প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে গুপ্তচরবৃত্তি ও পাল্টা গুপ্তচর কার্যক্রমের ঝুঁকির মূল্যায়ন সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ তাদের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান এবং আক্রমণাত্মক গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্পর্কে উদ্বেগের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দু'জন বর্তমান এবং একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি-ডিআইএ) সম্প্রতি ইসরায়েলের জন্য হুমকির মাত্রা ‘ক্রিটিক্যাল’ অর্থাৎ সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
কর্মকর্তাদের মতে, ডিআইএ’র এই নতুন মূল্যায়নের পেছনে প্রধান কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ইসরায়েলের বিশেষ আগ্রহ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারির চেষ্টা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বেড়ে গেছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ডিআইএ’র মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাত পৃষ্ঠার একটি নথিতে এমন কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে যা মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ঘটনাগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এমন সময়ে এই মূল্যায়ন সামনে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ইরান যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান নিয়ে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি দুই নেতার মধ্যে একটি উত্তেজনাপূর্ণ টেলিফোন আলাপও হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করবে না কি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পথ বেছে নেবে, সে বিষয়ে ইসরায়েল অত্যন্ত আগ্রহী। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস এনবিসি নিউজের এ প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কোনও ধরনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বা নজরদারি চালায়- এরকম দাবি সত্য নয়।
অন্যদিকে, পেন্টাগন এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তাও সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমিলি হার্ডিং বলেন, “ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও সক্রিয়। তারা সবসময় জানতে চায় আমরা কী করছি।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এনবিসি নিউজের এই প্রতিবেদন নতুন করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন