ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক পরিবহনের ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক যানে রূপান্তরের লক্ষ্য সরকারের


২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক পরিবহনের ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক যানে রূপান্তরের লক্ষ্য সরকারের

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সড়ক পরিবহন খাতের অন্তত ৩০ শতাংশ যানবাহনকে ইলেকট্রিক (বিদ্যুৎচালিত) মোটরযানে রূপান্তরের লক্ষ্য সরকারের। জাতীয় সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বিশ্বজুড়ে যে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, সে ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশও পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মন্ত্রী জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে জানান, সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ইতিমধ্যে ইলেকট্রিক মোটরযানের নিবন্ধন ও চলাচলসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন সম্পন্ন করেছে। তিনি আরও বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশ দূষণ রোধে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন বা এনডিসি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবহন খাত থেকে ৩.৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বাংলাদেশের।

ইলেকট্রিক যানবাহন জনপ্রিয় করতে নেওয়া সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আমদানিকৃত ইলেকট্রিক বাসকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য খাতের ক্ষেত্রেও এ ধরনের যানবাহন আমদানিতে মাত্র ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে সেতুর টোল আদায় ও ট্রেনের স্টপেজ নিয়েও কথা বলেন সেতামন্ত্রী। তিনি জানান, সেতু থেকে টোল আদায় অর্থ বিভাগের আওতাভুক্ত একটি রাজস্ব-সংক্রান্ত বিষয়, তাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এককভাবে টোল প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। তবে ছোট সেতুর ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এছাড়া আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ বাড়ানোর দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সব জায়গায় ট্রেন থামানো হলে আন্তঃনগর ট্রেনের দ্রুত যাতায়াতের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং এ সম্পর্কে বিদ্যমান নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা জরুরী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলায় উপজেলা এনজিও কমিটির মাসিক সমন্বয় সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪২ এম


নকলায় উপজেলা এনজিও কমিটির মাসিক সমন্বয় সভা

শেরপুরের নকলায় উপজেলা এনজিও কমিটির মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।

এতে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন শামীম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, ব্র্যাক ডিস্ট্রিক কো-অর্ডিনেটর ফারহানা শিল্পী ও ডা. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃক পরিচালিত নকলা প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা ও পরিচর্যা কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাজমুস সাকিব প্রমুখ।

সভায় ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (আইডিএ), আব্দুল করিম সরকার হেলথ সেন্টার, আসপাডা, স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি, মাটি, ব্যুরো বাংলাদেশ, উদ্দীপন, সোসিও ইকোনোমিক ব্যাকিং অ্যাসোসিয়েশন (সেবা), শক্তি ফাউন্ডেশন, নকলা অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, ভূরদী কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থা, মাধ্যমিক ইয়্যুথ টিচার্স এ্যাসোসিয়েশন, আরডিএস, ইমাউস-এর প্রতিনিধিগনসহ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সমিতি বা সংস্থা, বিভিন্ন এনজিও’র প্রতিনিধিগণ, উপজেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংসদে রুমিন ফারহানা

মাদকদ্রব্য বহনকারীরাই ধরা পড়ে কিন্তু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা সংসদে যায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ এম


মাদকদ্রব্য বহনকারীরাই ধরা পড়ে কিন্তু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা সংসদে যায়

মাদক মামলায় মাদকদ্রব্য বহনকারীরা বারবার ধরা পড়ে, কিন্তু যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তারা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা সংসদে যান বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল ২০২৬ পাসের জন্য উত্থাপনের পর বিলটির ওপর জনমত যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এ অভিযোগ করেন।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, প্রতি দিন যে মামলাগুলো আমরা দেখি সেখানে দেখা যায়, ক্যারিয়াররাই (বাহক) বার বার ধরা পড়ে। কিন্তু বদির মত যারা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে সমস্ত সরকারি দপ্তরের রিপোর্টে উঠে আসে, তারা সংসদে যান; তারা যেতে না পারলে তাদের পরিবারের সদস্যরা সংসদে যান। যতদিন পর্যন্ত না আমরা যারা সরাসরি মাদকের ব্যবসায় যুক্ত এবং যাদের হাত দিয়ে মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করে টেকনাফ দিয়ে, সেই মানুষগুলো, মূল হোতাদের যতদিন পর্যন্ত আমরা ধরতে না পারবো, আমার মনে হয় না কোনো আইন দিয়ে আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবো। আইন যথেষ্ট শক্ত, মাত্র ২৫ গ্রামের উপরে মাদক পেলেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেয়া হয়। কিন্তু তারপরেও কী করে লাখ লাখ পিস ইয়াবা কিংবা কয়েক কেজি হেরোইনসহ ক্যারিয়াররা যখন ধরা পড়ে, আমরা কিন্তু তার উপরে আর উঠতে পারি না।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম দিন ২৭ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সংসদে বলেছিলেন, আগে শুনতাম বদি, এখনতো বদি নাই, বদিতো বধ হয়ে গেছে। এখন ওইখানকার দায়িত্বটা কে নিছে? বাড়ির আশেপাশের লোক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরতো চেনার কথা। এতদিন ওইদিক দিয়ে মাদক আসা বন্ধ হওয়া উচিত ছিল। আইন দিয়ে কোন কিছু হয় না। আইন কার্যকরী করার জন্য সাহস লাগে, সৎ সাহস লাগে, ইচ্ছা লাগে। সুতরাং আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশে মাদকাসক্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০ শতাংশ অনেক বেশি, আমরা ন্যায্যটা নেব : ট্রাম্পের হরমুজ ফি নিয়ে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫২ এম


২০ শতাংশ অনেক বেশি, আমরা ন্যায্যটা নেব : ট্রাম্পের হরমুজ ফি নিয়ে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করবে, তাদের ওপর ২০ শতাংশ ফি বা মাশুল বসানো হবে। তবে এই ঘোষণা ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা পেয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরান চিরকাল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের আসল পাহারাদার।

আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যম এক্সে লেখেন, ট্রাম্পের কথায় সঠিক যে পাহারাদারকে পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত। কিন্তু তিনি আরো যোগ করেন, ২০ শতাংশ ফি আসলে অনেক বেশি। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ইরান ন্যায্য ফি নেবে।

এর আগে ট্রাম্প এক পোস্টে বলেছেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির পাহারাদার এবং নিরাপত্তার জন্য সব জাহাজের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ ফি নেওয়া হবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে যে, ১৪ জুলাই থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ পুনরায় শুরু হবে। সেন্টকম জানায়, ইরানের বন্দরে যাওয়া-আসা করা সমস্ত জাহাজকে তারা আটকে দেবে।

আগে একটি সাময়িক চুক্তির কারণে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আবারও শুরু হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি হলো, আন্তর্জাতিক নিয়মে এই পথ সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে ট্রাম্পের উক্তি ছিল, ওই চুক্তির মেয়াদ এখন শেষ হয়ে গেছে।

এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। এরপর থেকেই এই জলপথ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বেড়ে চলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্যান্ত মাছ সরবরাহে শীর্ষে রাজশাহী, প্রতিদিন বিক্রি ২০ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ এম


জ্যান্ত মাছ সরবরাহে শীর্ষে রাজশাহী, প্রতিদিন বিক্রি ২০ কোটি টাকা

দেশের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী জেলা, যেখানে জ্যান্ত মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন নিয়মিত দুই শতাধিক ট্রাকে জ্যান্ত মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে এ অঞ্চলের মাছ চাষিরা শুধু উৎসাহিত হচ্ছেন না, লাভবানও হচ্ছেন। ক্রেতারাও বাজারে ফরমালিনমুক্ত তাজা মাছ পাচ্ছেন। রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য অফিসের সূত্রে জানা গেছে, জ্যান্ত মাছ ঢাকাসহ বিভিন্ন বাজারে পাঠানোর কৌশলটি দেশে প্রথম আবিষ্কার করেন রাজশাহীর চাষিরা। বর্তমানে রাজশাহীর পবা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাগমারা, মোহনপুর এবং নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম ও সিংড়া উপজেলার চাষিরা এই মাছ ঢাকাসহ সারাদেশে পাঠাচ্ছেন। শুধু রাজশাহী জেলার চাষিরাই প্রতিদিন দুই শতাধিক ট্রাকে জ্যান্ত মাছ ঢাকায় পাঠান। রাজশাহী বিভাগে রুই-কাতলাসহ কার্পজাতীয় মাছ চাষে বিপ্লব ঘটেছে। আটটি জেলায় বছরে উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিকটনের বেশি মাছ। লাভজনক হওয়ায় আগ্রহও বাড়ছে চাষিদের। রাজশাহী বিভাগের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন এই মাছ রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে, আর এতে বিক্রি হচ্ছে ২০ কোটি টাকারও বেশি মাছ। রাজশাহীতে গত কয়েক বছরে পুকুরের সংখ্যা বেড়েছে। লোকসান হওয়ায় বাধ্য হয়ে চাষিরা পুকুর খনন করে মাছ চাষে নামছেন। অন্য ফসলের তুলনায় মাছ চাষ তুলনামূলকভাবে বেশ লাভজনক হওয়ায় এ পেশায় ঝুঁকছেন অনেকে। রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া জানিয়েছেন, আগে শুধুমাত্র রাজশাহীতে মিশ্র প্রক্রিয়ায় মাছ চাষ হতো, এখন বিভাগে অন্যান্য জেলাতেও এই পদ্ধতি হচ্ছে। পুকুরে প্রধান মাছ যদি রুই হয়, তবে সিলভার কার্প, কাতলাসহ দেশি ছোট মাছও চাষ করা হচ্ছে। এর ফলে পুকুরে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। রাজশাহী জেলা থেকে বড় মাছ ছাড়াও দেশি পাবদা, শিং, কই, মাগুর চাষ হচ্ছে। সেগুলো রাজশাহীর বাইরেও একটি বড় বাজার তৈরি করে ফেলেছে। এ ছাড়া পাবদা মাছ নিয়মিত ভারতে রফতানি হচ্ছে। সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, এখানকার চাষিরা নিয়ম মেনে মাছ চাষ করেন এবং বছরে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে মাছ চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তারা নিয়মিত কৃষকের মাছ প্রদর্শনের মতো কর্মসূচি পালন করেন। রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় জানিয়েছে, বিভাগের আটটি জেলায় মোট পুকুরের সংখ্যা ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫৩টি এবং মাছ চাষিতে সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৬টি। বছরে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৪৬৭ মেট্রিকটন মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে এবং এর মধ্যে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে দেড় লাখ মেট্রিকটন মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ২৪ বছর আগে রাজশাহী জেলা থেকে তাজা মাছ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহসহ অন্তত ২৫টি জেলায় প্রতিদিন তাজা মাছ পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে রাজশাহীর বাইরের মানুষ ফরমালিনমুক্ত মাছ খেতে পারছেন। ফলে এ বিভাগের মাছের চাহিদা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রতিদিন বিকাল থেকে ভোররাতের মধ্যে প্রায় ৫০০ ট্রাকের বেশি তাজা মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়, এবং প্রতি ট্রাকে কমপক্ষে ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি মাছ থাকে। সেই হিসেবে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকার বেশি এই তাজা মাছ বিক্রি হয়। রাজশাহী জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাছ চাষ হয় পবা উপজেলায়। পারিলা ইউনিয়নে ঢুকলেই চোখ পড়ে পুকুর আর পুকুর। সেখান থেকে মাছ ধরা হচ্ছে এবং কিছুটা দূরে গিয়ে তা রাস্তায় দাঁড়ানো পানি ভর্তি ছোট-বড় ট্রাকে তোলা হচ্ছে। এই পারিলা গ্রাম থেকেও প্রতিদিন ৫০ ট্রাকের মতো তাজা মাছ যায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে। আর পুরো রাজশাহী থেকে ২০০ ট্রাকের বেশি তাজা মাছ পাঠানো হচ্ছে। পারিলা গ্রামের মোশারফ হোসেন ১৪ বছর ধরে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মাছ পাঠান। প্রায় ২২ বিঘা জমির ওপর তার পুকুর রয়েছে। তিনি জানান, এক সময় রাজশাহীতেই মাছ বিক্রি করতে হতো যেখানে দাম তেমন পাওয়া যেত না। পরে তারা ট্রাকে মাছ নিতে শুরু করেন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। তখন ট্রাকে এক-দুজন লোক রাখতে করতে হতো এবং তারা সারা রাস্তা পানিতে পা দোলাতেন। কিন্তু এখন শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দেওয়া হয় যা সারা রাস্তায় চলে। এর ফলে মাছ পুকুরের মতো করে চলে যায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। ফলস্বরূপ, দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ওই দিন তিনি ১ হাজার ২০০ কেজি মাছ নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকার নিউমার্কেটে, এবং সেদিন তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল ওই মাছ। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার গোলাম সাকলাইন ১৯৯৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নে অনার্স পড়াকালে নিজ এলাকায় মাত্র দুই বিঘা জমিতে মাছ চাষ শুরু করেন। ৭ হাজার টাকা পুঁজিতে শুরু করা চাষে প্রথমবারেই লাভ করেন ৬ হাজার টাকা। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বর্তমান সময়ে তিনি ১ হাজার বিঘা জমির পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন যা ১৫২ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, কৃষির সঙ্গে মাছচাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি এবং মাছচাষ করবো বলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমার পরিবারের সদস্যরা সে সময়ে কেউ এই পেশায় আসতে দিতে চাননি। সেই থেকেই শুরু করে আজ পর্যন্ত মাছ চাষ করে যাচ্ছি। বর্তমানে আমার পুকুরের আয়তন প্রায় ১ হাজার বিঘা। এখান থেকে প্রতিদিন ২০টির মতো ট্রাক রাজধানীতে মাছ নিয়ে যাচ্ছে। মিঠা পানির কার্পজাতীয় মাছ উৎপাদনে রাজশাহী বিভাগ দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এবং নাটোর ও নওগাঁয় মাছের উৎপাদন ও কেনাবেচা বেশি হয়। তবে এসব অঞ্চলের পুকুরগুলোতে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, পাবদা, ট্যাংরা শিংসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করা হয়। এসব মাছ পুকুর থেকে তুলে বিশেষ সংরক্ষণের মাধ্যমে জীবিত অবস্থায় সরবরাহ করা হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। দুর্গাপুর উপজেলার অন্য এক মৎস্যচাষি ইদ্রিস আলী জানান, এই উপজেলা থেকে ৫০ ট্রাকের বেশি মাছ ঢাকায় যায়। তবে বর্তমানে মাছের দাম কিছুটা কমেছে। খাদ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, মাছের দাম তেমন বাড়েনি। এতে লাভ কম হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকায় মাছ নিতে বাড়তি ট্রাকভাড়া গুনতে হচ্ছে তিন-চার হাজার টাকা। মৎস্য অধিদপ্তর থেকে আর্থিক কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নানা রকম পরামর্শ ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়, এবং এতে উপকৃত হওয়া যায়। রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের মাছ চাষে বিপুল পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এখন খাঁচায় মাছ চাষও বেশ লাভজনক হয়েছে। নদীর অনেক দামি মাছও এখন পুকুরে চাষ হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে পাবদা, গুলসা টেংড়া, চিতল, ফলি ইত্যাদি। প্লাবনভূমির শোল, শিং, মাগুর বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেও লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%