মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি প্রতিনিধি
০৫:৫৪ পি.এম
রাঙামাটিতে রুট পারমিটবিহীন মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধের দাবিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি এবং চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।
সংগঠন দুটি জানিয়েছে, যদি আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ২০ আগস্ট থেকে রাঙামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেনের কাছে পৃথকভাবে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এ স্মারকলিপিতে সংগঠন দুটি জানাচ্ছে, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি ১৯৫২ সাল থেকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি রুটসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় নিয়মিত যাত্রী পরিবহন সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি ছাড়াও খাগড়াছড়ি, মহালছড়ি, নানিয়ারচর, বান্দরবান ও রাজস্থলীসহ বিভিন্ন রুটে তাদের গাড়ি চলাচল করছে।
তবে সম্প্রতি অভিযোগ করা হয়েছে যে, রাঙামাটি শহরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে রুট পারমিটবিহীন ছোট মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। সংগঠন দুটি তার দাবি করেছে যে, মালবাহী গাড়িতে এভাবে যাত্রী পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে গত ১৬ আগস্ট মানিকছড়ি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা। সংগঠন দুটির আশঙ্কা, যদি রুট পারমিটবিহীন মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সংগঠনটির অভিযোগ হল, একদিকে রুট পারমিট নিয়ে বৈধভাবে পরিচালিত যাত্রীবাহী পরিবহন চলছে, অন্যদিকে অনুমোদনহীন মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন হচ্ছে—এ পরিস্থিতির কারণে বৈধ পরিবহন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে গাড়ির মালিক ও শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি বৈধ ও অবৈধ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠন দুটি ১৯ আগস্টের মধ্যে রুট পারমিটবিহীন মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছে। অন্যথায় ২০ আগস্ট থেকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি-মহালছড়ি, রাঙামাটি-নানিয়ারচর, রাঙামাটি-বান্দরবান ও রাঙামাটি-রাজস্থলীসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈধ পরিবহন ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি ও চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২৬ : আগামী ২২ আগস্ট থেকে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ঐ টেস্টের প্রথম দিনের সকল টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) নিজেদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের টিকিট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোল্ড আউট’ হয়ে গেছে।’
এছাড়া, টেস্টের বাকি দিনগুলোর টিকিটও দ্রুত বিক্রি হতে চলেছে, বলে জানায় সিএ। এ কারণে দ্রুত টিকিট সংগ্রহ করতে দর্শকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয় অর্জনের ফলে দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমিদের উত্তেজনা ও আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে।
এই ম্যাচ দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাকাইয়ের এটি হবে ১২তম টেস্ট ভেন্যু, যেখানে স্টেডিয়ামের আসনসংখ্যা ১০ হাজার। এখানেই এখনো পর্যন্ত ২টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে এবং ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। এছাড়া, নারীদের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সহ অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরও কিছু ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে বাংলাদেশ টেস্ট জিতেছে। ম্যাচের চারদিন প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্কদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল। ১১ সেশনের কোনটিতে অস্ট্রেলিয়া জয়ী হতে পারেনি।
ম্যাকাই টেস্ট ড্র করতে পারলে এটি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রথমবারের মত টেস্ট সিরিজ জয়ে পৌঁছানোর সুযোগ। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার সাথে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল টাইগারদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি রোবটিকস তাদের জনপ্রিয় রোবট কুকুর তৈরিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অর্থায়নে করা গবেষণার প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। সাবেক এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত তিন গবেষক রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইউনিট্রির জিও২ রোবট কুকুরটি ২০২৩ সালে বাজারে আসে। দাম প্রায় ১ হাজার ৬০০ ডলার। এই রোবটের মাধ্যমে চতুষ্পদী রোবটের বাজারে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ইউনিট্রির আরেকটি রোবটকে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পিএলএ সেনাদের সঙ্গে সামরিক মহড়ায় অস্ত্রসহ দেখা গেছে।
গবেষকদের দাবি, ইউনিট্রির রোবটের প্রযুক্তির পেছনে মার্কিন সামরিক অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন আর্মি রিসার্চ ল্যাবরেটরি চতুষ্পদী রোবটের চলাচল নিয়ে গবেষণা করেছিল। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক গবেষক গ্যাভিন কেনেলি বলেন, ওই গবেষণার প্রযুক্তি পরবর্তী সময়ে ইউনিট্রির প্রথম দিকের রোবট তৈরির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
এমআইটির সাবেক গবেষক বেন কাটজ বলেন, ইউনিট্রির ‘গো’ সিরিজের রোবটের আকার তাঁর তৈরি ‘মিনি চিতা’ রোবটের সঙ্গে প্রায় একই। দুই রোবটের আকারের পার্থক্য মাত্র কয়েক মিলিমিটার বলে তিনি দাবি করেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনা প্রযুক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের প্রতিযোগিতার বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। সরকারি ভর্তুকি, সহজে পাওয়া যন্ত্রাংশ এবং বড় লোকসান সামাল দেওয়ার সক্ষমতার কারণে চীনা কম্পানিগুলো সোলার প্যানেল, ড্রোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও কোয়ান্টাম যোগাযোগসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি খাতে দ্রুত এগিয়েছে। কেনেলি পরে তার ঘোস্ট রোবোটিক্স কম্পানির মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগান। তবে ইউনিট্রির তুলনায় তাদের উৎপাদন কম এবং খরচও বেশি।
গত জুনে পেন্টাগন ইউনিট্রিকে চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত করে। তবে এর কারণে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। ইউনিট্রি বলেছে, তাদের রোবটগুলো বেসামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি। গবেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক গবেষণার ফলাফল ব্যবহার করে ইউনিট্রি কোনো অন্যায় করেনি। কারণ, প্রযুক্তির উন্নয়ন দ্রুত করতে ওই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ্যেই দেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন আর্মি রিসার্চ ল্যাবরেটরির মুখপাত্র আমান্ডা লিগন বলেন, ওই গবেষণা মার্কিন রোবোটিক্স খাতকে শক্তিশালী করেছে এবং পরবর্তী সরকারি-বেসরকারি গবেষণায়ও এর প্রভাব পড়েছে। তবে ইউনিট্রি কীভাবে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি।
কম্পানির নথি অনুযায়ী, ইউনিট্রি গত বছর ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি হিউমানয়েড এবং ১৮ হাজার চতুষ্পদী রোবট বিক্রি করেছে। বুধবার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কম্পানিটির মূল্য প্রায় ৯০০ কোটি ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইলন মাস্কের টেসলাসহ কোনো মার্কিন কম্পানি এখনো এ ধরনের রোবট বড় পরিসরে উৎপাদন করতে পারেনি। যদিও টেসলা কয়েক বছর ধরে তাদের অপটিমাস হিউমানয়েড রোবটের বিভিন্ন নমুনা দেখিয়ে আসছে। গত জানুয়ারিতে এক আয়-সংক্রান্ত আলোচনায় মাস্ক চীনের উৎপাদন সক্ষমতাকে ‘অবিশ্বাস্যভাবে দক্ষ’ বলে মন্তব্য করেন।
মার্কিন রোবট নির্মাতা বস্টন ডায়নামিক্সের ‘স্পট’ রোবটও বেশ পরিচিত। ২০১৯ সালে তৈরি এই রোবটটি ইউনিট্রির রোবটের চেয়ে ভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে বস্টন ডায়নামিক্স সতর্ক করে বলেছে, চীনা কম্পানিগুলোর কম দামের রোবটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে না পারলে মার্কিন কম্পানিগুলো বাজার থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা মার্কিন রোবটিক্স গবেষকেরা সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল গোপন রাখার পক্ষে মত দেননি। বরং তাদের মতে, চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের উচিত এসব গবেষণার ফল দ্রুত বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা। তাহলে মার্কিন কম্পানিগুলো নতুন প্রযুক্তি দ্রুত বাজারে আনতে পারবে এবং চীনা কম্পানিগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে।
যুক্তরাষ্ট্র রোবট তৈরির প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকলেও চীন এসব প্রযুক্তি দ্রুত বড় পরিসরে উৎপাদন করে বাজার দখল করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের শক্তিশালী শিল্পভিত্তি, কম খরচে যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং বড় বিনিয়োগ এ ক্ষেত্রে বড় সুবিধা দিচ্ছে।
২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনীর অর্থায়নে রোবোটিক্স কোলাবোরেটিভ টেকনোলজি অ্যালায়েন্স (আরসিটিএ) নামে একটি গবেষণা প্রকল্প চলেছিল। এতে পেনসিলভালনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইটি, বস্টন ডায়নামিক্স ও নাসার গবেষকেরা কাজ করেন।
২০১৬ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা রোবটের ভারী গিয়ারবক্স বাদ দিয়ে পায়ের মধ্যে মোটর বসানোর প্রযুক্তি উন্নত করেন। এতে রোবট বিভিন্ন ধরনের মাটিতে সহজে চলতে ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এই গবেষণার ভিত্তি ছিল এমআইটির একটি প্রকল্প, যা ডিএআরপিএর অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছিল।
২০১৯ সালে এমআইটি ‘মিনি চিতা’ নামে একটি রোবট তৈরি করে। এটি শক্তিশালী ছিল এবং পেছনের দিকে ডিগবাজিও দিতে পারত। রোবটটির অ্যাকচুয়েটরের নকশা নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই চীনা কোম্পানিগুলো একই ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি শুরু করে। এমনকি সেগুলো অনলাইনে বিক্রিও হচ্ছিল।
চীনের ইউনিট্রি ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ওয়াং শিংশিং তাঁর মাস্টার্সের গবেষণাপত্রে এমআইটির চিতা রোবট নিয়ে করা গবেষণার উল্লেখ করেন এবং ওই গবেষণার অবদানকে ‘অগ্রগামী’ বলে স্বীকার করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন গবেষণা প্রকাশ্যে আসায় চীনা কম্পানিগুলো সেসব প্রযুক্তি দ্রুত কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, শুধু প্রযুক্তি অনুসরণ করলেই সাফল্য আসে না। সেটিকে কম খরচে এবং বড় পরিসরে উৎপাদন করার সক্ষমতাও প্রয়োজন।
বর্তমানে ইউনিট্রি সেই উৎপাদন সক্ষমতার বড় উদাহরণ। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রে রোবট তৈরির গবেষণা শক্তিশালী হলেও সেগুলো ব্যাপক বাণিজ্যিক উৎপাদনে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটি এখনো পিছিয়ে রয়েছে।
ইউনিট্রির প্রতিষ্ঠাতা ওয়াং শিংশিং তাঁর মাস্টার্সের গবেষণাপত্রে রোবটের নকশায় কিছু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, পরিবার ও শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর গবেষণাপত্রে মার্কিন সেনাবাহিনীর অর্থায়নে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের করা গবেষণারও উল্লেখ ছিল।
ইউনিট্রি জানিয়েছে, তাদের চতুষ্পদী রোবটের মোটর, গিয়ার, কন্ট্রোলার ও কিছু সেন্সর তারা নিজেরাই তৈরি করে। এদিকে এমআইটির গবেষক বেন কাটজ বলেন, তিনি নিজের তৈরি রোবটের অ্যাকচুয়েটর বাজারে আনার উদ্যোগ নেননি। তখন তিনি মনে করেছিলেন, এর তেমন বাজার নেই। তাঁর মতে, চীনের দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার সক্ষমতা রোবোটিক্স শিল্পে বড় সুবিধা তৈরি করেছে। সহজে অ্যাকচুয়েটর পাওয়া যাওয়ায় চীনে রোবট তৈরির কাজও দ্রুত এগিয়েছে।
এমআইটির আরেক গবেষক জোয়াও রামোস বলেন, ইউনিট্রির রোবটের আকার, কাঠামো ও নকশার সঙ্গে মিনি চিতা রোবটের মিল রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইউনিট্রির প্রকৌশল দক্ষতার প্রশংসা করেন। রামোসের মতে, প্রযুক্তিকে বাস্তব পণ্যে রূপ দেওয়া এবং সেটি বড় পরিসরে উৎপাদন করার কৃতিত্ব ইউনিট্রির।
চতুষ্পদী রোবট এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন, দুই দেশই সামরিক কাজে এসব রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। গত অক্টোবরে চীনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) একটি সামরিক মহড়ার ভিডিওতে ‘রোবট উলফ’ নামের চতুষ্পদী রোবট দেখা যায়। ওই মহড়ায় সৈকতে অবতরণের অনুশীলন করা হচ্ছিল।
ইউনিট্রি অবশ্য বলেছে, তাদের রোবট বেসামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি। ২০২২ সালে কয়েকটি মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে একটি খোলা চিঠিতে সই করে তারা রোবটকে অস্ত্রসজ্জিত না করার অঙ্গীকারও করেছিল। এতে অস্ত্রসজ্জিত রোবটের সম্ভাব্য ক্ষতি ও নৈতিক ঝুঁকির কথা বলা হয়।
তবে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভিডিওতে ইউনিট্রির জিও২ রোবট এবং বি১ সিরিজের একটি পরিবর্তিত রোবটকে চীনা সেনাদের সঙ্গে সামরিক মহড়ায় দেখা গেছে। একটি রোবটের ওপর অ্যাসল্ট রাইফেল বসিয়ে গুলি চালাতেও দেখা যায়।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন সেনাবাহিনী দুটি ইউনিট্রি গো২ রোবট কেনার জন্য বিশেষ অনুমোদন নেয়। সরকারি নথিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে একই মানের পর্যাপ্ত বিকল্প রোবট না থাকায় এগুলো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত রোবট দুটি কেনা হয়েছিল কি না, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। ওই মাসের শেষ দিকে মার্কিন মেরিন সেনারাও একটি ইউনিট্রি গো১ রোবটের সঙ্গে রকেট লঞ্চার যুক্ত করে দূর থেকে গুলি চালানোর মহড়া চালায়।
মার্কিন কোম্পানি ঘোস্ট রোবোটিক্স এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ভিশন ৬০ রোবট সরবরাহ করেছে। এসব রোবটের বেশির ভাগই সামরিক ও সরকারি সংস্থাগুলো নজরদারি এবং কঠিন পরিবেশে অনুসন্ধানের কাজে ব্যবহার করছে। কম্পানিটির প্রথম গ্রাহক ছিল মার্কিন নেভি সিলের তত্ত্বাবধানকারী নেভি স্পেশাল ওয়ারফেয়ার কমান্ড।
ভিশন ৬০-এর কিছু যন্ত্রাংশ এখনো চীনে তৈরি হয়। তবে সরবরাহব্যবস্থা অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে ঘোস্ট রোবোটিক্স। প্রতিটি ভিশন ৬০ রোবটের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলারের বেশি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইউনিট্রির বি সিরিজের রোবটের দাম ১ লাখ ডলারের কম।
ঘোস্ট রোবটিকেসের প্রতিষ্ঠাতা গ্যাভিন কেনেলি বলেন, প্রায় দুই বছর আগে কম্পানিটি মোটরের সরবরাহ চীন থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় সরিয়ে নিয়েছে। তবে চীনা চুম্বক ও কিছু ধাতব উপাদানের ওপর নির্ভরতা কমানো এখনো কঠিন।
কেনেলির মতে, রোবট তৈরিতে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রকে তার মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে হবে। কারণ, এসব পণ্য তৈরির সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে নেই। ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এলআইজি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ২৪ কোটি ডলারে ঘোস্ট রোবটিকসের ৬০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। কেনেলি জানান, তার কম্পানি তাইওয়ানে উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে। তাদের ছাড়া সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোহিঙ্গা ইস্যুর প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক বিবৃতির ভুল তথ্যের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের পরিসংখ্যান নিয়ে অসত্য তথ্য তুলে ধরায় তারা এই অবস্থান গ্রহণ করেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান এই উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান।
বৈঠকে মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান গত ১৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই বিবৃতির অনেক তথ্যই ভুল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে দেয়া হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংখ্যার বিষয়টি এতে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীন নিবন্ধিত সংখ্যাই যে এই জনগোষ্ঠীর সঠিক তথ্য প্রতিফলিত করে, তা তিনি স্পষ্ট করে জানান।
মহাপরিচালক তখন রাষ্ট্রদূতের প্রতি অনুরোধ জানান যৌথ দ্বিপক্ষীয় কাঠামো ও নথির ভিত্তিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য। এ সময় কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া নতুন শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন রাজ্যের চলমান সহিংসতা ও সহিংস পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদেরও যাচাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে জানা যায়, বাংলাদেশ বর্তমানে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করছে। এর আগে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার বাইরে থাকা এই অতিরিক্ত তথ্য শিগগিরই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। তিনি অনুরোধ জানান, এই অতিরিক্ত তথ্যগুলো যেন যাচাই প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এছাড়াও রোহিঙ্গাদের পরিচয় সংক্রান্ত ঐতিহাসিক সত্যতা উল্লেখ করে মহাপরিচালক পুনর্ব্যক্ত করেন, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়। তাদের নির্দিষ্ট জাতিগত পরিচয় রয়েছে, যা সাম্প্রতিককালে মিয়ানমার সরকারও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে এসেছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ে বাংলাদেশে এসব উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ নিজ দেশের সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে জানান। তিনি এও বলেন, যাচাই সম্পন্ন হওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কাজ দ্রুত শুরু করতে তাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভিটেমাটি রাখাইনে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের একমাত্র ও টেকসই সমাধান সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারি চাকরি শুধুমাত্র একটি পেশা নয়; এটি জনগণের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি উল্লেখ করেন যে, একজন কর্মকর্তা যদি তাঁর কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তবে তা সরকারি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগের আয়োজনে সম্প্রতি পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, একটি মন্ত্রণালয়ের সফলতা কেবল মন্ত্রী, সচিব বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একার ওপর নির্ভর করে না; প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে একটি মন্ত্রণালয় সফলভাবে পরিচালিত হতে পারে।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন কর্মচারী যদি মন্ত্রীর জন্য চা পরিবেশন করেন বা তাঁর দরজা খুলে দেন, তিনিও নিজ নিজ জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে তাঁর অবদান প্রমাণিত হয়। তাই প্রত্যেকের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি কর্মকর্তাদের জন্য যেমন আনন্দ ও গৌরবের বিষয়, তেমনি এর সঙ্গে দায়িত্বও বৃদ্ধি পায়। নতুন পদে কর্মকর্তাদের আরও বেশি নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা এবং অবদানের জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের কর্মনিষ্ঠা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মকর্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যতের কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম, অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসসহ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ