প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইংল্যান্ডের একটি নৌ-ঘাঁটিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন। বার্নহাম বলেছেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো কিয়েভের প্রতি যুক্তরাজ্যের ‘অটল’ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা।
এক সপ্তাহ আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর, এই বৈঠকটি বার্নহামের প্রথম বিদেশি নেতার সঙ্গে বৈঠক। তার পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমার দায়িত্ব ছাড়ার পূর্বে কিয়েভ সফর করেছিলেন, যা দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে ঘটেছিল। ২০২২ সালের রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর, জেলেনস্কির সঙ্গে কাজ করা বার্নহাম হচ্ছেন পঞ্চম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
বার্নহাম বলেছেন, “আমাদের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে রাশিয়ার কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকা উচিত নয়; ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত শান্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না।” উল্লেখ্য, বার্নহাম গত নয় বছর গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা সীমিত।
সফরের সময় জেলেনস্কি ও বার্নহাম ২০০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সামরিক সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যারা গত তিন সপ্তাহ ধরে ব্রিটেনে অবস্থান করছেন। যুক্তরাজ্যের সরকারের তথ্যমতে, তারা কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাইন-প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।
বার্নহামের কার্যালয় জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে তাদের নতুন ‘স্টোন ক্লোক’ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিক যুদ্ধ ব্যবস্থার মেধাস্বত্ব হস্তান্তর করবে; এই ব্যবস্থা ড্রোনকে শনাক্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলার কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে এবং অব্যাহতভাবে ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলা লক্ষ্যবস্তু করেছে তেল স্থাপনা, সামরিক কারখানা এবং সম্প্রতি বিভিন্ন লজিস্টিক বা সরবরাহ কেন্দ্রকে। এর ফলে যুদ্ধের অন্ধকার রাশিয়ার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ বেড়েছে।
এই হামলাগুলো পুতিনের সেই দাবিকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন, এই সংঘাত তার দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে পুতিন হাল ছাড়েননি; বরং মস্কো তাদের বিমান হামলা আরও জোরদার করে এবং নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ইউক্রেনে আঘাত করেই চলেছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া আবারও রাতভর ১৪৭টি দূরপাল্লার ড্রোন দ্বারা ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে; এর মধ্যে ১২৩টি ড্রোন ভূপাতিত বা অকার্যকর করা হয়েছে। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, জাপোরিঝিয়া শহরে রাতভর ধারাবাহিক হামলায় একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন; এসব হামলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন ও বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর হানঝা জানিয়েছেন, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের নিকোপোল জেলায় রাশিয়ার হামলায় একটি কিন্ডারগার্টেন, আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এক নারী ও ছয় বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়েছে।
অন্যদিকে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর ইউক্রেনের ২৭৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। রস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন, রস্তভ-অন-ডন শহরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানলে এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। তিনি জানান, শহরটিতে ড্রোন হামলায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
আঞ্চলিক জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বেলগোরোদ শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন