১০:৪৩ এম
মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্ব শত্রুতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলার পশ্চিম আলীপুর এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের খেয়াঘাট এলাকায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই শিক্ষককে রাজধানী ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত রাজন শিকদার এটি ১৫৮নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ রাজদী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাজেদ শিকদারের পুত্র। অভিযুক্ত লিপি বেগম এই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়নের চর আলীপুর গ্রামের শাহ আলম মোল্লার স্ত্রী।
ভুক্তভোগী এবং তার স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, লিপি বেগমের সাথে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিফিন বিতরণ নিয়ে রাজন শিকদারের বিরোধ তৈরি হয়। এই নিয়েই প্রায়ই তাদের মধ্যে তর্কবির্তক হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে লিপি বেগম শিক্ষার্থীদের কিছু টিফিন তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে রাজন আপত্তি জানান। এরপর দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিদ্যালয় ছুটি শেষে রাজনের ওপর লিপি বেগমের ভাই মিলন মোল্লার বিরুদ্ধে অতর্কিতে হামলার অভিযোগ ওঠে। পিটিয়ে রাজনের ডান পা ভেঙে দেয়া হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। রাজনের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় রাজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনার দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তবে অভিযুক্ত লিপি বেগম অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন
ভুক্তভোগী শিক্ষক রাজন শিকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রায়ই শিক্ষার্থীদের টিফিনের প্যাকেট বাড়িতে নিয়ে যায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক লিপি বেগম। প্রতিবাদ করায় আমার ওপর হামলা করে লিপির ভাই মিলন মোল্লা ও তার লোকজন। আমার এক পা ভেঙে দিয়েছে। আরেক পা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। আমি এ ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’
অভিযুক্ত লিপি বেগম বলেন, ‘রাজন শিকদার আমার সাথে প্রায়ই খারাপ আচরণ করে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে বারান্দায় গিয়ে বসে থাকে। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি মাঝে মধ্যে আমার ওপর চড়াও হন। তার ওপর কে বা কারা হামলা চালিয়েছে তা আমি জানি না।’
এই বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য মিলন মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইলে কল করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মাদারীপুরের কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় দোষিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন