প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোরের বাঘারপাড়ায় একটি যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। নিহত রুবেল হোসেন (৩৮) ছিলেন বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তিনি পেশায় কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানের চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত রুবেল তেলীধান্যপুড়া গ্রামের মোনতাজ ঢালীর ছেলে।
এ ঘটনায় বিচার চেয়ে তার মরদেহ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসী।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খাজুরা বাজার তেলপাম্পের এলাকায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে রুবেলের প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা ও নেতাকর্মীরা রুবেল হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আটক ও শাস্তির দাবি জানান।
পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তেলীধান্যপুড়ার বাসিন্দা রাব্বিকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দাবি করে তার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন। এরপর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরলস কাজ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে রুবেল বাইরে থেকে কাভার্ডভ্যান চালিয়ে খাজুরায় যান। কাভার্ডভ্যানটি যশোর-মাগুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খাজুরা তেলপাম্পে রেখে পাশের বাড়িতে যান। এরপর সেখান থেকে তেলপাম্পের দিকে যাওয়ার সময়, খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে রুবেলের পথ রোধ করেন তার বোনের দেবর একই গ্রামের রাব্বি ও আরও তিন-চার জন। তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রাব্বি ছুরি দিয়ে রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় লোকজন পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করেন। দুপুর ১২টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত রুবেলের মা ফিরোজা বেগম আহাজারি করে জানিয়েছেন, প্রায়ই স্থানীয় বখাটে নিয়ে রাব্বি তেলীধান্যপুড়া উলুমুল হাফেজিয়া কুরআন মাদরাসা মাঠে আড্ডা দিতেন। একদিন মাদরাসার হুজুর রাব্বিকে সেখানে আড্ডা দিতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু রাব্বি হুজুরের নিষেধ মানেননি এবং উল্টো হুজুরকে বিভিন্ন আজেবাজে কথা বলে হুমকি দিয়েছিলেন।
এই ঘটনা জানার পর, রুবেল রাব্বিকে চড় মারেন। এরপর থেকেই রাব্বির রুবেলের প্রতি ক্ষোভ জন্মে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন। প্রতিশোধ হিসেবে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেল হোসেনের বুকে, পিঠে ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এই আঘাতে ঘটনাস্থলেই রুবেলের মৃত্যু ঘটে।
নিহত রুবেলের ভাই রাজিব হোসেন জানিয়েছেন, রুবেলকে মারতে রাব্বির সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেল এসেছিল।
বাঘারপাড়া থানার ওসি শাহজালাল আলম বলেছেন, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলমান। অভিযুক্তের ঘটনার পর থেকে পলাতক আছে। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন