০২:২৯ এম
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং দীর্ঘপাল্লার দৌড়বিদ মোহাম্মদ রাজন মিয়ার আইরনম্যান লাংকাউই মালয়েশিয়া ২০২৭-এ অংশগ্রহণের স্বপ্ন পূরণে সরকার পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক রাজন মিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি চাইছেন এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় সব ব্যয় তারা বহন করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এই বিষয়ে সময় নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রাজ মিয়া।
পেশায় তিনি শিক্ষক হলেও ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে মোহাম্মদ রাজন মিয়া এক অনুপ্রেরণার নাম। তিনি সুস্থ জীবনধারার বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়াও, তিনি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় উদ্বুদ্ধ করে আসছেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের এই সহকারী অধ্যাপক।
সম্প্রতি তিনি ১৬১ কিলোমিটার ও ২১৪ কিলোমিটার দীর্ঘপাল্লার দৌড় সম্পন্ন করেছে, যা তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এখন তার স্বপ্ন হলো আন্তর্জাতিক মানের ট্রায়াথলন প্রতিযোগিতা আইরনম্যান লাংকাউই মালয়েশিয়া ২০২৭-এ অংশগ্রহণ করা।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
আইরনম্যান প্রতিযোগিতায় একজন অ্যাথলেটকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সাঁতার, ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ৪২ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২৩ সাল থেকে রাজন মিয়া কোচের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত অনুশীলন করছে।
তবে ব্যয়বহুল এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের পথে সর্বাধিক বাধা হলো আর্থিক সংকট। সম্প্রতি এই বিষয়ে প্রথম সময় নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হলে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে আরও বিভিন্ন গণমাধ্যমও রাজন মিয়ার সংগ্রামের গল্প তুলে ধরে।
এমন প্রেক্ষাপটে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর প্রধানমন্ত্রী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হককে এই বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে রাজন মিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি নিশ্চিত করেছেন যে আইরনম্যান লাংকাউই মালয়েশিয়া ২০২৭-এ অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব খরচ সরকারিভাবে বহন করবে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এ বিষয়ে রাজন মিয়া নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে লেখেন, তিনি কখনও ভাবেননি যে শত ব্যস্ততার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিবেদনটি দেখবেন এবং এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রী তাকে আন্তরিকভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে আইরনম্যান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সব ব্যয় সরকার বহন করবে। এ ছাড়াও, রাজন মিয়া মন্তব্য করেন, প্রতিমন্ত্রী একজন সাবেক সফল ফুটবলার হওয়ায় একজন ক্রীড়াবিদের সংগ্রাম সহজেই বুঝতে পেরেছেন।
রাজন মিয়া বলেন, সারাদিন ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা এবং খাতা মূল্যায়নের কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্পন্সরের জন্য ঘুরে বেড়ানো একজন শিক্ষকের জন্য এটি বিব্রতকর। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এমন ব্যয়বহুল খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
তিনি আরও জানান, দেশের চার কোটি শিক্ষার্থী যেন তাকে দেখে শুধু একজন শিক্ষক নয়, বরং একজন আইরনম্যান, একজন অ্যাথলেট, সুস্থতা ও খেলাধুলার প্রতীক হিসেবে অনুপ্রাণিত হয়। একই সঙ্গে দেশের মানুষ বিশ্বাস করতে পারে, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে যে কোনো বয়সে যে কেউ খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহ: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়
সবশেষে রাজন মিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলছেন, তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরাই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন