০৪:৪৭ পি.এম
ইসরায়েল লাগামহীনভাবে ক্রমশ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সম্প্রতি লেবাননে চারজন ইসরায়েলি সেনার নিহত হওয়ার পরে, দেশটির কট্টর ও ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির একের পর এক বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘একজন ইসরাইলি মা যখন অশ্রু ফেলে, তখন হাজার হাজার লেবাননি মায়ের চোখে পানি ঝরতে হবে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমেরিকানদের প্রতি সঠিক সম্মান রেখে বলছি, ইসরাইলকে পুরো বিশ্বকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে আমাদের সন্তানদের রক্ত এবং আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনো দরকষাকষির বিষয় নয়। পুরো লেবানন পুড়ে যাক।’
আরও পড়ুন: বাগদাদে বায়ুদূষণ শীর্ষে, ঢাকার অবস্থান ১৩তম
বেন গাবির দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে কোনো জয় অর্জন হয় না। তাঁর বচন অনুযায়ী, ‘সন্ত্রাসবাদকে চূর্ণ করতে হলে কঠোর ও সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করা জরুরি।’
এদিকে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের কূটনৈতিক নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। লাপিদ এক্সে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, ‘গত একদিনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসরাইলের স্মোটরিচ ও বেন গাভির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছেন যে নেতানিয়াহু লেবানন ইস্যুতে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছেন।’
লাপিদের ভাষ্য, ‘যদি এই সরকারকে দ্রুত পরিবর্তন না করা হয় তবে ইসরায়েলের বৈদেশিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার ঢাকার মগবাজার, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরীসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট বন্ধ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে, সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ব্যবস্থা ছিল। তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি সফরটি বাতিল করেছেন।
এদিকে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত ও বিভিন্ন শহর ও গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মধ্যরাতের পর বিমান হামলার তীব্রতা এমন জায়গায় ছিল যে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে ১৮ জন নিহত হয় এবং ৩৩ জন আহত। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে এটি ছিল সম্ভবত সবচেয়ে ভারী বোমাবর্ষণ। নাবাতিয়েহ অঞ্চলে বিভিন্ন শহর ও গ্রামগুলোতে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, এসব অভিযানটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া।
চার সেনার নিহতের দাবি করল ইসরাইল
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে চারটি তাদের সেনা নিহত হয়েছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে এটি ছিল অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহের পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় আক্রমণ চালিয়েছে। হিজবুল্লাহর মতে, তাদের নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে তিনটি মারকাভা ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে এবং তারা রকেট ও গোলাবর্ষণ করেছে। সংঘর্ষ এখনও চলছে বলে তারা জানিয়েছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
আরও পড়ুন: বর্জন ভেঙে কেন নির্বাচনে ভোট দিলাম: ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকের অভিজ্ঞতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন