বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৭:০৬ পি.এম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে জলবায়ু পরিবর্তন, সবুজ শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের অধিকার, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিক্স সিজন হোটেলে ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিতকরণ : সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও শ্রমিকদের বাস্তবতা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এই আহ্বান করা হয়। সংলাপের আয়োজন করে কর্মজীবী নারী ও ক্রিশ্চিয়ান এইড-বাংলাদেশ। কর্মজীবী নারীর উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব উন্মে কুলসুম ফেরদৌসী। সংলাপে অংশ নেওয়া নারী শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলেন, ‘অটোমেশনের ফলে একদিকে কর্মসংস্থান কমছে, অন্যদিকে উৎপাদনের চাপ বাড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, ৩৫ বছর বয়স অতিক্রম করলেই অনেক কারখানায় ছাঁটাইয়ের শিকার হতে হয়। ’ ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়ায় কোনো নারী শ্রমিক যেন বাদ না পড়েন, সে দাবি জানান তারা। ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা বলেন, ‘শ্রমিকের অংশগ্রহণ ছাড়া ন্যায্য রূপান্তর সম্ভব নয়। এজন্য শ্রমিক কল্যাণ ও পুনর্বাসন তহবিল গঠন এবং ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা বলেন, এ ধরনের রূপান্তরে যৌথ উদ্যোগ ও ‘শেয়ারড রেসপনসিবিলিটি’ ভিত্তিক অর্থায়ন প্রয়োজন। ’ কারখানা ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধিরা জানান, কিছু খাতে অটোমেশন এলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে মানবশ্রমের প্রয়োজন রয়েছে। তবে কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের উদ্যোগ জরুরি। বিজিএমইএ প্রতিনিধি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনঃদক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভাপতি সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাস্ট ট্রানজিশন মানেই ন্যায়সংগত, ভারসাম্যপূর্ণ ও অংশীদারিমূলক রূপান্তর। এ প্রক্রিয়ায় শ্রমিকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নদী মাতৃক দেশ বাংলাদেশ। এই নদী নিয়ে ভাবনার আদান প্রদান বিষয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে একটি ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ভয়েস অব রিভার ভিউ মনুর আয়োজনে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার মনুনদীর তীর চাঁদনী ঘাট এলাকা এবং শিশুকানন কে জি অ্যান্ড হাইস্কুলে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এই সভায় স্কুলের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে দেশের নদী বিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
উপস্থিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশে এক হাজার ৪শো ১৫টি নদী রয়েছে, তবে পরিবেশ দূষণসহ নানা কারণে প্রায় ৫শো নদীর অস্তিত্ব বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া ২৪০টি নদী বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। পরিবেশ রক্ষার জন্য নদী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
পরে, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক খরস্রোতা মনুনদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এ নদী নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কথা বলেন ভয়েস অব রিভার ভিউ মনুর নির্বাহী প্রধান আ স ম সালেহ সোহেল, অধ্যাপক মো. সেলিম, শিশু কানন কেজি এন্ড হাইস্কুলের পরিচালক মুহিবুর রহমান, বাপার সাধারণ সম্পাদক শীবপ্রসন্ন ভট্টাচার্য, সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, এবং বাপা জেলা কমিটির সদস্য আজিজুর রহমান খান সালেহ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়াতে সিএনজিচালিত রিকশার সঙ্গে ইজি বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন চালকও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারীদের পাশাপাশি শিশুরাও রয়েছে। গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের কুমারপাড়া বাইপাস এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী ইজি বাইক আখাউড়া থেকে চিনাইরের দিকে যাওয়ার সময় কুমারপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি সিএনজিচালিত রিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে যুক্ত হয়ে যায়। এই ঘটনার ফলে দুই যানবাহনের নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তখন অটোরিকশার সামনের গ্লাসও ভেঙে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত যাত্রী কাজী সাইফ বলেন, "আমি আখাউড়া থেকে বাড়িতে যাচ্ছিলাম। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত রিকশা ধাক্কা দিলে আমি পায়ে আঘাত পাই। আমাদের চালকের মাথাতেও গুরুতর আঘাত লাগে।"
দুর্ঘটনার সময় আহতদের সবার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, তবে স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, তাদের মধ্যে নারী ও পুরুষ যাত্রী রয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে যে, আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও অসতর্ক চালনার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আনফা) সদস্যপদ স্থগিত করেছে ফিফা, ফুটবল পরিচালনায় সরকারি অথবা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অভিযোগের কারণে। ফিফা গতকাল বুধবার (২৪ জুন) ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সদস্য সংস্থাকে বাহ্যিক শক্তি কিংবা সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু আনফা এই শর্ত রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তাদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ফিফা আনফার সাধারণ সম্পাদক কিরণ রাইকে প্রেরিত একটি আনুষ্ঠানিক মেইলে জানিয়েছে, গঠনতন্ত্রের ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নেপালের জাতীয় ক্রীড়া কাউন্সিল গত ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝপথেই আনফার নির্বাচিত নেতৃত্বকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। যদিও মে মাসে ওই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তবুও জেলা পর্যায়ের নতুন নির্বাচন এবং গঠনতন্ত্র সংশোধনে সরকারি নির্দেশাবলী আগের মতোই বলবৎ ছিল। ফিফা এবং এএফসি একাধিক সময়সীমা নির্ধারণ করলেও ১১ জুনের ডেডলাইনের মধ্যে সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেনি নেপাল। এর ফলস্বরূপ ফিফা কাউন্সিল ব্যুরো এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে নেপালের পুরুষ, নারী এবং অনূর্ধ্ব দলগুলো কোনো অফিশিয়াল ম্যাচ বা প্রীতি ম্যাচ খেলার অনুমতি পাবে না। পাশাপাশি দেশের ক্লাবগুলোও এএফসি কাপ বা যেকোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এছাড়া, ফিফা ও এএফসির সব ধরনের উন্নয়ন অনুদান, তহবিল, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং কোচেস ও রেফারি কোর্সসমূহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নেপালের ফুটবলের ইতিহাসে আনফাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তহবিল তছরুপ ও অনিয়মের অভিযোগে আনফার আর্থিক নিয়ন্ত্রণ অথবা ফান্ড ফ্রিজ করেছিল ফিফা, কিন্তু তখন সদস্যপদ সচল ছিল। তবে ২০১৫ সালে আনফার সাবেক সভাপতি গণেশ থাপাকে দুর্নীতির জন্য ব্যক্তিগতভাবে নিষিদ্ধ করা হলেও অ্যাসোসিয়েশন তখনও সচল থাকতে পেরেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেক্সিকোর গোলকিপার ওচোয়া চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মেক্সিকোর ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচেই শেষবারের মতো মাঠে নামলেন। এই ম্যাচটি মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং ৭৭তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি।
বয়সে ৪০ বছর ৩৪৬ দিন হওয়ার কারণে বিশ্বের ইতিহাসে মেক্সিকোর সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে, ২০১৮ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর ১৩৯ দিন বয়সে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলে এই রেকর্ড গড়েছিলেন রাফা মার্কেস।
শুধু এই রেকর্ডই নয়, এর পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ছয়টি আসরে খেলা ফুটবলারদের বিরল তালিকাতেও নাম তুলেছেন ওচোয়া। এই তালিকায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অন্তর্ভুক্ত আছেন।
২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে বদলি গোলরক্ষক হিসেবে দলে উপস্থিত থাকলেও, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ আসরে মেক্সিকোর প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন তিনি। তার দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন ওচোয়া।
চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে মেক্সিকো মাতেও চাভেজ, জুলিয়ান কিনিওনেস এবং আলভারো ফিদালগোর গোলে ৩-০ জয় পায়। এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করে স্বাগতিকরা, যেহেতু বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই প্রথমবারের মতো জিতেছে।
বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ইচ্ছার কথা আগেই জানিয়েছিলেন ওচোয়া। তাই চেকিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার পর অনেকের মতে এটি তার পেশাদার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রেকর্ড, অর্জন এবং অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তে ভরা ক্যারিয়ারের ইতি টেনে, তাই বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকেই বিদায় নিলেন মেক্সিকোর অন্যতম সেরা গোলরক্ষক।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ