মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৮:২২ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী নগরীর সংঘবদ্ধ অটোরিকশা চুরি চক্রের অন্যতম মূলহোতা মোঃ নাজমুল হোসেন (২৯) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত পৌনে ১টার সময় নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন হড়গ্রাম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বুধবার দুপুরে র্যাব-৫, রাজশাহীর মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার নাজমুল নগরীর কাটাখালী থানায় দায়ের করা একটি অটোরিকশা চুরি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। মামলার নং-০৬, তারিখ: ১৪ এপ্রিল। জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল দীর্ঘ সময় ধরে সংঘবদ্ধ অটোরিকশা চোরচক্রের সদস্যদের সঙ্গে সহযোগিতা করে বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চুরি করার কথা স্বীকার করেছে। পরে তাকে কাটাখালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার সকালে গ্রেফতার নাজমুলকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আলোচিত এনসিপি নেতা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে।
অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণে বাধা দিলে কাফি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় এক সপ্তাহ আগে কাফি তার ক্রয়কৃত জমিতে প্রবেশের জন্য ওই রাস্তাটি নির্মাণ করেন। কাফি ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান করেন। কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীতা ঘোষণা করেন।
বিদ্যালয়ের তথ্যে সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ সালে রজপাড়া মৌজার খঞ্জন আলী হাওলাদারের কাছ থেকে ৩ একর ৩৩ শতাংশ, ১৯৫৯ সালে মোবারক আলীর কাছ থেকে ৩ একর ৩৩ শতাংশ, ১৯৬৭ সালে এডিএফসি ব্যাংকের নিলাম থেকে ২৯ একর ১৮ শতাংশ এবং এরপরে বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েকজন মালিকের কাছ থেকে ৪ একর ৮০ শতাংশ জমি ক্রয় করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসব জমি বছরের পর বছর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভোগ দখল করে আসছে। সর্বমোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমির মধ্যে রজপাড়া মৌজার জেএল নং-৯ এর বিএস ১২ নং খতিয়ানের ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা বঙ্গাব্দ ১৪৩২ সাল পর্যন্ত পরিশোধ করা। বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে জাতীয়করনের পর পরই সরকারী বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিবের নামে দলিল করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সপ্তাহে এ জমির মধ্য থেকে সিক্সলেন সড়কের উত্তর পাশে ৬ শতাংশ জমি দখল করে নুরুজ্জামান কাফি সড়ক নির্মাণ করে। বিদ্যালয়ে ওই জমির পাশে কাফির রেকর্ডকৃত জমি রয়েছে। তার জমিতে প্রবেশের পথ না থাকার কারণে তিনি সড়ক নির্মাণ করেছেন বলে জানা গেছে। সড়ক নির্মাণের কাজ শুরুর পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বাধা দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এবিষয়ে তিনি আরো বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি সিক্সলেনের旁 অবস্থিত ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ৬ শতাংশের মতো জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন। আমরা বিষয়টি জেনে রাস্তা নির্মাণে বাধা দিলে উল্টো আমাদের জীবননাশের হুমকি প্রদান করা হয়। জমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অভিযুক্ত এনসিপি নেতা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি জানান, সবাই বলে ওই জমি খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখলে আছে। এই জমির পিছনে আমার খরিদ করা জমি আছে। কিন্তু চলাচলের কোন রাস্তা নাই। এজন্য আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রহিম স্যারের কাছে জমিটা খরিদ করার প্রস্তাব দেই। তখন স্যার বলেন স্কুলের জমি দেয়ার তার ক্ষমতা নেই। এই জমিটা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সচিবের নামে দেওয়া হয়েছে। তাদের সাথে তিনি আমাকে যোগাযোগ করতে বলেন। পরবর্তীতে আমি জানতে পারি মোবারক পঞ্চায়েতের নাতী সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানসহ ওয়ারিশগণ মামলা চালিয়ে উচ্চ আদালত থেকে ওই জমি তাদের পক্ষে রায় পেয়েছে। পরে আমি তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করি এবং ওয়ারিশগণ তা বুঝিয়ে দেয়। কয়েকদিন আগে এই জমিতে রাস্তা নির্মাণ শুরু করলে স্কুল কর্তৃপক্ষের লোকজন এসে আমাকে বাধা দেয়। আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আমি তো এমন প্রভাবশালী লোক না যে, অন্যের জমি দখল করবো। জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে জমি কিনে রাস্তা করেছি। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করছে।
এবিষয়ে সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার দাদা মোবারক পঞ্চায়েত ২৯ একর জমি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আদালতে মামলায় চলছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই জমির মালিক দাবি করলেও তারা প্রমাণাদির জন্য কোন কাগজপত্র আদালতে দাখিল করতে না পারায় পটুয়াখালী আদালত এবং ঢাকা সুপ্রিম কোর্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন মাসে আমাদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তী সময়ে নুরুজ্জামান কাফির চলাচলের জন্য রাস্তা প্রয়োজন হলে তার কাছে ৬ শতাংশ জমি বায়ানা চুক্তির মাধ্যমে জমির দখল বুঝিয়ে দিই। পরে ওই জমিতে কাফি যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ করে। স্কুল কর্তৃপক্ষ রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ার আইনগত কোন ভিত্তি নেই। আদালতের রায় অনুযায়ী ওই জমির প্রকৃত মালিক আমরা ওয়ারিশগণ। বর্তমানে ওই জমি আমাদের ভোগ দখলে আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার তালগাছি এলাকার ঘটনাস্থলে এক নারী যাত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল ছিনতাইয়ের কুকীর্তিতে সিএনজি (মাহিন্দ্রা) চালকসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে নগর পবা থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান আরএমপির মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ গাজিউর রহমান।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রধান আসামি ও মাহিন্দ্রা চালক মোঃ ফরহাদ হোসেন (২৬) রয়েছে, যে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার আলীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। অপর আসামি মোঃ তরিকুল ইসলাম (২৫) পবা থানার বায়া (পালপাড়া) এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা মনি বেগম (৩৮) গত ১২ জুলাই শরীয়তপুরে বাবার বাড়ি থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। ১৩ জুলাই সকাল ৭টার দিকে রাজশাহী রেলস্টেশনে পৌঁছে তিনি মাহিন্দ্রাযোগে বাগমারার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে, পবা থানার বড়গাছি ইউনিয়নের তালগাছি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে, যাত্রীর ছদ্মবেশে থাকা ছিনতাইকারী ও চালক মিলে তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও পিঠে আঘাত করে।
এর পর তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন, একটি কালো ট্রাভেল ব্যাগ, কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পরে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশনায় পবা থানা পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার আলীগঞ্জ এলাকা থেকে প্রধান আসামি ফরহাদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
ফরহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ি থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন, কাপড়-চোপড়, এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাহিন্দ্রা (সিএনজি) উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, হামলায় ব্যবহৃত একটি চাকুও ফরহাদের দেখানো স্থান থেকে জব্দ করা হয়েছে।
একই মামলার অপর আসামি তরিকুল ইসলামকে নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রসাদ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে পবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলায় ফরহাদ হোসেন ও তরিকুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী ট্রাফিক মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে মতিহার থানার তালাইমারী ট্রাফিক মোড়ে পরীক্ষার্থীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলস্বরূপ ওই এলাকায় যান চলাচল দীর্ঘ সময় বিঘ্নিত হয় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকাল বেলা বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী তালাইমারী ট্রাফিক মোড়ে জড়ো হয়ে সড়কের ওপর অবস্থান নিয়েছিল। পরে তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। অবরোধের ফলে তালাইমারী মোড়সহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সাধারণ যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
ঘটনাস্থলে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে কয়েকজন শিক্ষার্থী বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করে বলেন যে, ঊর্ধ্বতন মহল থেকে তারা জেনেছেন, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো সরকার গ্রহণ করেনি। তাদের ভাষ্য হলো, "যে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন না, তার এই পদে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।" বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনার আহ্বান জানান। বক্তব্য চলাকালীন সময়ে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অবরোধ চলাকালে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরএমপির মতিহার বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাঈনুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মোঃ সোহেল রানা এবং মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির সহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য।
তবে এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ