ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রতিষ্ঠার ১৫৯ বছর পেরিয়েও জাতীয়করণ হয়নি বিদ্যালয়ের


প্রতিষ্ঠার ১৫৯ বছর পেরিয়েও জাতীয়করণ হয়নি বিদ্যালয়ের

নাটোরের লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ১৫৯ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। এর পরেও জাতীয়করণের বের শর্তে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ঐতিহ্য, ধারাবাহিক সাফল্য এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয়করণ না হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকায় ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের মতে, ‘এটি এখন লালপুরবাসীর প্রাণের দাবি’ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৮৬৭ সালে পুঠিয়ার মহারাণী শরৎ সুন্দরী দেবী ‘শরৎ সুন্দরী মধ্য ইংরেজি স্কুল’ নামে লালপুরে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ১৯৩৫ সালে এটি ‘চন্দ্রনাথ মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়’ এবং সবশেষ ১৯৪১ সালে ‘শ্রী সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: ‘মায়ের কোলে শিশুরা যেমন নিরাপদ, তেমনি এ সরকারের আমলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ’ প্রতিমন্ত্রী আহাম্মেদ সোহেল মঞ্জুর এমপি

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ম্যাট্রিকুলেশন স্বীকৃতি লাভের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করে।

১৯৩১ সালের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ১৯৩৪ সালে বিদ্যালয়টি তিন বছর বন্ধ হয়ে যায়। তবে স্থানীয় জমিদার ও শিক্ষানুরাগীদের চেষ্টায় ১৯৩৬ সালে পুনরায় পাঠদান শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে মূল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রা আরো শক্তিশালী হয়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে পাইলট স্কিমভুক্ত হয়ে ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রপতির অনুদান লাভ করে বিদ্যালয়টি। ১৯৯৬ সালে এসএসসি (ভোকেশনাল), ২০০১ সালে এইচএসসি (বিএম) এবং ২০১২ সালে মডেল প্রকল্পভুক্ত হলে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটে।

শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া ক্ষেত্রেও বিদ্যালয়টির উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিক ভালো ফল, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, স্কাউট ও বিএনসিসি কার্যক্রমে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে পর্যটন নগরী করতে চান ডেপুটি স্পিকার

মহান মুক্তিযুদ্ধেও এ প্রতিষ্ঠানের ৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন, যাদের মধ্যে অনেকেই শহীদ হন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে জাতীয়করণের জন্য সরকারি নীতিমালার সব মানদণ্ড পূরণ করা হয় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া যায়। কিন্তু পরে বাস্তবায়ন হয়নি। বরং নাম পরিবর্তন করে তুলনামূলক কম যোগ্য একটি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান বলেছেন, ‘বিদ্যালয়টি সবদিক থেকে জাতীয়করণ হওয়ার উপযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।’

সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার জুথি বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সাফল্যের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয়করণ হওয়া উচিত, এতে শিক্ষার মান আরো উন্নত হবে।’

আরও পড়ুন: সিলেটের কানাইঘাটে যুবক শাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

সাবেক শিক্ষার্থী এবং ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. অমল কুমার চৌধুরী মন্তব্য করেন, ‘এত পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বাইরে থাকা সত্যিই দুঃখজনক।’

অন্য এক সাবেক শিক্ষার্থী, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই স্কুলের ছাত্র ছিলাম। এখন আমার সন্তানও এখানে পড়ে। এত পুরনো একটি প্রতিষ্ঠান এখনো জাতীয়করণ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।’

প্রধান শিক্ষক খাজা শামীম মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে এক হাজার ২৯৩। শিক্ষক ও কর্মচারীদের সংখ্যা ৪৫। প্রধান শিক্ষক আরো জানান, প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের জন্য পুনরায় আবেদন করা হয়েছে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু জানান, ‘জাতীয়করণের জন্য তালিকায় নাম আসার পরও রাজনৈতিক কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের দাবি জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন: দেয়ালজুড়ে আলপনার মেলবন্ধন, দুর্গাপূজার উৎসবে মেতেছে কোল জনগোষ্ঠী

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ মন্তব্য করেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। তবে জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার চাইলে জাতীয়করণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।’

৫৮ নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এর গৌরবময় ইতিহাস ও অবদান বিবেচনায় জাতীয়করণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেবীদ্বারে চলাচলের পথ বন্ধ, অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ৪০ পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


দেবীদ্বারে চলাচলের পথ বন্ধ, অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ৪০ পরিবার

দেবীদ্বারে রাস্তা বন্ধ করে টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। করে দেওয়ায় ৪০ টি পরিবার বন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের পৈরাংকুল গ্রামের দক্ষিণপাড়া ফকির বাড়ি ও শেখ বাড়ির মধ্যে পারিবারিক বিরোধের কারণে।

স্থানীয়রা জানান, পৈরাংকুল গ্রামের দক্ষিণপাড়া ফকির বাড়ি থেকে শেখবাড়ি হয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পর্যন্ত খাল ভরাট করে প্রায় ২৫/৩০ ফুট প্রশস্ত এবং দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫ শত ফুট রাস্তার এক পাসে বাঁশ, ঝাটা, কাঁটা, ইটের বেড়া দিয়ে ও অপর পাশে আবাসন নির্মাণ করে জোরপূর্বক চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শেখ বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এই কারণে শেখ বাড়ির লোকজন পার্শ্ববর্তী ফকির বাড়ির প্রায় ৪০ পরিবারের লোকজন চলাচল ও মসজিদে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি বন্ধ করে দেওয়ায় ফকির বাড়ির লোকজন অবরুদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করার অভিযোগ করেছেন।

ওই ঘটনায় ফকির বাড়ির লোকজন সড়ক অবমুক্ত করার জন্য সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন। তাঁর আগে ইউনিয়ন তহশীল অফিসে এবং ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরের আবেদনের পরেও কোনো প্রতিকার পাননি তারা।

এলাকার একজন সালিসদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘তাদের রাস্তার বিরোধ নিষ্পত্তিতে একাধিকবার সামাজিক সালিস ডাকা হলেও শেখ বাড়ির লোকজন সালিসের উপস্থিত হননি। তাই আমরা রাস্তার সমাধান করতে পারিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর ধরে এ এলাকার লোকজন এখানে বসতি স্থাপন করে বসবাস করে আসছেন।

বিতর্কী সড়কের জায়গাটিতে একটি খাল ছিল, যা প্রায় শত বছর আগে থেকেই নৌকা দিয়ে যাতায়াত করত। খালের দু’পার দিয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করত। প্রায় ২০/২২ বছর পূর্বে এ খালটি ভরাট করে স্থানীয় কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং কুমিল্লা-সিলেট অঞ্চলিক মহাসড়কের সংযোগ সড়ক কালিকাপুর-বড়শালঘর সড়কের সাথে সংযুক্ত হয়। এই সড়কে ফকির বাড়ি ও শেখ বাড়িসহ অন্যান্য এলাকার লোকজন এ সড়কে মসজিদ ও সংযোগ সড়কে যাতায়াত করত।

শেখ বাড়ির সায়েদ আলী শেখ, বাদশা মিয়া, শেখ মো. সাইফুল ইসলাম এবং কয়েকজন নারী অভিযোগ করে বলেন, আমরা এ জমি সরকার থেকে লিজ নিয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে খাল ভরাট করতে মালিক হয়েছি।

বাড়ির উপর দিয়ে যাতায়ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং রিক্সা, ভ্যান, গাড়ি চলাচলে রাস্তা নষ্ট করে, নারীদের পর্দার সমস্যা সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, নিজেদের লিজের জায়গায় ঘর উঠাতে গেলে তারা ঘরের পালা উপড়ে ফেলে দেয়। আমাদের নানাভাবে অত্যাচারে তারা অতিষ্ঠ। তাই আমরা তাদের ভিন্ন সড়কে যাতায়াত করতে অনুরোধ করেছি।

ফকির বাড়ির ইমাম উদ্দিন ফকির ও প্রবাসী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, গত তিন বছর আগে ধর্ম মন্ত্রনালয়ে কর্মরত মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী নামে এক কর্মকর্তার সহযোগিতায় ‘মসজিদ থেকে ফকির বাড়ি পর্যন্ত’ প্রায় ৫ শত ফুট রাস্তা ইটের সলিং তৈরির বরাদ্দ আনেন। শেখ বাড়ির লোকজন সরকারি জায়গা ইজারা আনার দাবি করে তাদের মালিকানাধীন জায়গা দিয়ে সড়ক সংস্কার এবং ওই রাস্তা দিয়ে মসজিদসহ অন্যান্য জায়গায় যাতায়াতের সুযোগ করে দেন। প্রায় দু’বছর আগে দুটি পরিবারের ঝগড়ার কারণে ব্যক্তিমালিকানা জায়গায় তৈরি রাস্তাটিও নিজেদের জায়গা দাবি করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে আমরা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি এবং জরুরি প্রয়োজনে লাশ আনা নেওয়ার জন্য অনেক দূরের রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সহকারী (অবসরপ্রাপ্ত) শেখ মোহাম্মদ সেলিম জানান, ‘প্রায় দুইশত বছর আগে আমার বাপ-দাদারা এখানে বাড়ি করেছেন। প্রতিটি বাড়ির পাশে খাসজমি বিদ্যমান। আমাদের বাড়ির মাঝখান দিয়ে একটি খাল ভরাট করে বাড়ির সাথে যুক্ত করেছি। আইনসিদ্ধ করতে লিজের জন্য আবেদন করেছি। প্রতিবেশীরা বাড়ির উপর দিয়ে যাতায়াত করলে নারীদের পর্দার নিরাপত্তা থাকে না। তাই রাস্তা বন্ধ করেছি। এ ছাড়া মসজিদে যাতায়াতের জন্য বাড়ির পশ্চিম পাশে তাদের নিজস্ব জায়গা দিয়ে রাস্তা বানিয়ে চলাচল করতে পারে।

এ ব্যাপারে দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন জানান, অভিযোগের তদন্ত হবে। তদন্তের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তরুণ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ২৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার বরাদ্দ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


তরুণ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ২৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার বরাদ্দ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, তরুণ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সহায়তার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থ-বছরে ২৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দেশে বিজ্ঞানচর্চা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে নতুন নতুন গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নয়ন কাজে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক, গবেষক, তরুণ বিজ্ঞানীরা এবং বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থার গবেষক তরুণ বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মসূচির আওতায় বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

আজ সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য এম, এ, হান্নানের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী আরও জানান, দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন গবেষণায় উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে তাহাদের উদ্ভাবিত প্রকল্পের উন্নয়ন কল্পে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমএস, এমফিল, পিএইচডি এবং পোস্টডক্টোরাল পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রী বা গবেষককে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ প্রদান করা হয়ে থাকে।

২০২৫-২৬ অর্থ-বছরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ কর্মসূচি খাত থেকে ৪,২৮২ জন গবেষককে ২৫ কোটি ৪৫ লাখ ২৭ হাজার ২০০ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণাকে অব্যাহতভাবে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ-বছরে গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ৩৫৮ জন বিজ্ঞানী বা গবেষককে ৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাতারের সাবেক আমিরকে শ্রদ্ধা, সংসদে শোক প্রস্তাব; বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ পি.এম


কাতারের সাবেক আমিরকে শ্রদ্ধা, সংসদে শোক প্রস্তাব; বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্মরণে আগামীকাল বুধবার দেশব্যাপী অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি শোক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। সংসদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শোক প্রস্তাবটি কাতার সরকার এবং ঢাকাস্থ কাতার দূতাবাসে পাঠানো হবে। শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে একটি বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য শামীম কায়সার মোনাজাত পরিচালনা করেন। উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে মারা যান কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি। ১৯৯৫ সালে ক্ষমতায় এসে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেন তিনি। তার নেতৃত্বে জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশটি ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ কারণে তাকে আধুনিক কাতারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শেখ হামাদ বর্তমান কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির বাবা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বতঃস্ফূর্ত নয়: নাহিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ পি.এম


আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বতঃস্ফূর্ত নয়: নাহিদ

সংবিধান সংশোধন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত জুলাই নারী সমাবেশে তিনি এই অভিযোগ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার এলে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নতি হবে ভেবেছিল সবাই। কিন্তু অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অনেক কাজে ব্যস্ত এবং সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত। তবে আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে তার কোনো তৎপরতা নেই।’

তিনি বলেন, ‘চব্বিশের ১৪ জুলাই ঐতিহাসিক দিন। তখন ঐ দিন যেই রাষ্ট্রপতির কাছে স্বারকলিপি দিয়েছিলাম, সেই রাষ্ট্রপতি এখনো বহাল আছেন। ১৪ জুলাই নারীদের অবদানের কারণে ১৫ জুলাই নারীদের ওপর টার্গেট করা হয়েছিল। নারীদের ওপর হামলার দৃশ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।’

বিরোধীদলীয় হুইপ আরও বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ এবং অবদানের কথা আমরা সবসময় বলি। নারী কোটার বিরুদ্ধে গিয়ে যৌক্তিক কোটা সংস্কারের দাবিতে নারী পুরুষ সবাই রাস্তায় নেমেছিল। নারীরা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করায় তাদের ওপর নানাভাবে টার্গেট করা হয়। তবে আন্দোলন পরবর্তী সময়ে নারীদের আমরা সেই স্পেসটা করে দিতে পারিনি। তবে নারীরা আমাদের সঙ্গে রয়েছে। নারীর শক্তির প্রতি আমাদের প্রত্যাশা থাকবে। নারীদের রাজনৈতিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রান্তিক নারীদের খোঁজখবর রাখতে না পারার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নারী শক্তির প্রতি আহ্বান থাকবে এবং নারীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।’

জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘এ সরকার এসে আইসিটি ট্রাইব্যুনাল সরিয়ে দিয়েছে, কেন দিয়েছে জানি না। ইনুর ১০ বছরের সাজা দিয়েছে, সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

নারী সমাবেশে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আকতার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। শেখ হাসিনা একজন নারী নয়, তিনি ফ্যাসিস্ট, হত্যাকারী, খুনি। হাসিনা চলে গেলেও তার ফ্যাসিবাদী কাঠামো রয়ে গেছে। রাষ্ট্রকে বিনির্মাণ করার সুযোগ হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের প্রেরণা যেন আমরা ভুলে না যাই। নারীদের সামনে আনার মতো কাজ আমাদের করতে হবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোতে নারীরা এখনও পিছিয়ে রয়েছেন, তাদের সামনে এগিয়ে আনতে হবে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো আমাদের অধিকার হরণ করতে চায়। দিল্লির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%