ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

তারান্নুম আফরীনের নতুন গান 'মনচোর বৈরাগী' প্রকাশ


তারান্নুম আফরীনের নতুন গান

কিছু গান হৃদয়ের গভীরে স্থান করে নেয়, কিছু সুর মনে করিয়ে দেয় ভালোবাসা, আবেগ এবং জীবনের অপ্রকাশিত অনুভূতির কথা। শ্রোতাদের জন্য ঠিক তেমনই এক মায়াবী অনুভূতির সাগরে ভাসানোর উদ্দেশ্যে নতুন গান নিয়ে এসেছেন কণ্ঠশিল্পী তারান্নুম আফরীন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার নতুন গান ‘মনচোরা বৈরাগী’।

নতুন গানটিতে তারান্নুমের সঙ্গে দ্বৈতভাবে গেয়েছেন মম মজিদ। গানটির কথা ও চমৎকার সুর তৈরি করেছেন রনক রায়হান। আধুনিক এবং লোক-আঙ্গিকের এক অপূর্ব মিশ্রণে গানটির সংগীত আয়োজন করেছেন এস ডি সাগর।

গানটিতে বাঁশির সুরে মায়াজাল বুনেছেন মামুন এবং ম্যান্ডোলিনের সুরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন রাজিব ঘোষ। পুরো গানটির মিক্স ও মাস্টারিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন মাহবুব মিনেল, যা গানটির শ্রুতিমধুরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো সিনেমায় অভিনয় করলেন রিচি সোলায়মান

নতুন গান নিয়ে তারান্নুম আফরীন বলেন,

বিজ্ঞানী হিসেবে, কোলাবোরেশান আমার জন্য একটি বিশেষ স্থান। পেশাগত জীবনে বিভিন্ন দেশের গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একটি বিষয় আমি ভালোভাবে শিখেছি, ভালো কাজের জন্য শুধু মেধা নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভালোবাসা আমি আমার সংগীতের জগতে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও বলেন,

আমাদের নতুন মিউজিক ভিডিও ‘মনচোরা বৈরাগী’ একটি ভালোবাসার কোলাবরেশন। মম মজিদের মতো একজন অসাধারণ গুণী শিল্পী এবং তার চেয়েও বড় কথা, এত সুন্দর মনের একজন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি এবং আমার পুরো টিম সত্যিই আনন্দিত। এই কাজটি আমাদের কাছে শুধুমাত্র একটি গান বা মিউজিক ভিডিও নয়, এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শিল্পের প্রতি ভালোবাসা এবং সুন্দর কিছু মানুষের একসঙ্গে পথচলার গল্প।

আরও পড়ুন: ৫৬তম জন্মদিনে ফিরে দেখা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের জীবন

গবেষণাগারে হোক কিংবা সংগীতের স্টুডিওতে, গায়িকা বিশ্বাস করেন প্রতিভা একা অনেক দূর যেতে পারে কিন্তু সুন্দর কোলাবরেশন একটি কাজকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। তাই নিজের নতুন গান-ভিডিও সবার ভালো লাগবে বলে আশা প্রকাশ করেন শিল্পী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

করাচির কাছে পর্যটকের ছদ্মবেশে জঙ্গি প্রশিক্ষণ চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


করাচির কাছে পর্যটকের ছদ্মবেশে জঙ্গি প্রশিক্ষণ চলছে

পাকিস্তানের করাচির নিকটবর্তী একটি দ্বীপে পর্যটকের ছদ্মবেশে সামুদ্রিক অভিযানের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) সদস্যরা। তাদেরকে স্কুবা ডাইভিং, যুদ্ধকালীন সাঁতার এবং পানির নিচে বিভিন্ন অভিযানের কৌশল শেখানো হচ্ছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির কাছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র এই তথ্য প্রদান করেছে। সূত্রগুলোর দাবি, করাচি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চারনা দ্বীপে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। দ্বীপটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ডাইভিংয়ের জন্য জনপ্রিয় হওয়ায়, সেখানে প্রশিক্ষণরত জঙ্গিদের পর্যটক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো লস্করের এই সামুদ্রিক শাখাকে ‘দাওয়াহ মেরিন উইং’ অথবা ‘সাদা-ই-হুররিয়ত’ নামে চিহ্নিত করেছে। প্রশিক্ষকদের মধ্যে পাকিস্তানভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন মার্কাজি মুসলিম লীগের (পিএমএমএল) সদস্যরাও রয়েছেন। এই সংগঠনটিকে লস্করের একটি ছদ্মবেশী সহযোগী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পূর্বে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মংলা বাঁধ এবং লস্করের বিভিন্ন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তৈরি সুইমিংপুলে লস্করের সদস্যদের সামুদ্রিক অভিযানের প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে। ভারতের সাম্প্রতিক বছরগুলোর কিছু সামরিক অভিযানে এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কিছু স্থাপনা নির্ভুল বোমা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস করা হয়েছে।

সূত্রগুলোর মতে, ২০০৮ সাল থেকে লস্করের একটি ছোট সামুদ্রিক ইউনিট সক্রিয় রয়েছে। তবে বর্তমানে তারা সমুদ্রপথে বড় আকারে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনে কাজ করছে। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো লস্করের সদস্যরাও সমুদ্রপথে শহরটিতে প্রবেশ করেছিল।

ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই বিষয়ে অবগত রয়েছে এবং সমুদ্রপথে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় কাজ করছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুরে’ পাকিস্তানের মুরিদকে এলাকায় লস্করের সদর দপ্তরসহ নয়টি বড় জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) কাছের কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটিতেও হামলা পরিচালনা করা হয়।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তরুণদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করা ও জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে লস্করের একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মীরের ছয়টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (সিআইকে)।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বুদগাম, শ্রীনগর, বিজবেহারা ও অনন্তনাগের মাত্তান এবং পুলওয়ামার একটি গ্রামে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তল্লাশির সময় সন্দেহজনক নথিপত্র ও ডিজিটাল ডিভাইসসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশির মৃত্যুতে জামায়াতের শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশির মৃত্যুতে জামায়াতের শোক

সৌদি আরবের মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ সাত বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই শোক প্রকাশ করেন।

শোকবার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ সদস্যসহ সাত বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। তিনি বলেন, "এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে তাদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করার দোয়া করছি।"

তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, "হে মহান রব! তাদের প্রিয়জন হারানোর এই অসহনীয় শোক ও বেদনা সহ্য করার তাওফিক দান করুন।" একই সঙ্গে তিনি নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

গোলাম পরওয়ার দোয়া করে বলেন, মহান আল্লাহ নিহতদের পরিবার-পরিজনকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন এবং এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৪ পি.এম


বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা

বরিশাল জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে।

এ বিষয়ে শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ২টায় বরিশাল নগরীর চাঁদমারীস্থ এমসি অডিটোরিয়ামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রার্থী ঘোষণা অনুষ্ঠান’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব শাহ ইফতেখার তারিক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জামিলুর রহমান।

বক্তারা অনুষ্ঠানে বলেন, সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্ব ছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে জনকল্যাণমুখী, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ইসলামী মূল্যবোধ ও জনকল্যাণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ঘোষিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, উপজেলা ও পৌরসভা শাখার দায়িত্বশীল এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা-ভাঙচুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৪ পি.এম


খুলনায় নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা-ভাঙচুর

‘নুর আজিমকে চেনেন?’ মাসখানেক পূর্বে নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তির কাছে ফোন করে জানতে চাওয়া হয়েছিল। উত্তরে না বলায় ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘তাহলে এসে চিনিয়ে দেবানি।’ সেই হুমকির এক মাস পর আজ শনিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ৮-৯ জন যুবক চায়নিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালায়।

এই হামলার সময় তারা রিসেপশন কাউন্টার, এসি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এক নারীর রিসেপশনে থাকা মোবাইল ফোনও তারা ছিনিয়ে নেয়।

নগরীর খানজাহান আলী রোডে সুলতানা হামিদ আলী স্কুলের বিপরীতে অবস্থিত নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি খুলনা নগরীতে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক যেন কাটছেই না। একের পর এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাতে নগরীর ব্যস্ততম বাবুখান রোড এলাকার সন্ধানী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ৮ থেকে ১০ জনের একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রবেশ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, হামলাকারীরা ক্লিনিকে ঢুকেই অতর্কিত ভাঙচুর শুরু করে। তারা চেম্বারের সামনের গ্লাস, বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং রিসেপশন কাউন্টারের থাই গ্লাস ও কাঁচের জিনিসপত্র চুরমার করে ফেলে। এ সময় প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে অনেকে ছোটাছুটি শুরু করেন।

হামলাকারীরা ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্টাফদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় রিপোর্ট প্রদানকারী কর্মী ইকবাল হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। হামলায় ক্লিনিকের অপর এক কর্মকর্তা সুরেশ রায়ও আহত হন। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় বাইরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করে এবং পায়ে হেঁটে বাবুখান রোডের দিকে পালিয়ে যায়।

তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ বলছে, তারা কোন অভিযোগ করবে না। তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ করলে আবারও হামলার আশংকাও তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও ওই প্রতিষ্ঠানে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মুঠোফোনে চাঁদা দাবি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে এ ধরনের হামলার প্রবণতা উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে। বিশেষ করে শামসুর রহমান রোড এবং বাবুখান রোড এলাকার বেশ কয়েকটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরপর এমন নাশকতা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর শামসুর রহমান রোডের রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। তারও আগে ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাবুখান রোডের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা হয়। একই প্রতিষ্ঠানের সোনাডাঙ্গা এলাকার মজিদ সরণিতে অবস্থিত সন্ধানী মেডিকেয়ার হাসপাতালেও ভাঙচুর চালানো হয়।

এসব ঘটনায় মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বরং কারো কারো কাছে জানতে চাইলে তারা ভয়ে-আতঙ্কে মুখতে নারাজ।

চাঁদাবাজির অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড মোড়ের ঐতিহ্যবাহী চয়নিকা ফার্মেসিও গত ২৯ অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের কেউ কেউ চেম্বার বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এদিকে, একের পর এক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে খুলনার স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং নগরীর স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরদিকে খুলনা মহানগরীতে অন্তত নয়টি বাহিনী বিভিন্ন নামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। যার একটি হলো ‘নুর আজিম’ এর নেতৃত্বাধীন নুর আজিম বাহিনী।

অভিযোগ রয়েছে, মাঝেমধ্যে এসব বাহিনীর সদস্যদের অস্ত্রসহ কিংবা অস্ত্র ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের অনেকে দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব এডভোকেট মো. বাবুল হোসেন বলেন, খুলনার বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার। এসব অপরাধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নগরবাসীও এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চান।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তিকে মাসখানেক আগে ফোন করে দুর্বৃত্তরা নুর আজিমকে চেনেন কি না, জানতে চেয়েছিল। এরপর শনিবার তারা প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, অভিযুক্তরা নুর আজিমের অনুসারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে রয়েছে, অভিযানও চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%