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল নাসের বলেন, ‘ইঁদুর বেড়েছে এটা নিশ্চিত। রাজধানীর যেকোনো কাঁচাবাজার এলাকায় গেলেই দিনদুপুরে বড় বড় ইঁদুর দেখা যায়। হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারে গেলে তো প্রচুর দেখা মেলে।’

রাজধানীতে ইঁদুর বাড়ার পেছনে বর্জ্যই মূল কারণ জানিয়ে ড. নিয়ামুল নাসের বলেন, ‘যেকোনো প্রাণী বা কীটপতঙ্গের সংখ্যা বাড়ার একটি মৌলিক সূত্র রয়েছে—খাবারের প্রাপ্যতা যত বাড়ে, সেই প্রাণীর সংখ্যাও তত বাড়ে। রাজধানীতে ইঁদুরের অস্বাভাবিক বাড়ার পেছনেও কাজ করছে একই কারণ। নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার, রাস্তার পাশে ও আবাসিক এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, অব্যবস্থাপিত বর্জ্য এবং পড়ে থাকা শস্যবর্জ্য ইঁদুরের জন্য সহজলভ্য খাদ্য সরবরাহ করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রাণীটির দ্রুত বংশবিস্তার হচ্ছে। শুধু বাজার বা খোলা স্থানেই নয়, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ঢাকার বাসাবাড়িতেও ইঁদুরের উপস্থিতি বেড়েছে।’

সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এভাবে ইঁদুর বাড়তে থাকলে একসময় নগরীতে সাপের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। কারণ সাপের খাবার হলো ইঁদুর। তাই পরিচ্ছন্ন নগরী নিশ্চিত করতে না পারলে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি জীবননাশী অন্যান্য পোকামাকড় ও প্রাণীও রাজধানীতে বাড়তে থাকবে।’

ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুর বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর বাহক। তাদের মল, মূত্র ও শরীরের সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে নানা রোগে। সেই সঙ্গে খাদ্যদ্রব্য দূষিত হওয়া, পানির উৎস দূষণ এবং ঘরের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়া-সব মিলিয়ে এ ঝুঁকি বহুমাত্রিক। নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকলে ইঁদুরের পাশাপাশি মশা, মাছি ও অন্যান্য রোগবাহী প্রাণীর সংখ্যা বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

ইঁদুরের বর্ধিত উপস্থিতির সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও সরাসরি জড়িত- এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইঁদুর থেকে হান্টা ভাইরাস ও লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো জীবননাশী রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে বাতজ্বর ও টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগ-জীবাণু বিস্তারে প্রাণীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, ‘ইঁদুরের মাধ্যমে সাধারণত হান্টা ভাইরাস ছড়ায় এবং বাংলাদেশেও এ ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে। তবে এর ভ্যারিয়েন্টটি তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী। তা সত্ত্বেও ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। ইঁদুর শুধু ভাইরাসই নয়, বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াও ছড়ায়। এর শরীর, লোম, মলমূত্র থেকে এসব জীবাণু সরাসরি বা বাতাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে, এমনকি খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।’ উদাহরণ স্বরূপ তিনি বলেন, ‘ইঁদুর সরাসরি টাইফয়েডের জীবাণু বহন না করলেও যদি কোনো খাদ্য বা বাসনপত্রের ওপর দিয়ে হাঁটে, তখন তার শরীরে থাকা জীবাণুটি সেসবের সঙ্গে লেগে যেতে পারে। এর ফলে মানুষ পরোক্ষভাবে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।’

ইঁদুরের পাশাপাশি ‘চিকা’ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাসান সিদ্দিকী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই ইঁদুর ও চিকার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। অথচ চিকার কামড়ে জলাতঙ্ক (র‍্যাবিস) হতে পারে, যা চিকিৎসা না নিলে প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমার মতে, হান্টা ভাইরাসের চেয়েও চিকার মাধ্যমে ছড়ানো র‍্যাবিস ভাইরাস বেশি ভয়ংকর।’

রাজধানীতে ইঁদুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া মানেই জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া- এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইঁদুর সরাসরি সব সময় রোগ ছড়ায় না, তবে এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে ইঁদুর থেকে সরাসরি রোগ সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলক কম। কিন্তু ইঁদুর সাধারণত পচা-গলা বর্জ্যের মধ্যে বসবাস করে। সেখান থেকে তারা পানিতে যায়, খাদ্যদ্রব্য বা বাসনপত্রে বসে। তখন ওই বর্জ্যে থাকা বিভিন্ন জীবাণু ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই রাজধানীতে প্রাণীটি বেড়ে যাওয়া মানে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।’

রাজধানীতে শুধু ইঁদুরই নয়, বর্জ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য কীটপতঙ্গ, বিশেষ করে মশা ও মাছির বিস্তারও বাড়ছে; যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। অথচ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে বেশ পিছিয়ে বলে জানান পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদা পারভীন বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো উৎস থেকেই বর্জ্য আলাদা করা। এরপর তা বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে তা সম্পদে রূপান্তর করা। পৃথিবীর অনেক দেশেই এখন বর্জ্য বলে কিছু নেই, সবই সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ঢাকায় মাছের আঁশ, শাকসবজির বর্জ্য, পুরনো কাপড়, এমনকি ওষুধের বোতল- সব একসঙ্গে সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ সমস্যার শুরুতেই গোড়া থেকে।

দ্রুত কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে ইঁদুর ও মশা-মাছির মতো রোগবাহক প্রাণীর বিস্তার আরো বাড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নগরবাসীর জন্য যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, আধুনিক ডাস্টবিন স্থাপন এবং সচেতনতা কার্যক্রম চলানোর কথাও জানান তারা। তবে নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘উৎস থেকে বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ করাই সঠিক পদ্ধতি, কিন্তু আমরা এক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে আছি। তবে নগরবাসীর সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথককরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে, যা ধীরে ধীরে পুরো নগরীতে সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে গুপ্তচরবৃত্তি ও পাল্টা গুপ্তচর কার্যক্রমের ঝুঁকির মূল্যায়ন সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ তাদের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান এবং আক্রমণাত্মক গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্পর্কে উদ্বেগের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দু'জন বর্তমান এবং একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি-ডিআইএ) সম্প্রতি ইসরায়েলের জন্য হুমকির মাত্রা ‘ক্রিটিক্যাল’ অর্থাৎ সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।

কর্মকর্তাদের মতে, ডিআইএ’র এই নতুন মূল্যায়নের পেছনে প্রধান কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ইসরায়েলের বিশেষ আগ্রহ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারির চেষ্টা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বেড়ে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ডিআইএ’র মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাত পৃষ্ঠার একটি নথিতে এমন কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে যা মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ঘটনাগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

এমন সময়ে এই মূল্যায়ন সামনে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ইরান যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান নিয়ে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি দুই নেতার মধ্যে একটি উত্তেজনাপূর্ণ টেলিফোন আলাপও হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করবে না কি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পথ বেছে নেবে, সে বিষয়ে ইসরায়েল অত্যন্ত আগ্রহী। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস এনবিসি নিউজের এ প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কোনও ধরনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বা নজরদারি চালায়- এরকম দাবি সত্য নয়।

অন্যদিকে, পেন্টাগন এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তাও সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমিলি হার্ডিং বলেন, “ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও সক্রিয়। তারা সবসময় জানতে চায় আমরা কী করছি।”

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এনবিসি নিউজের এই প্রতিবেদন নতুন করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%