প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরোপ করা ১০ শতাংশ বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক আপাতত বহাল থাকবে বলে মন্তব্য করেছে একটি ফেডারেল আপিল আদালত। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে, তবে আদালত সরকারের এই শুল্ক আদায় চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি প্রদান করেছে।
বৃহস্পতিবার যে রায়টি দেওয়া হয়েছে, তাতে ওয়াশিংটনের অবস্থিত ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত জানিয়েছেন, এই মামলা এখনো নিষ্পত্তিশীল। তবে এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সফল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে বর্তমান সরকার আপাতত ফেব্রুয়ারিতে আরোপ করা ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখার সুযোগ পাবে।
এই শুল্কটি মার্চে আরোপ করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বছরের আরোপিত উচ্চহারের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করার পরে। সেসময়, ট্রাম্প लगभग সব দেশের বিষয়ে দ্বিগুণ অঙ্কের শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা পরে আদালতের মাধ্যমে খারিজ হয়ে যায়। এরপর ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা ব্যবহার করে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করা হয়।
আইনের ঐ ১২২ ধারা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৈশ্বিক শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এর অধিক সময় শুল্ক চালু রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এ প্রসঙ্গে বলে রাখা প্রয়োজন যে, এই ধারাটি পূর্বে কখনো আমদানি শুল্ক আরোপের জন্য ব্যবহৃত হয়নি।
এই আইনটির প্রয়োগ সম্পর্কিত বিষয়টি নিয়ে মূল বিরোধ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি—যার অর্থ হচ্ছে আমদানি বেশি এবং রপ্তানি কম—এই আইনের আওতায় পড়ে। কিন্তু কিছু সমালোচকরা বলছেন, এই আইনটি মূলত আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের জন্য গুরুতর সংকটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সাধারণ বাণিজ্য ঘাটতির জন্য নয়।
গত মাসে নিউইয়র্কের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ ছোট ব্যবসায়ীদের দায়ের করা মামলায় রায় দিয়েছে যে, এই শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালতের ২-১ ভোটে রায়ে বলা হয়েছে, এই শুল্ক ‘অবৈধ’ এবং ‘আইনের অনুমোদনবিহীন’ হয়েছে।
তবে আপিল আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাদের নীতি চালিয়ে যেতে পারবে।
বর্তমানে এই শুল্কের মেয়াদ ২৪ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। এরপর এটির অব্যাহত থাকার জন্য নতুন আইনগত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলাটি শুধুমাত্র শুল্ক বিষয়ক নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য নীতির ক্ষমতা কতটুকু রয়েছে, সে সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। এই আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে পারে, যেখানে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন