ঢাকা সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে সফর, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ইং ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩২বাং

সোহেলকে ৫ লাখ, স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা-রামিসার ওয়ারিশরা পাবেন


সোহেলকে ৫ লাখ, স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা-রামিসার ওয়ারিশরা পাবেন

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় আদালত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

এই রায় রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দ্বারা ঘোষণা করা হয়।

সাথে সাথে, আসামি সোহেল রানার জন্য ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনের জন্য ২ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে ৫৬ শিক্ষার্থীর ৫৫ জনই জিপিএ-৫

এই জরিমানার টাকা রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারের (ওয়ারিশ) কাছে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি জরিমানার টাকা প্রদান না করা হয়, তাহলে কালেক্টরেট অফিসকে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে রামিসার আইনগত উত্তরাধিকাররা সেই টাকা পেতে পারে।

গত ১৯ মে, রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে আট বছরের শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর সোহেল রানা এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলাটির তদন্ত শেষে ঘটনার ৫ দিন পরে, ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সেইদিন শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলাটির নথি বদলি করেন এবং ঈদুল আযহার ছুটির কারণে পরবর্তীতে ১ জুন মামলার চার্জগঠনের দিন নির্ধারণ করা হয়।

ঈদের পর ১ জুন মামলার চার্জ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ২ জুন, মামলার ১৭ সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন এবং অন্যান্য স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়। এর পর, ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে ‘ফ্রেশ স্টার্ট’ জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ অভিযান: মাদকসহ ১২ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১২ পি.এম


বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ অভিযান: মাদকসহ ১২ জন গ্রেফতার

বরিশাল মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্দেশ্যে, অপরাধ দমন এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ মোট ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ রোববার (০৭ জুন) বিএমপি মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিশেষ অভিযান ও সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়, গত ০৬ জুন ২০২৬ খ্রি. তারিখ সকাল থেকে শুরু করে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিএমপির ৪টি থানা ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক পৃথক বিশেষ টিম নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।

মাদক উদ্ধার ও গ্রেফতার সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৫৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৩১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ০৫ জন মাদক ব্যবসায়ী হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়াও, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতারের ক্ষেত্রে, আদালতের জিআর ও সিআর মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) ভুক্ত ০৩ জন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে পুলিশ সফলতা দেখিয়েছে।

দায়িত্বে থাকা নিয়মিত মামলার এজাহারনামীয় ০১ জন অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে গ্রেফতারকৃত ০৩ জনকে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিএমপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, মাদক উদ্ধার ও অন্যান্য অপরাধের জন্য গ্রেফতারকৃত সকল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় যথাযথ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাদের আজই আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন, নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বরিশালকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এই ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিএমপির এই কঠোর ও আভিযানিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্ল্যাটে থেকেও রামিসাকে বাঁচাতে পদক্ষেপ নেননি স্বপ্না: বিচারক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


ফ্ল্যাটে থেকেও রামিসাকে বাঁচাতে পদক্ষেপ নেননি স্বপ্না: বিচারক

রাজধানীর পল্লবীর ঘটনা নিয়ে বিচারক জানিয়েছেন যে, রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ফ্ল্যাটে অবস্থান করেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টার সময় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় দিতে শুরু করেন। প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ প্রমাণিত বলে জানিয়ে বিচারক বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে ধরা পড়েছে রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। ফ্ল্যাটে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও রামিসাকে বাঁচাতে স্বপ্না কোনো পদক্ষেপ নেননি। স্বপ্নার সুযোগ থাকলেও তিনি প্রতিরোধের চেষ্টা না করে এই অমানবিক কাজ করেছেন। তাই স্বপ্নাও সোহেল রানার মত একই অপরাধে অপরাধী। তাদের অপরাধ সংশোধিত করার উপযোগী নয়। তাদের কাছে কোনো শিশু নিরাপদ নয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের (মা-বাবা) দেওয়া হবে। আসামিরা যদি এই ক্ষতিপূরণ না দেন, তাতে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে রামিসার পরিবারে দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এদিন বেলা ১১টার কিছুক্ষণ পরে বিচারক এজলাসে রায় পড়া শুরু করেন। রায় পাঠের সময়ে বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, ‘ধর্ষণ শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে।’ এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার সময় প্রথমে স্বপ্নাকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকার আদালতে নিয়ে আসা হয়। রায় ঘোষণার পূর্বে দুজনকে এজলাসে তোলা হয়েছিল। মামলার বিবরণ বলছে, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। এরপর সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিকভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল পুলিশ। এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্কের পরে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যাংকখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


ব্যাংকখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে ব্যাংক খাতেও স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, এ বিষয়ে মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি উল্লেখ করেন, সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার।

রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংকখাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যর মাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী আরো জানান, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসঙ্গতি তুলে ধরে গণমাধ্যম জনসচেতনতা তৈরিতে অবদান রেখেছে। এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় হতে হবে। অতীতে ভুল পরিসংখ্যান ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক চিত্র বিকৃত করা হয়েছে। তাই অর্থনীতির টেকসই বিকাশের স্বার্থে জবাবদিহিতামূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতে সরকারের সংস্কার কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, কিন্তু রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে গণমাধ্যম একা ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারবে না।

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, রাষ্ট্র যদি কোনো তথ্য বিকৃতি বা ম্যানিপুলেশনের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে বাস্তব চিত্র পরিবর্তন করা সহজ হয়ে যায়। তাই কোনো তথ্য প্রকাশের আগে সেটির পেছনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে কি না, সেটাও যাচাই করা প্রয়োজন। গণমাধ্যমকে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ও সুযোগ দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজের আয়নার মতো। সেই আয়না যদি স্বচ্ছ না হয়, তবে তা জনগণের জন্য বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই প্রকৃত পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটাতে গণমাধ্যমকে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সেমিনারে বক্তারা জানান, ব্যাংক খাতের সুশাসনের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। তাই এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামিসা হত্যা মামলার রায় কার্যকর নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৭ পি.এম


রামিসা হত্যা মামলার রায় কার্যকর নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য

রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে। রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ আশা জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, আইনি প্রতিটি ধাপ পার করেই রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। আমরা সবাই এই রায়ে সন্তুষ্ট। আগামীতে আশা করি এই রায়ের বিষয়টি উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে। রায় কার্যকর নিয়ে আইমন্ত্রী বলেন, আইনের স্তরগুলো পার না করে রায় কার্যকর করা হলে প্রশ্ন উঠবে। যেহেতু দোষী উচ্চ আদালতে যেতে চান, সেহেতু সরকার আইনি ধাপ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। তবে, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, এই গোটা অমানবিক ঘটনা এবং তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা বিজ্ঞ আদালত প্রদান করার খবরে দেশের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক হবে। এসময় মন্ত্রী জানান, রামিসা, আছিয়া, রাজন, রাকিবসহ স্পর্শকাতর ও আলোচিত শিশু হত্যা ও সহিংসতার মামলাগুলো উচ্চ আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের এই সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এই অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী (মা-বাবা) পাবেন। আসামিরা এই ক্ষতিপূরণ না দিলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে রামিসার পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এদিন বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে রায় পড়া শুরু করেন। রায় পাঠকালে বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, ‘ধর্ষণ শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে।’ বিচারক উল্লেখ করেন, সুরতহাল রিপোর্টে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে শিশু রামিসাকে হত্যা করার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে প্রধান আসামি সোহেল রানার দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আদালতে সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়েছে। এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সকাল সাড়ে ৮টা দিকে প্রথমে স্বপ্নাকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকার আদালতে আনা হয়েছিল। রায় ঘোষণা করার আগে দুজনকে এজলাসে তোলা হয়েছিল। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক উপায়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। উল্লেখ্য, এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল পুলিশ। এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেয়া হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে সফর, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:১১
জোহর ১২:০৫
আসর ০৪:৪০
মাগরিব ০৬:৩৬
ইশা ০৭:৫২
সূর্যোদয় : ০৫:৩২ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%