বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:৪৯ পি.এম
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আটটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একত্রে এই নিন্দা জানান।
তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে মন্ত্রীরা দাবি করেন যে, এই অব্যাহত হামলা গাজা সংঘাত অবসানের ‘সামগ্রিক পরিকল্পনার’ দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ফিলিস্তিনি পক্ষগুলো এই রোডম্যাপের মধ্যে অস্ত্র সীমিত রাখার বিধান মেনে নিয়েছে।
মন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, চিকিৎসা কেন্দ্র ও মানবিক সহায়তা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমগ্র গাজায় অবিলম্বে ও অবাধে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তারা যোগ করেন, গাজার পরিস্থিতিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, বসতি সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত জেরুজালেমে একতরফা পদক্ষেপ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায় না। কারণ এসব কর্মকাণ্ড ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’-এর সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করে।
মন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি, বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা পাশাপাশি গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা করতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেয়ারও অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে আরব দেশের প্রতিনিধিরা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়া অথবা ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করেন। তারা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ১৯৬৭ সালের সীমানার ওপর ভিত্তি করে এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’-এর মাধ্যমেই কেবল একটি ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সচিবালয়ে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন গড়ে তোলা, স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশনের আবেদন ও প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পাইলট প্রকল্পের আওতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত একজন অতিরিক্ত সচিবের পেনশন অনলাইনে প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (জেমস)-এ অনলাইনে বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও দক্ষ হবে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় শূন্যপদে নিয়োগের শতভাগ লক্ষমাত্রা অর্জনের নিমিত্ত দ্রুত কাজ সম্পন্নের নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং অনলাইনে বিভাগীয় কমিশনারগণ অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিলকে লক্ষ্য করে ইসরাইলের পক্ষ থেকে চালানো বিমান হামলা ছিল ইচ্ছাকৃত, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
গত বুধবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ২২ এপ্রিল দক্ষিণ লেবাননের আত-তিরি শহরে ইসরাইলি হামলার খবর সংগ্রহের সময় আল-আখবার পত্রিকার প্রতিবেদক আমাল খলিল নিহত হয়েছিলেন। এই হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরা অপারেটর জয়নাব ফারাজ গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এইচআরডব্লিউর তদন্তে বলা হয়েছে, হামলার পূর্বে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউএনআইএফআইএল এবং রেড ক্রস ইসরাইলি বাহিনীকে সাংবাদিকদের উপস্থিতির বিষয়টি জানিয়েছিল। সুতরাং, ওই ভবনে যখন সাংবাদিকরা অবস্থান করছিলেন, তখন এটি ইসরাইলি বাহিনীর জানা ছিল অথবা জানার কথা ছিল।
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, হামলার পর আমাল খলিল সম্ভবত তখনও জীবিত ছিলেন। তবে ইসরাইলি বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে দিয়েছিল না। এর ফলে আহত সাংবাদিকদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়েছিল।
এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রমাণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানত, অথবা তাদের জানা উচিত ছিল যে আমাল খলিল ও জয়নাব ফারাজ বেসামরিক ব্যক্তি। তবুও তারা হামলা চালায় এবং পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্যারামেডিকদের তাদের উদ্ধার করতে বাধা দেয়।’
সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সাংবাদিকরা বেসামরিক ব্যক্তি হিসেবে সুরক্ষিত। যদি তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নেয়, সেক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো বা চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এইচআরডব্লিউ সংশ্লিষ্ট ঘটনাটির জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইসরাইল অতীতে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং দাবি করেছে, তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হয়।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বহু সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন বা আহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট ২০২৬ : বিতর্কিত প্রস্তাব থেকে পিছু হটে ক্ষমা চেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এ কারণে সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে “পূর্ণ সমর্থন” পেয়েছেন। বিশ্বকাপকে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তার ফলে সৃষ্ট বিতর্কের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কার্যত নিজের পদকে রক্ষা করেছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সর্বোচ্চ ব্যক্তি ইনফান্তিনো।
বাতিল হওয়া ওই পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফিফার নেতৃত্ব নিজেদের “ভুল” স্বীকার করেছে। তবে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত সংকটকালীন বৈঠকের পরও চাপের মুখে থাকা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তারা।
পরিকল্পনাটি কীভাবে পরিচালনা করেছেন, সে বিষয়টি নিয়ে ইনফান্তিনো নিজ সংস্থার ভেতর থেকেও ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। গত শনিবার পরিকল্পনাটি বাতিল করার পর থেকে তার পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে ফিফার নেতৃত্ব স্বীকার করেছে, “প্রস্তাবটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পরেও কিছু ভুল ছিল।”
ফিফা জানিয়েছিল, নতুন বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)-এর মূল্য ২০ বিলিয়ন ডলার ধরে এই পরিকল্পনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো আয়োজন পরিচালনা করত।
ফিফা বলেছিল, পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে ২০২৭ সালের শুরুতে সংস্থাটির ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেককে এককালীন ২ কোটি ডলার দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ২০২৭-৩০ চক্রে তাদের তহবিল বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করা হতে পারে।
কিন্তু প্রণোদনা হিসেবে কাজ করার বদলে এই পরিকল্পনা তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এমনকি ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা বৃহস্পতিবার বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ বয়কট করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেয়।
তোপের মুখে শনিবারের মধ্যে ইনফান্তিনো নিজের ভুল স্বীকার করে পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করে নেন। ইনফান্তিনো বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য সবসময় ছিল এবং সবসময় থাকবে। একইসাথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা ও উন্নতি সাধন করাও আমাদের মূল লক্ষ্য।”
রাবাতে বুধবারের বৈঠকের পর ফিফার মহাসচিব এবং উপস্থিত ফিফা ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সদস্যরা এক বিবৃতিতে বলেন, তারা ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক নির্বাচিত একমাত্র কর্মকর্তা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বৈঠকে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে এবং যে ভুলগুলো হয়েছে, তা স্বীকার করা হয়েছে।”
“ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না এবং প্রক্রিয়াটি ভিন্নভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল, এ বিষয়ে সকলে একমত হয়েছে। প্রস্তাবটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পরও কিছু ভুল হয়েছিল, এটিও স্বীকার করা হয়েছে।”
ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এসব ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রমও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ফাঁস হওয়া এক অভ্যন্তরীণ ই-মেইলে তিনি কর্মীদের কাছে এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছিলেন।
ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এখন একটি পর্যালোচনা করা হবে এবং পরবর্তী নির্ধারিত বৈঠকে ফিফা কাউন্সিলের কাছে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। আগেই জানানো হয়েছে, এফএফই প্রস্তাবটি ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ও ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে ছিল। এখন এটি আলোচনার বাইরে।”
বুধবার পরে ৫৬ বছর বয়সী সুইস আইনজীবী ইনফান্তিনো গত সপ্তাহের ‘ফিস্ট অব দ্য এনথ্রোনমেন্ট’ উদযাপন উপলক্ষে মরক্কোয় ছিলেন। গতকাল রাবাতে জাম্বিয়া ও মালাওয়ির মধ্যকার নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ম্যাচ দেখতে যান। এএফপির এক আলোকচিত্রী জানান, আল মদিনা স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির পাশে ইনফান্তিনোকে দেখা যায়। মরক্কো ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ। মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ফৌজি লেকজা তাদের অল্প কয়েকজনের একজন, যারা অপমানজনকভাবে পরিকল্পনা বাতিল করার পরও প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
গত শনিবার লেকজা ঐক্য ও সংহতির স্বার্থে পরিকল্পনা বাতিলের ইনফান্তিনোর বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। দীর্ঘ ১০ বছর দায়িত্ব পালনের সময়ে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে নেওয়া সব উদ্যোগের জন্য ইনফান্তিনোর প্রতি নিজের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ইনফান্তিনো এর আগে ৪৮ দলের অংশগ্রহণে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের ব্যাপক সাফল্যের পর বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।
চতুর্থ ও শেষ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের তার ইচ্ছাও আগামী মার্চে রাবাতে অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। কারণ তাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য তখন পর্যন্ত অন্য কোনো প্রার্থী সামনে আসেননি। কিন্তু গত সপ্তাহের মঙ্গলবার সেই পরিস্থিতির পুরোপুরি পরিবর্তন ঘটে।
উয়েফা বিশ্বকাপকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার প্রস্তাবকে ইনফান্তিনোর তৈরি জঘন্য, গোপন ও অস্বচ্ছ চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে।
এক বিবৃতিতে উয়েফা বলেছে, “বর্তমান ফিফা নেতৃত্ব শুধু উয়েফার আস্থাই হারায়নি, ফুটবল পরিবারের আরও অনেক সদস্যের আস্থাও হারিয়েছে।”
উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ আরও এক ধাপ এগিয়ে ইনফান্তিনোর সভাপতিত্ব নিয়ে ব্যাপকভাবে হিসাব-নিকাশের আহ্বান জানায়। একই সাথে ইনফান্তিনোর দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে।
২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ফিফাকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতার ব্যাপারে ইনফান্তিনোর ওপর তার আর আস্থা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান আবারও নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ রেখেছেন। শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, বরং ব্র্যান্ড মূল্যেও ভারতের সবচেয়ে বড় সেলিব্রিটি হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি।
ক্রল ইন্ডিয়ার সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন ২০২৫ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড হিসেবে এখন শাহরুখ খান রয়েছেন। তার বর্তমান ব্র্যান্ড মূল্য ১৭৭.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৪ সালের তালিকায় শাহরুখ খান তৃতীয় স্থানে ছিলেন। তবে এক বছরের ব্যবধানে দুটি ধাপ এগিয়ে এবারে তিনি দখল করেছেন প্রথম স্থান।
দীর্ঘ ক্যারিয়ার, সিনেমার জনপ্রিয়তা, বিজ্ঞাপনী চুক্তি এবং বিশ্বজুড়ে ভক্তদের প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে তার ব্র্যান্ড মূল্য বেড়েছে।
গতবারের শীর্ষে থাকা ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি এবার নেমে গেছেন তৃতীয় স্থানে। তার বর্তমান ব্র্যান্ড মূল্য ১৫৮.৪ মিলিয়ন ডলার।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং, যার ব্র্যান্ড মূল্য ১৬২.৯ মিলিয়ন ডলার।
এরপর শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার শুটিং কি শেষ?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই বছরে শাহরুখ খানের ব্র্যান্ড মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে তার ব্র্যান্ড মূল্য ছিল ১২০.৭ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৭.৯ মিলিয়ন ডলারে।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালে বিরাট কোহলির ব্র্যান্ড মূল্য ছিল ২২৭.৯ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু বর্তমানে তা কমে ১৫৮.৪ মিলিয়ন ডলারে এসে পৌঁছেছে।
কিভাবে তৈরি হয় এই তালিকা?
সেলিব্রিটি ব্র্যান্ডের এই র্যাংকিং তৈরি করা হয় তারকাদের বিজ্ঞাপনী চুক্তি, ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক, জনপ্রিয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে। ২০২৫ সালে ভারতের শীর্ষ ২৫ জন সেলিব্রিটির মোট ব্র্যান্ড মূল্য ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। যদিও আগের বছরের তুলনায় এটি ৩.৭ শতাংশ কম, তবে ২০২৩ সালের তুলনায় এখনও বেশি।
শীর্ষ তালিকায় শচীন-ধোনির উন্নতি
শীর্ষ ১০ সেলিব্রিটির তালিকায় ক্রিকেটারদের অবস্থানও অনেক শক্তিশালী। ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার পঞ্চম স্থান থেকে উঠে চতুর্থ স্থানে এসেছেন। তার ব্র্যান্ড মূল্য ১২৫.৯ মিলিয়ন ডলার। সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি সপ্তম স্থান থেকে উঠে পঞ্চম স্থানে জায়গা করেছেন। তার ব্র্যান্ড মূল্য ১১৫.৩ মিলিয়ন ডলার।
আলিয়া ভাট শীর্ষ নারী তারকা
নারী তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আলিয়া ভাট। তিনি তালিকার ষষ্ঠ স্থানে আছেন, তার ব্র্যান্ড মূল্য ৯৩.৯ মিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। তিনি সপ্তম স্থানে আছেন, তার ব্র্যান্ড মূল্য ৮৯.২ মিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া হৃতিক রোশন অষ্টম, অমিতাভ বচ্চন নবম এবং অক্ষয় কুমার ও রণবীর কাপুর যৌথভাবে দশম স্থানে রয়েছেন।
যাদের অবস্থান এগিয়েছে
২০২৫ সালের তালিকায় বেশ কিছু তারকার অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। শ্রদ্ধা কাপুর ৩৩তম স্থান থেকে উঠে ২৪তম স্থানে এসেছেন। সামান্থা রুথ প্রভু ২৮তম থেকে ২১তম এবং অনন্যা পাণ্ডে ২৫তম থেকে ১৯তম স্থানে উঠেছেন।
এ ছাড়া জানভি কাপুর, রাশমিকা মান্দানা, সালমান খান ও রোহিত শর্মার অবস্থানও আগের তুলনায় ভালো হয়েছে।
শীর্ষ ২৫ তারকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পিছিয়েছেন অভিনেত্রী আনুষ্কা শার্মা। তিনি ১৭তম স্থান থেকে নেমে ২৫তম স্থানে চলে গেছেন। এছাড়া কারিনা কাপুর ১১তম থেকে ১৫তম, কিয়ারা আদভানি ১৩তম থেকে ১৭তম ও কার্তিক আরিয়ানের অবস্থান ১৪তম থেকে ১৬তম স্থানে নেমেছেন।
তালিকায় ক্রিকেটারদের দাপট
২০২৫ সালের তালিকায় ১৩ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী তারকা রয়েছেন। তবে শীর্ষ পাঁচটি স্থানই দখলে রেখেছেন পুরুষ তারকারা। ক্রিকেটারদের মধ্যে বিরাট কোহলি, শচীন টেন্ডুলকার ও মহেন্দ্র সিং ধোনি শীর্ষ পাঁচে রয়েছেন। এছাড়া রোহিত শর্মা ১৪তম এবং জাসপ্রীত বুমরাহ ২০তম স্থানে আছেন।
প্রতিবেদনটি আরো জানাচ্ছে, বর্তমানে সেলিব্রিটিদের ব্র্যান্ড মূল্য বাড়াতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারকাদের জনপ্রিয়তা ও ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ এখন বিজ্ঞাপনী বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। ২০২৫ সালে অনেক শীর্ষ তারকার মোট ব্র্যান্ড সহযোগিতার ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশই এসেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ