ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত রিকশাচালক


সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত রিকশাচালক

রাজধানীর পল্টন কালভার্ট রোডে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) সিবগাতুল্লাহর মালিকানাধীন গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক রিকশাচালক।

এ দুর্ঘটনা ঘটেছে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে।

আহত রিকশাচালকের পরিচয় সুলতান (৬০) হিসেবে জানা গেছে। তাকে উদ্ধার করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৪-৭ নভেম্বর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, সারা দেশে স্বল্পচাপ থাকবে

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পল্টন টাওয়ার থেকে প্রায় ১০০ মিটার ডান দিকে শাখা সড়কে গাড়িটি একটি রিকশাকে পাশ থেকে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনায় রিকশাচালক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিবগাতুল্লাহর ছেলে।

পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গাড়িটির মালিক পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সিবগাতুল্লাহ। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সিবগাতুল্লাহর ব্যক্তিগত গাড়িটির সামনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর গাড়িটি জব্দ করে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: শাহজালালে ১৬৫ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২২,৯১৭ যাত্রী

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান জানান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় এক রিকশাচালক আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ওসি আরো বলেন, ‘সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়িটি পল্টন থানা হেফাজতে আছে। আমরাও জানতে পেরেছি তাঁর ছেলে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। তবে এখনো এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীপকে সন্দেহ, সঙ্গের তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ এম


দীপকে সন্দেহ, সঙ্গের তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ

বিমান বাহিনীর বরখাস্ত হওয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার তদন্তে পুলিশ নানামুখী তথ্য সংগ্রহ করছে। নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। তাহসিফের উত্তরার বাসা থেকে বের হয়ে যেসব স্থানে গিয়েছেন, সেগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তারা কথিত ‘ধাওয়া দেওয়া’ সেই টহল পুলিশের দলের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

তদন্তে দেখা যায়, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোডের ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় অবস্থান করেন তাহসিফ ও তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার জামান দীপ। ওই সময় তাদের সঙ্গে ২৪-২৫ বছর বয়সি এক তরুণীও ছিল। তার নাম-পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও পুলিশ তদন্তের স্বার্থে পরিচয় প্রকাশ করেনি। গত শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের করা মামলায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

ছায়া তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, গত সোমবার রাতে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় টহল পুলিশের একটি দলের সঙ্গে দীপের দেখা হয়। তার গায়ে নোংরা আবর্জনা লেগেছিল। টহল পুলিশের একজন সদস্য জানিয়েছেন, দীপের গায়ে আবর্জনা লেগে থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সে নিজেকে সেনাবাহিনীর ‘ক্যাপ্টেন’ পরিচয় দেয়। এরপর পুলিশ তাকে জেরা না করে ওই এলাকা থেকে চলে যেতে বলে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, তারা কয়েকটি স্থানের অনেক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তাহসিফ ও দীপের কললিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অ্যাপে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল, সেসব তথ্য নেওয়া হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে না।

নেস্ট বারে একঘণ্টা

ঘটনার দিন নেস্ট বারে প্রায় একঘণ্টা অবস্থান করেন তাহসিফ। তার সঙ্গে থাকা তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে বারে তাহসিফকে ওই নারীর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তারা সেখানে তিন বোতল মদ কিনেন ও পান করেন।

পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার রাতে মোটরসাইকেলে চড়ে নেস্ট বারে আসেন তাহসিফ। তিনি মোটরসাইকেলে চড়ে চলে যান। এ সময় তার সঙ্গে এক তরুণী ছিলেন। তারা ওই বার থেকে তিন বোতল মদ কিনে পান করেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তির দিকে যান।

দীপ জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন, সেখানে টহল পুলিশের একটি দল মাদক সেবনের অভিযোগে তাদের ধাওয়া করেছিল। ওই সময় দীপ একদিকে ও তাহসিফ অন্যদিকে দৌড় দেন।

পুলিশের সংগ্রহ করা বারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই তরুণী গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস পরিহিত ছিলেন। বারে প্রবেশের সময় তার হাতে একটি সাদা রঙের পলিথিন ছিল। এ সময় হেলমেট পরিহিত তাহসিফের বন্ধু দীপও তার সঙ্গে ছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য, ওই নারীকে আটক করা গেলে এ ঘটনার আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া যাবে।

তদন্ত সংস্থা নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মাসুমা আক্তার আমার দেশকে বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার দীপকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখা হবে।

টহল দলকে জিজ্ঞাসাবাদ

তদন্ত সংস্থা তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ওই রাতে টহলে থাকা টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের দলটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। টহল দলের সদস্যরা জানান, দীপের শরীরে নোংরা-আবর্জনা লাগা ছিল। তাকে দেখে সন্দেহ হলে টহল পুলিশের এক সদস্য দীপকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় সে নিজেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দেয়।

টহল দলের ওই সদস্য জিজ্ঞাসাবাদে জানান, দীপের প্যান্টের নিচের অংশ ও জুতায় কাদা, ময়লা পানি, এমনকি মলমূত্রও লেগে ছিল। কিন্তু দীপ নিজেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দেওয়ায় টহল দলের সদস্যরা কথা না বাড়িয়ে তাকে ওই এলাকা থেকে চলে যেতে বলে।

পিবিআইয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার রাতের ঘটনা নিয়ে দীপ যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, টহল পুলিশের সদস্যদের সাক্ষ্য এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে গরমিল দেখা যাচ্ছে। ঘটনার রাতে দীপ ও তাহসিফ দুজন টঙ্গীর হাজি মাজার বস্তির গেট এলাকায় প্রবেশ করেন এবং একাধিকবার ওই এলাকায় যাওয়া-আসা করেন।

প্রাথমিক তদন্তে সেখানে তাদের ইয়াবা অথবা হেরোইন সেবনের তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তারা জানান, টঙ্গীর ইজতেমা মাঠের বিদেশি মেহমানখানার পাশের ওই এলাকায় ভাসমান মাদক বিক্রেতারা মাদকদ্রব্য বিক্রি করে থাকে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা তাহসিফ ও দীপ সেখানে বসে মাদক সেবন করেছেন।

দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ তাদের মাদকসেবী ভেবে ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং দীপ ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পাশে লুকিয়ে থেকে পরে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পিবিআই সূত্রের দাবি, দীপের দেওয়া এমন বক্তব্যের সঙ্গেও বাস্তব ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না। দীপকে যখন টহল পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে এ সময়ের আগের সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ওই কাছাকাছি সময়ে তাহসিফের ফোন থেকে তার মাকে ভয়েস মেসেজ দিয়ে বলা হয় বাসায় আসছি। আবার দীপও তার মোহাম্মদপুরের বাসার দারোয়ানকে ফোন করে বলে, বাসায় ফিরতে একটু দেরি হবে। তাই গেট খোলা রাখার অনুরোধ করে সে।

ওই সময়গুলোর সমন্বয় ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য পেতে দুজনেরই মোবাইল ফোনের ফরেনসিকে পাঠিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তাদের সন্দেহ দীপ একা কিংবা অন্য কারো সহযোগিতায় তাহসিফকে হত্যা করে থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ধস্তাধস্তির সময় তার পোশাকে কাদা ও ময়লা পানি লাগতে পারে। অথবা অন্য কোনোভাবে তার শরীরে এসব ময়লা লেগেছে।

তবে এর প্রকৃত কারণ জানতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে দীপের দেওয়া বক্তব্যকে এখনই বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না তারা।

দীপ চার দিনের রিমান্ডে

তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে হাজতখানায় রাখা হয়।

সংস্থাটির ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা করার পর দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তাহসিফ সাউরি মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর উত্তরখান থানায় করা হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে এ আদেশ দেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে আইনজীবী আজিজুল হক দিদার সাংবাদিকদের জানান, ভিকটিম (তাহসিফ) যে হত্যা হয়েছে, তিনিই শেখ হাসিনা পালানোর ছবিটা তুলেছিলেন, সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। এসব কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, এর সঙ্গে কেউ সম্পৃক্ত আছে কি না এবং কারা কারা তাকে হত্যা করেছে, কি পরিকল্পনায় হত্যা হয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আসামির সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন হয়।

তাহসিফের লাইফস্টাইল

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাহসিফের লাইফস্টাইল তারা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, তাহসিফ একেবারেই অনিয়ন্ত্রিত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতেন। মদপান, একাধিক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক ও সমকামী তরুণদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তে প্রাধান্য পাচ্ছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য মিলিয়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। নৌপুলিশকে সহযোগিতা করছে পিবিআই।

তাহসিফের বাসায় রাওয়া নেতারা

এদিকে শনিবার রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) একটি প্রতিনিধিদল তাহসিফ সাউরির বাসায় যান। দলের নেতৃত্বে ছিলেন রাওয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) আবু নাওয়াজ খুরশিদ আলম। আরো ছিলেন-রাওয়া সদস্য মেজর (অব.) আল-আমিনসহ কয়েকজন। রাওয়া নেতারা তাহসিফ সাউরির বাসার সঙ্গে কথা বলে তাকে সান্ত্বনা দেন। এছাড়াও ঘটনার সঠিক তদন্ত ও রহস্য উদঘাটনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গত মঙ্গলবার উত্তরার রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের বাসা থেকে বের হন বিমান বাহিনীর বরখাস্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ। পরদিন বিকালে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। এ সময় তার পকেটে থাকা আই ফোনের সূত্র ধরে তাহসিফের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

গত শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে থাকা দীপকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে নৌপুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মাসুমা পেলেন এ গ্রেড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ এম


বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মাসুমা পেলেন এ গ্রেড

বাবার মরদেহ তখনো বাড়িতে ছিল। চারপাশে স্বজনদের কান্না এবং শোকের মাতম ছিল। এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মধ্যেও বাবার স্বপ্ন পূরণের আশায় যশোরের বেনাপোলের মেধাবী শিক্ষার্থী আফিয়া মাসুমা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। বুকভরা কষ্ট এবং চোখের জল নিয়ে একের পর এক পরীক্ষা শেষ করে অবশেষে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ গ্রেড অর্জন করেছেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তার এই সাফল্য পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আফিয়া মাসুমা শার্শা উপজেলা কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি বেনাপোল পোর্ট থানার নামাজ গ্রামের প্রয়াত ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক আব্দুস সামাদের ছোট মেয়ে। মৃত আব্দুস সামাদ (৬৪) ছিলেন বেনাপোলের মেসার্স তাজমহল ট্রান্সপোর্ট ও হাজী মুছা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী।

আফিয়া মাসুমার চাচা গফুর জানান, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় আব্দুস সামাদ স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। ওই রাতেই মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরদিন সকালে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই বেনাপোল কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যান মাসুমা। মেয়ের পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যরা তার বাবার দাফনের সময় পিছিয়ে দেন। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার দাফনে অংশ নেন মাসুমা। এরপর বাবাকে হারানোর গভীর শোক বুকে নিয়েই বাকি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করেন তিনি।

ফলাফল প্রকাশের পর আবেগাপ্লুত মাসুমা জানান, তার বাবা সব সময় চাইতেন তিনি ভালো ফলাফল করুক। পরীক্ষার সময় বাবাকে হারানো ছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবেই নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

মাসুমা বলেন, ‘আমি আরও ভালো ফলাফল করতে পারতাম। পরীক্ষার খাতায় লিখতে গিয়ে বারবার বাবার মুখটা ভেসে আসছিল। বাবা বেঁচে থাকলে আমার এই ফলাফল দেখে খুব খুশি হতেন।’

বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে মাসুমা জানান, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে চান তিনি।

শার্শা উপজেলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাসানউজ্জামান বলেন, মাসুমা শুরু থেকেই মেধাবী এবং পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার ভালো ফলাফলের বিষয়ে শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল। বাবার মৃত্যুর মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ গ্রেড অর্জন করা তার মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় বহন করে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলে মাসুমা জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারত বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা তার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করি।’

শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাবাকে হারানোর শোক নিয়েও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাসুমার ভালো ফলাফল করা প্রশংসনীয়। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তার পরিবার সহযোগিতা চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে। বাবার মৃত্যুর পরদিনই পরীক্ষার হলে বসা, বুকের ভেতর অসহনীয় কষ্ট নিয়ে পরীক্ষা শেষ করা; সবকিছু পেরিয়ে মাসুমার এই ফলাফল শুধুমাত্র একটি শিক্ষাগত অর্জন নয়, বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও দায়িত্ব ও স্বপ্নের প্রতি অবিচল থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বাবা নেই, কিন্তু বাবার স্বপ্ন বেঁচে আছে মেয়ের হৃদয়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত, খাদে পড়ে আহত ৩০ নেতাকর্মী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ এম


জামায়াতের বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত, খাদে পড়ে আহত ৩০ নেতাকর্মী

খুলনা থেকে লংমার্চে অংশগ্রহণ করে ফেরার সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বহনকারী একটি বাসের ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এই ঘটনায় বাসে থাকা জামায়াত-শিবিরের ৩০ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মির্জাপুর বাজার এলাকায়। নিহত পথচারীর নাম আব্দুল খালেক (৭০)। তিনি পাটকেলঘাটা থানার খলিষখালী ইউনিয়নের কাশেডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জেল হোসেন জানান, আব্দুল খালেক নিহত হন সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায়। খুলনা থেকে লংমার্চে অংশ নিয়ে ফেরার সময় একটি বাস তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুল এবং পাটকেলঘাটা থানার ওসি তোফাজ্জেল হোসেন।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, ‘খুলনার লংমার্চ শেষে আসার পথে মির্জাপুর এলাকায় ওই বৃদ্ধাকে বাঁচাতে জামায়াত নেতা-কর্মী থাকা একটি বাস খাদে পড়ে যায়। এ সময় আমাদের অন্তত ৩০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা সকলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ ঢাকার যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৫ এম


আজ ঢাকার যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে

ঢাকাতে প্রতিদিনই কেনাকাটার জন্য কোথাও না কোথাও যেতে হয়। তবে, মার্কেটে যাওয়ার পূর্বে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনটি জানা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, বিড়ম্বনায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

রোববার (১ নভেম্বর) তারিখে কোন কোন মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে, তা দেখে নিন।

বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট

বিসিএস কম্পিউটার সিটি (আইডিবি), পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লি, ইব্রাহীমপুর বাজার, রজনীগন্ধা মার্কেট, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ এবং ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোড়ান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স এবং মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেট।

যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ

আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট অঞ্চল, তেজগাঁও শিল্প অঞ্চল, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী বাণিজ্যিক অঞ্চল, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাল অঞ্চল, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ীর একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া ও রায়েরবাগ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%