০৪:১৭ পি.এম
গত সপ্তাহে বোমা হামলা স্থগিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে ফের সামরিক অভিযান চালাতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার সৌদি আরবের সহযোগিতায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন।
একই সময়ে, হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে ওমানের দেওয়া প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব জানায়, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতের স্টেট ব্যাংকে সাইবার হামলা, ৩৮৯৭ গ্রাহকের তথ্য ফাঁস
ইরান-সমর্থিত ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলায় তাদের দেশের কয়েকটি ঘাঁটিতে অন্তত ২০ জন সদস্য নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৩ দিনের টানা বোমা হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় সামরিক অভিযান। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের পরামর্শে তখন ওই অভিযান বন্ধ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ হামলা সংঘাতকে আরো বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। কারণ, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি প্রথমবার সৌদি আরব প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
ইরাকের শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার জরুরি বৈঠক ডেকেছে। দেশটি একদিকে ইরান এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের সঙ্গেই সামরিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: বিএনপি দিল্লির মাধ্যমে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
এদিকে, ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজ এবং জর্দানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। জর্দানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৫টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা জর্দানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অননুমোদিত পথ’ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করা তিনটি তেলবাহী জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তারা।
হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার জন্য ওমানের দেওয়া প্রস্তাবটি ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ওমানের সঙ্গে ৫০-৫০ ভিত্তিতে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি করা ইরানের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইরান চায়, প্রণালির প্রবেশমুখে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং বহির্গমনপথে আংশিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে।
মার্কিন প্রশাসন এদিকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানি উপকূল এড়িয়ে ওমানের উপকূলের সঙ্গী পথ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। এর জবাবে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘অবৈধ সামরিক হস্তক্ষেপের’ জবাব দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: শীতের আগেই ইউরোপে গ্যাসের দাম রেকর্ড, তীব্র হচ্ছে জ্বালানি সংকট
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। বুধবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়ে আবার ৮৭ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। গত সপ্তাহে দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও ট্রাম্পের বোমা হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর তা কিছুটা কমে এসেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন