ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ককরোচ, অভিজিৎ, বিক্ষোভ সবই কি মোদির সাজানো বিরোধী মত দমনের মাস্টার প্ল্যান?


ককরোচ, অভিজিৎ, বিক্ষোভ সবই কি মোদির সাজানো বিরোধী মত দমনের মাস্টার প্ল্যান?

ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ভারতের সকল নাগরিকের কাছেই ছিল দীর্ঘ এক যুগের ক্রমাগত একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিপীড়ন, নির্যাতন, দুর্নীতি, অনিয়ম, বিরোধী মত দমন সহ দীর্ঘ রাজনৈতিক হতাশার বিরুদ্ধে এক নতুন আলোর দিশা। অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন এমন এক সময়ে আবির্ভূত হয়, যখন বহু ভারতীয় মনে করছিলেন যে দীর্ঘদিনের মোদি শাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো রাজনৈতিক প্রতিরোধ আর অবশিষ্ট নেই। বিরোধী কংগ্রেস কিংবা অন্যান্য দল দীর্ঘ সময় ধরে বিজেপির শক্ত ভিত নাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন ধারণা বহু মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তা হঠাৎ থামিয়ে দেওয়ায় সারাদেশে মোদি বিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রী ,শিক্ষার্থী, পড়ুয়াদের উপর ক্রমাগত নির্যাতন, নিপীড়ন এবং ধরপাকরের অভিযান নেমে এসেছে। অন্যদিকে আন্দোলন গড়ে তোলা ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান বাসায় বিশ্রাম নেওয়ার ভিডিও প্রকাশ করছেন! তাহলে কি এ আন্দোলন ছিল মোদি সরকারের বিরুদ্ধে যাতে ভবিষ্যতে আরো এক যুগেও নতুন করে কোন বড় আন্দোলন গড়ে না উঠতে পারে তার দীর্ঘমেয়াদি মাস্টার প্ল্যান? এক্ষেত্রে অনেকে মনে করতে পারেন যে তার জন্য মোদীজি কেন একটি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী কে বলিদান দেবেন? এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, দীর্ঘমেয়াদি মোদি সরকারের শাসন যদি এই আন্দোলন নিধনের মাধ্যমে আরো এক যুগ দীর্ঘায়িত হয় তাহলে এমন একটি মন্ত্রীর বলিদান সরকারের জন্য তেমন কোন বিষয় নয়। ইতিমধ্যে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়নের কথাও শোনা যাচ্ছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও এনআরসি সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, প্রশাসনিক কঠোরতা, বিরোধী মতের ওপর চাপ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট, দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশ্নফাঁস, সীমান্তনীতি ও পররাষ্ট্র কৌশল—সব মিলিয়ে এক গভীর অসন্তোষ সমাজের বিভিন্ন স্তরে জমা হচ্ছিল। কৃষক, শ্রমিক, দলিত, শিক্ষার্থী—অনেকেই নিজেদের বঞ্চিত ও কোণঠাসা বলে অনুভব করছিলেন।
এই প্রেক্ষাপটে ছাত্রদের আন্দোলন যেন কোটি কোটি মানুষের কাছে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। মনে হচ্ছিল, অবশেষে এমন একটি শক্তি তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।

কিন্তু প্রশ্নটি ঠিক সেখানেই।
যে আন্দোলনকে অনেকেই মোদি সরকারের দীর্ঘ শাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছিলেন, সেই আন্দোলন হঠাৎ করেই থেমে গেল কেন? সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণার পর আন্দোলনের নেতৃত্ব দ্রুত কর্মসূচি প্রত্যাহার করল কেন? দীর্ঘ এক যুগে সবচেয়ে বড় জনবিক্ষোভ কি এত সহজেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা?
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আন্দোলন বন্ধ হওয়ার পর কী ঘটল?

বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হামলা, গ্রেপ্তার, হেনস্তা ও হয়রানির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। অভিযোগ ওঠে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থীকে টার্গেট করা হচ্ছে। যারা রাজপথে নেমে আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিল, তাদের অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনের প্রধান নেতা অভিজিৎ দিপকের প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় বিশ্রামে থাকার কথা বলাকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। যারা তাঁর আহ্বানে রাজপথে নেমেছিলেন, তাদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তার দায়িত্ব কি নেতৃত্বের নয়? আন্দোলনের কর্মীরা যদি একের পর এক হামলা-মামলার মুখে পড়েন, তবে তাদের পাশে দাঁড়ানো কি নেতৃত্বের নৈতিক কর্তব্য নয়?
এসব প্রশ্ন থেকেই আরেকটি বিতর্কিত কিন্তু আলোচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সামনে আসে।

সমালোচকদের ধারণা, মোদি সরকারের প্লানের অংশ যদি এটি হয়ে থাকে তাহলে তাদের ইচ্ছা ছিল আন্দোলনে মোদি  সরকারবিরোধী সব শক্তি প্রকাশ্যে চলে আসলে এবং পরবর্তীতে তাদের শনাক্ত করে প্রশাসনিকভাবে দমন করা সহজ হবে, এর ফলে মোদি সরকার আরো দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকার যোগ্যতা অর্জন করবে। তাহলে কি পুরো ঘটনাপ্রবাহ শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদেরই কৌশলগত সুবিধা এনে দিল? আন্দোলন কি অনিচ্ছাকৃতভাবে সেই সুযোগ তৈরি করে দিল, নাকি এটি শুরু থেকেই ক্ষমতাসীনদের বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি। প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও উচিত নয়। কিন্তু রাজনীতির ইতিহাস বলে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে শাসকরা নানা কৌশল গ্রহণ করে, আবার আন্দোলনের ভুল কৌশলও অনেক সময় ক্ষমতাসীন দেরই শক্তিশালী করে তোলে।

তাই আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হয়তো আন্দোলনের সাফল্য বা ব্যর্থতা নয়; বরং আন্দোলনের পর যাদের জীবনে নেমে এসেছে হামলা, মামলা ও অনিশ্চয়তা—তাদের পাশে কে দাঁড়াবে?

যদি নেতৃত্ব সেই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—এই আন্দোলনের প্রকৃত রাজনৈতিক লাভবান কে? আর যদি শেষ পর্যন্ত লাভবান হয়ে থাকে ক্ষমতাসীনরাই, তবে ইতিহাস একদিন হয়তো এই আন্দোলনকে নতুন করে মূল্যায়ন করবে।

রাজনীতিতে কেবল রাজপথে মানুষ নামানোই নেতৃত্বের পরিচয় নয়; আন্দোলন শেষে সেই মানুষগুলোর নিরাপত্তা, আইনি সুরক্ষা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেওয়াই প্রকৃত নেতৃত্বের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। কারণ এই ককরোজ জনতা পার্টি যখন ১৪০ কোটি জনতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছিল সে সময়ে ভারতের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষেরা প্রত্যাশায় দিন গুনে ছিল যে হয়তো নিপীড়নমূলক শাসনের অবসান হবে। কিন্তু তেমনটি না হয়ে হঠাৎ আন্দোলন বন্ধ হওয়া এই সংশয় তৈরি করে যে, এটি কি মোদি সরকারেরই দীর্ঘমেয়াদি শাসন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার একটি মাস্টার প্ল্যান ছিল এবং ককরোজ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে কি  ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির দাবার গুটি হিসাবে কাজ করেছিল-এমন প্রশ্ন বিশ্লেষকদের মনে ওঠা আজকের দিনে মনে হয় অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিয়াটলে এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৩, আহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


সিয়াটলে এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৩, আহত ৪

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের স্পেস নিডল স্থাপনার কাছে রোববার নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিয়াটল পুলিশ জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ আরেকজনকে খুঁজছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই শহরের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় একটি খাদ্য উৎসব চলাকালে এই ঘটনাটি ঘটে। সিয়াটল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর প্রকাশ করেছে। সহকারী পুলিশ প্রধান টায়রোন ডেভিস জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলির আওয়াজ শোনা যায়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুজন ব্যক্তি পরস্পরকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, স্থানীয়দের জন্য এখন অন্য কোনো হুমকি নেই। সিয়াটল পুলিশ এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। এর আগে রোববার এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টে পুলিশ জানায়, সিয়াটল সেন্টারের ঘটনায় ‘একাধিক ব্যক্তি’ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বব ফুর্সন বলেছেন, স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা করতে স্টেট প্যাট্রোলের সোয়াট সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি এক্সে লেখেন, ‘নিহতদের পরিবারের প্রতি এবং উদ্ধারকর্মীদের প্রতি আমার প্রার্থনা রইল, যারা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।’ সিয়াটলের মেয়র কেটি উইলসন এ ঘটনাকে ‘ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যারা প্রাণ হারিয়েছেন, যারা সুস্থ হওয়ার জন্য লড়াই করছেন, তাদের পরিবারের প্রতিই এখন আমাদের সব মনোযোগ।’ তিনি ঘটনাস্থলে দ্রুত সাড়া দিয়ে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করায় সিয়াটল পুলিশের সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানান। হারবারভিউ মেডিকেল সেন্টারের মুখপাত্র সুসান গ্রেগ জানান, হাসপাতালে ট্রমা সেন্টারে চারজনের চিকিৎসা চলছে। সহকারী পুলিশপ্রধান ডেভিস বলেন, হাসপাতালে ভর্তি সকলেই ‘স্থিতিশীল অবস্থায়’ রয়েছেন। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কেআইআরওকে বলেন, একাধিক গুলির আওয়াজ শোনার পর তারা নিরাপদ স্থানে দৌড়ান। স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও খাদ্য বিক্রেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘বাইট অব সিয়াটল’ গ্রীষ্মকালীন উৎসব চলাকালে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) শেষ পর্যন্ত এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে, বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, এ প্রকল্পটি শুধু আনোয়ারা নয়, বরং পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সোমবার দুপুরে আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, আজকের এই বিনিয়োগ সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে দাঁড়াবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েছি। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বললেও অবকাঠামোসহ সব বিনিয়োগ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত এ অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হবে বলে প্রত্যাশা রাখছেন।

আমির খসরু আরো বলেন, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুফল শুধু আনোয়ারায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখানে গড়ে উঠবে শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন, বিভিন্ন সেবাখাত। এছাড়া কর্মীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থাও হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু শিল্পকারখানাই নয়, বরং আবাসন, পরিবহন, লজিস্টিকস, সেবাখাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে লাকড়ির ঘরে মিলল এলজি-কার্তুজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


নোয়াখালীতে লাকড়ির ঘরে মিলল এলজি-কার্তুজ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি পরিত্যক্ত একনলা এলজি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের পালপাড়া হাজীবাড়ি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, সোনাইমুড়ী থানার একটি মামলার আসামি মাইন উদ্দিন মামুনকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের পালপাড়া হাজীবাড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার বাড়ির উত্তর পাশে অবস্থিত একটি ভাঙা লাকড়ির ঘর থেকে একটি একনলা এলজি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড কার্তুজ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানে আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজের উৎস এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইংল্যান্ডের একটি নৌ-ঘাঁটিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন। বার্নহাম বলেছেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো কিয়েভের প্রতি যুক্তরাজ্যের ‘অটল’ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা।

এক সপ্তাহ আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর, এই বৈঠকটি বার্নহামের প্রথম বিদেশি নেতার সঙ্গে বৈঠক। তার পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমার দায়িত্ব ছাড়ার পূর্বে কিয়েভ সফর করেছিলেন, যা দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে ঘটেছিল। ২০২২ সালের রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর, জেলেনস্কির সঙ্গে কাজ করা বার্নহাম হচ্ছেন পঞ্চম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

বার্নহাম বলেছেন, “আমাদের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে রাশিয়ার কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকা উচিত নয়; ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত শান্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না।” উল্লেখ্য, বার্নহাম গত নয় বছর গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা সীমিত।

সফরের সময় জেলেনস্কি ও বার্নহাম ২০০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সামরিক সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যারা গত তিন সপ্তাহ ধরে ব্রিটেনে অবস্থান করছেন। যুক্তরাজ্যের সরকারের তথ্যমতে, তারা কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাইন-প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।

বার্নহামের কার্যালয় জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে তাদের নতুন ‘স্টোন ক্লোক’ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিক যুদ্ধ ব্যবস্থার মেধাস্বত্ব হস্তান্তর করবে; এই ব্যবস্থা ড্রোনকে শনাক্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলার কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে এবং অব্যাহতভাবে ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলা লক্ষ্যবস্তু করেছে তেল স্থাপনা, সামরিক কারখানা এবং সম্প্রতি বিভিন্ন লজিস্টিক বা সরবরাহ কেন্দ্রকে। এর ফলে যুদ্ধের অন্ধকার রাশিয়ার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ বেড়েছে।

এই হামলাগুলো পুতিনের সেই দাবিকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন, এই সংঘাত তার দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে পুতিন হাল ছাড়েননি; বরং মস্কো তাদের বিমান হামলা আরও জোরদার করে এবং নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ইউক্রেনে আঘাত করেই চলেছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া আবারও রাতভর ১৪৭টি দূরপাল্লার ড্রোন দ্বারা ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে; এর মধ্যে ১২৩টি ড্রোন ভূপাতিত বা অকার্যকর করা হয়েছে। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, জাপোরিঝিয়া শহরে রাতভর ধারাবাহিক হামলায় একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন; এসব হামলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন ও বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর হানঝা জানিয়েছেন, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের নিকোপোল জেলায় রাশিয়ার হামলায় একটি কিন্ডারগার্টেন, আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এক নারী ও ছয় বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়েছে।

অন্যদিকে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর ইউক্রেনের ২৭৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। রস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন, রস্তভ-অন-ডন শহরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানলে এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। তিনি জানান, শহরটিতে ড্রোন হামলায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বেলগোরোদ শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%