ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই মাদক ও বাল্যবিবাহ নির্মূল সম্ভব: আসাদুল হাবিব দুলু


সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই মাদক ও বাল্যবিবাহ নির্মূল সম্ভব: আসাদুল হাবিব দুলু

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে খুবই জরুরি হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজকে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, দাদন ব্যবসা সহ সকল ধরনের সামাজিক অপরাধমুক্ত করা। এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি উল্লেখ করেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে যদি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, তবে এসব অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

লালমনিরহাটে নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: কালকিনিতে বোরকা পরে হামলা, হত্যা মামলার আসামি নিহত

বাসস : উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে আপনি কী ধরনের সম্পর্ক দেখতে পান?

মন্ত্রী : উন্নয়ন শুধুমাত্র রাস্তা, সেতু, স্কুল-কলেজ অথবা ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যদি একটি এলাকায় মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ বিস্তার লাভ করে, তাহলে সেখানে প্রকৃত উন্নয়ন প্রতিষ্ঠিত হয় না। মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাসস : বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?

মন্ত্রী : যুবসমাজের জন্য মাদক একটি বড় হুমকি। এর সঙ্গে জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক এবং দাদন ব্যবসাও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অনেক পরিবারে অশান্তি, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনে এসব সামাজিক অপরাধের প্রভাব রয়েছে। ফলে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত, চালক আহত

বাসস : এসব সমস্যা মোকাবিলায় আপনি কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন?

মন্ত্রী : শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করা হবে না। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ব্যবসায়ী, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষার্থী সহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

বাসস : ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সংগঠনের লক্ষ্য কী?

মন্ত্রী : দীর্ঘ বিরতির পর গত ৪ জুলাই ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়েছে। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক এবং দাদন ব্যবসার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

আরও পড়ুন: যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

বাসস : সংগঠনটির কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা হচ্ছে?

মন্ত্রী : ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, রাজনৈতিক প্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলি স্থানীয়ভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে।

বাসস : এই উদ্যোগের প্রাথমিক ফলাফল কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

মন্ত্রী : ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি আমরা। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে। অনেকেই সামাজিক অপরাধ থেকে সরে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমরা এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছি।

আরও পড়ুন: পাইকগাছায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

বাসস : এই আন্দোলন কি শুধু লালমনিরহাটে সীমাবদ্ধ থাকবে?

মন্ত্রী : না, আমার প্রত্যাশা, এটি জাতীয় পর্যায়ে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে। দেশের মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ এবং যৌতুকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন একটি নিরাপদ, মানবিক এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বাসস : সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

মন্ত্রী : সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খাল পুনঃখনন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষকদের সহায়তা এবং নারীর ক্ষমতায়ন সহ অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ দেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে উন্নয়নের সুফল টেকসই করতে সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।

আরও পড়ুন: সাজেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলি, ফের আটকা ৩ হাজার পর্যটক

বাসস : তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

মন্ত্রীর উত্তর : তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি হয়েছে এবং পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমি আশাবাদী।

বাসস : এই পরিস্থিতিতে নতুন বাংলাদেশ গঠনে আপনার বার্তা কী?

মন্ত্রী : একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে উন্নয়ন ও সামাজিক মূল্যবোধকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, দাদন ব্যবসা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকলকেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি নিরাপদ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মোংলার পথে যাত্রা শুরু, স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল

২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা এবং ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই নীতিমালা প্রণয়ন করার কারণে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, সরকার নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ঔষধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা, ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, ২০২৬’ বাতিলের কারণ হলো, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ নেওয়ার বিধান রয়েছে, যা প্রতিপালন করা হয়নি।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ব্যতীত প্রণীত হওয়ায় এর বৈধতা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এদিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ইতোমধ্যে গত ২৯ জুন ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ এর বিধান অনুযায়ী জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে। এ উপদেষ্টা পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।

২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হওয়ার পরও, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা এবং সেসব ঔষধের সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতোই বহাল থাকবে।

অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ঔষধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যেন জনগণের উপর বাড়তি চাপ তৈরি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বিজেপির দুর্গে’ ভাঙন, বিহার উপনির্বাচনে চমক দেখালেন প্রশান্ত কিশোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


‘বিজেপির দুর্গে’ ভাঙন, বিহার উপনির্বাচনে চমক দেখালেন প্রশান্ত কিশোর

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার উপ-নির্বাচনে ‘বিজেপির দুর্গে’ ধস নামিয়েছেন ভোটকুশলী হিসেবে খ্যাত প্রশান্ত কিশোর। ভোটের লড়াইয়ে সরাসরি নেমে জয় ছিনিয়ে আনলেন এই সাবেক কুশলী।

ভারতীয় জনতা পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন। তিনি বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারকে পরাজিত করেছেন ১৯ হাজার ভোটে। প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরেই বিহার বিধানসভায় আসন পেল জন সুরাজ পার্টি।

বিস্তারিত আসছে...

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পৃথক দুর্ঘটনায় সাতক্ষীরায় প্রাণ হারালেন ২ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


পৃথক দুর্ঘটনায় সাতক্ষীরায় প্রাণ হারালেন ২ জন

সাতক্ষীরা, ৩ আগস্ট ২০২৬ : জেলার শ্যামনগর উপজেলায় আজ দুটি ভিন্ন দুর্ঘটনায় কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫৩) এবং খায়রুন্নেছা (৪০) নামের দুইজন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে।

আজ সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট ইউনিয়নের দু’টি গ্রামে এসব ঘটনা সংঘটিত হয়।

নিহত কৃষ্ণপদ বৈদ্য শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট ইউনিয়নের শীলতলা গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের পুত্র। অপরদিকে, নিহত খায়রুন্নেছা একই উপজেলার ধুমঘাট ইউনিয়নের মটেরচক গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর পত্নী।

পুলিশ এবং পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০ টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট শীলতলা গ্রামের কৃষ্ণপদ বৈদ্য চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানবশত রাস্তার পাশে অবস্থিত একটি পুকুরে পড়ে যান। তিনি পানিতে তলিয়ে গেলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেন।

অন্যদিকে, সোমবার দুপুর ১ টার দিকে ধুমঘাট মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশে ক্ষেতে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা নামের এক গৃহবধূ ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পৃথক দুর্ঘটনায় দু'জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী জানান, দু’টি ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই অনিবার্য হয়ে গিয়েছিল বিগত ১৭ বছরের বঞ্চনার জন্য: রাবি উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


জুলাই অনিবার্য হয়ে গিয়েছিল বিগত ১৭ বছরের বঞ্চনার জন্য: রাবি উপাচার্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, জুলাই কোনো আকস্মিক গণঅভ্যুত্থান নয়, বরং এটি অনিবার্য হয়ে গিয়েছিল বিগত ১৭ বছরের লাঞ্চনা এবং বঞ্চনার জন্য। তাঁর মতে, গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, ভিন্নমত সবকিছুই সংকটের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে এবং গনতন্ত্রহীনতার চরম পর্যায়ে চলে এসেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকাল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথাগুলো বলেছেন, যেখানে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ড. ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, জুলাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আমার কিছু স্মৃতি আছে যা আমি আগে কাউকে বলিনি, কিন্তু এখন মনে হয় সেগুলো বলা উচিত। কোভিডকালীন খুন, গুম, হত্যার সংস্কৃতির কারণেই এই জুলাই এর আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন, জুলাইয়ের পর পরবর্তী সময়ে একটি গোষ্ঠী আবারও এমন একটি বর্ণনা দাঁড় করাতে চাইছে, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি যুক্ত করেন, ৭১ কে কুক্ষিগত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ যে ভাবে শেষ হয়ে গেছে, সেভাবে ওই গোষ্ঠী যারা জুলাইকে কুক্ষিগত করতে চাইছে, তারাও একদিন নিশ্চয় শেষ হয়ে যাবে।

এতে তিনি জানান, তিনি সবসময় ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাস করেন এবং অতীতে কিংবা বর্তমানে কারো সঙ্গে আপোষ করবেন না। আন্দোলন কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় তিনি নিজের দ্বারা করেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের বলেছেন, কখনো রাজপথ ছাড়বেন না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা যখন তাকে হুমকি দিয়েছিল, তখন তার স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, তোমার কিছু হলে আমার পরিবারের কি হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, আজ তারা এসব কথা বলছেন না বলে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের পরে একটি গোষ্ঠী বলেছিল, মক্কা বিজয়ের পর রাসুল (স:) সবাইকে মাফ করে দিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা ফ্যাসিস্টদের মাফ করবো না।

আলোচনা সভায় কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমানও বক্তব্য রাখেন, যেখানে তিনি বলেছেন, অতীতে বিভিন্নভাবে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় ৩ আগস্ট যখন বক্তৃতা করছিলেন, তখন সেই অনুষ্ঠানের ছবি দেখে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য ফোন করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জুলাই আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছে। জুলাই আন্দোলন একদিনে সফল হয়নি, এ আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।"

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ, প্রধান আলোচক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম রাবির সভাপতি ড. মো. গোলাম সাদিকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%