ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিই এখনো চূড়ান্ত নয়: ইরান


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিই এখনো চূড়ান্ত নয়: ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চুক্তি নিয়ে এখনো ‘কিছুই চূড়ান্ত হয়নি’ এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত নিউজ চ্যানেলে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইরান এখনো কোনো চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির খসড়ার বেশির ভাগ অংশ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি করছে এবং নতুন নতুন অনুরোধ যোগ করছে। ইসমাইল বাঘাই জানান, পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

জ্বালানিসহ বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ প্রণালিকে তুলনামূলক ‘কম নিরাপদ’ করে তুলেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান এবং চূড়ান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ অনুমোদন করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরানে ‘খুবই কঠিন’ হামলার যে হুমকি দিয়েছিলেন, সেই পরিকল্পনা স্থগিতের ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার নিজে ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প জানান, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ চুক্তির বিষয়গুলো এবং সেগুলোকে বিস্তারিতভাবে অনুমোদন করেছে।

পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সপ্তাহান্তে ইউরোপের কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের এ চুক্তি সই হতে পারে। তবে তিনি এ আয়োজনে থাকতে পারবেন না, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স থাকবেন।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের কিছু পরেই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হবে। তবে ট্রাম্পের এসব দাবির পর ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হলো, কিছুই এখনো চূড়ান্ত নয়।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬৭ জন সেরা করদাতার জন্য সম্মাননা ও বিশেষ সুবিধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ এম


৬৭ জন সেরা করদাতার জন্য সম্মাননা ও বিশেষ সুবিধা

সরকার ‘সেরা করদাতা পুরস্কার নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যার লক্ষ্য হলো কর প্রদানে উৎসাহ তৈরি করা এবং করদাতাদের সামাজিকভাবে সম্মানিত করা। নতুন এ নীতিমালার আওতায় খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী ৬৭ জনকে ‘সেরা করদাতা’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে।

এ ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যা বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে প্রকাশিত হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, করদাতাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদান করা, যাতে করে তারা সামাজিকভাবে সম্মানিত হন এবং অন্যদের কর প্রদানে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ‘সেরা করদাতা পুরস্কার নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে মোট ৬৭ জন সেরা করদাতাকে পুরস্কার প্রদান করা হবে, যার মধ্যে খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ ২২টি পুরস্কার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সেরা করদাতা ব্যক্তিরা বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা পাবেন, যেমন জাতীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ, জেলা ও জাতীয় পর্যায়রে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ, সার্কিট হাউসে অগ্রাধিকার, সরকারি হাসপাতালে কেবিন সুবিধা, যানবাহনে টিকেট অগ্রাধিকার এবং বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ। তাদের ক্রীড়া প্রদর্শনীতে টিকেট প্রাপ্তিতেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং এটি বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকার প্রস্তাবসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎসের মাধ্যমে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রযুক্তি খাতে বছরে ২ লাখ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ এম


প্রযুক্তি খাতে বছরে ২ লাখ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা

অটোমেশন এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উদ্দেশ্যে প্রযুক্তি খাতে প্রতি বছর ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এ বাজেট স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় অংকের বাজেট হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে ফ্রিল্যান্সিং এবং ক্রিয়েটিভ সেক্টরে ব্যাপক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও ৮ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল সার্ভিসিং, কেয়ারগিভিং এবং ভাষা প্রশিক্ষণের সাহায্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’

এছাড়া, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দক্ষ এবং উপযোগী মানবসম্পদ তৈরিতে একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন আমির খসরু।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকার ক্রমান্বয়ে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সেই লক্ষ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ (সংশোধিত) ২৭.২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার এবং পরিচালন ব্যয় চলতি অর্থবছরের ৭২.৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগামী অর্থবছরে ৬৬.৩০ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে অপরিহার্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, গবেষণা এবং প্রযুক্তি খাত ও তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে মোট ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ২৯.৭৪ শতাংশ। ভৌত অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৮.৬৬ শতাংশ। সাধারণ সেবা খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৬.১৩ শতাংশ। সামাজিক খাতের বর্ধিত ও সর্বোচ্চ ব্যয় প্রস্তাব সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার প্রদানের প্রতিফলন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে। বর্তমান ২০২৩-২৬ অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগামী অর্থবছরে ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়কালীন ব্যাপকভাবে ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের ঋণ পরিশোধ এবং সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় অত্যধিক পরিমাণে বেড়ে গেছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর ফলে বাজেট ঘাটতিও বাড়ছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ২.৯ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৪.০৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্ন সমৃদ্ধ খাতে সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়ন করছে বলেও জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে বিনিয়োগের গুণগত মান নিশ্চিত হবে, অর্থ প্রবাহ বাড়বে এবং এর মাল্টিপ্লায়ার প্রভাবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরও গতিশীল হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক বহাল রাখার নির্দেশ আপিল আদালতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১০ এম


ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক বহাল রাখার নির্দেশ আপিল আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরোপ করা ১০ শতাংশ বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক আপাতত বহাল থাকবে বলে মন্তব্য করেছে একটি ফেডারেল আপিল আদালত। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে, তবে আদালত সরকারের এই শুল্ক আদায় চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি প্রদান করেছে।

বৃহস্পতিবার যে রায়টি দেওয়া হয়েছে, তাতে ওয়াশিংটনের অবস্থিত ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত জানিয়েছেন, এই মামলা এখনো নিষ্পত্তিশীল। তবে এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সফল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে বর্তমান সরকার আপাতত ফেব্রুয়ারিতে আরোপ করা ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখার সুযোগ পাবে।

এই শুল্কটি মার্চে আরোপ করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বছরের আরোপিত উচ্চহারের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করার পরে। সেসময়, ট্রাম্প लगभग সব দেশের বিষয়ে দ্বিগুণ অঙ্কের শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা পরে আদালতের মাধ্যমে খারিজ হয়ে যায়। এরপর ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা ব্যবহার করে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করা হয়।

আইনের ঐ ১২২ ধারা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৈশ্বিক শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এর অধিক সময় শুল্ক চালু রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এ প্রসঙ্গে বলে রাখা প্রয়োজন যে, এই ধারাটি পূর্বে কখনো আমদানি শুল্ক আরোপের জন্য ব্যবহৃত হয়নি।

এই আইনটির প্রয়োগ সম্পর্কিত বিষয়টি নিয়ে মূল বিরোধ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি—যার অর্থ হচ্ছে আমদানি বেশি এবং রপ্তানি কম—এই আইনের আওতায় পড়ে। কিন্তু কিছু সমালোচকরা বলছেন, এই আইনটি মূলত আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের জন্য গুরুতর সংকটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সাধারণ বাণিজ্য ঘাটতির জন্য নয়।

গত মাসে নিউইয়র্কের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ ছোট ব্যবসায়ীদের দায়ের করা মামলায় রায় দিয়েছে যে, এই শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালতের ২-১ ভোটে রায়ে বলা হয়েছে, এই শুল্ক ‘অবৈধ’ এবং ‘আইনের অনুমোদনবিহীন’ হয়েছে।

তবে আপিল আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাদের নীতি চালিয়ে যেতে পারবে।

বর্তমানে এই শুল্কের মেয়াদ ২৪ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। এরপর এটির অব্যাহত থাকার জন্য নতুন আইনগত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলাটি শুধুমাত্র শুল্ক বিষয়ক নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য নীতির ক্ষমতা কতটুকু রয়েছে, সে সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। এই আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে পারে, যেখানে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইকো-ফ্রেন্ডলি ব্যাটারি উৎপাদনে কর প্রণোদনার প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ এম


ইকো-ফ্রেন্ডলি ব্যাটারি উৎপাদনে কর প্রণোদনার প্রস্তাব

দেশের সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি শিল্পের বিকাশ ঘটাতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে লিথিয়াম-আয়ন ও সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল এবং উপকরণ আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বললেন, দেশের প্রচেষ্টাকে আরও স্থিতিশীলতা এবং উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ও সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন উৎসাহিত করার জন্য আগামী ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত এসব পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির সুবিধা দিয়ে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হচ্ছে।

দেশে এই খাতসংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০২৮ সালের পর প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করেছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার নির্বাহের কথা বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%