প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, জুলাই কোনো আকস্মিক গণঅভ্যুত্থান নয়, বরং এটি অনিবার্য হয়ে গিয়েছিল বিগত ১৭ বছরের লাঞ্চনা এবং বঞ্চনার জন্য। তাঁর মতে, গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, ভিন্নমত সবকিছুই সংকটের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে এবং গনতন্ত্রহীনতার চরম পর্যায়ে চলে এসেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকাল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথাগুলো বলেছেন, যেখানে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ড. ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, জুলাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আমার কিছু স্মৃতি আছে যা আমি আগে কাউকে বলিনি, কিন্তু এখন মনে হয় সেগুলো বলা উচিত। কোভিডকালীন খুন, গুম, হত্যার সংস্কৃতির কারণেই এই জুলাই এর আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন, জুলাইয়ের পর পরবর্তী সময়ে একটি গোষ্ঠী আবারও এমন একটি বর্ণনা দাঁড় করাতে চাইছে, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি যুক্ত করেন, ৭১ কে কুক্ষিগত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ যে ভাবে শেষ হয়ে গেছে, সেভাবে ওই গোষ্ঠী যারা জুলাইকে কুক্ষিগত করতে চাইছে, তারাও একদিন নিশ্চয় শেষ হয়ে যাবে।
এতে তিনি জানান, তিনি সবসময় ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাস করেন এবং অতীতে কিংবা বর্তমানে কারো সঙ্গে আপোষ করবেন না। আন্দোলন কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় তিনি নিজের দ্বারা করেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের বলেছেন, কখনো রাজপথ ছাড়বেন না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা যখন তাকে হুমকি দিয়েছিল, তখন তার স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, তোমার কিছু হলে আমার পরিবারের কি হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, আজ তারা এসব কথা বলছেন না বলে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের পরে একটি গোষ্ঠী বলেছিল, মক্কা বিজয়ের পর রাসুল (স:) সবাইকে মাফ করে দিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা ফ্যাসিস্টদের মাফ করবো না।
আলোচনা সভায় কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমানও বক্তব্য রাখেন, যেখানে তিনি বলেছেন, অতীতে বিভিন্নভাবে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় ৩ আগস্ট যখন বক্তৃতা করছিলেন, তখন সেই অনুষ্ঠানের ছবি দেখে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য ফোন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জুলাই আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছে। জুলাই আন্দোলন একদিনে সফল হয়নি, এ আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।"
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ, প্রধান আলোচক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম রাবির সভাপতি ড. মো. গোলাম সাদিকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন