১০:৪২ এম
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম শশিকর চৌমুহনী বাজার সংলগ্ন সংযোগ খালের ওপর সেতুর অভাব থাকায় দীর্ঘ ৫ বছর ধরে অন্তত ১৫ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন। সেখানে পূর্বে একটি সেতু থাকলেও ২০২১ সালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেটি ভেঙে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকেই স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোই হাজারো মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সাঁকো পার হয়ে শত শত শিক্ষার্থী স্কুল ও কলেজে যাতায়াত করছে। একইভাবে সাধারণ কৃষক, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী, নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ রোগীদেরও বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পশ্চিম শশিকর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১০৫ নম্বর পশ্চিম শশিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শশিকর উচ্চ বিদ্যালয়, শশিকর কলেজ, হরলাল কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ছয়টি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরে যেতে এই সাঁকোই একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন আনুমানিক এক হাজার শিক্ষার্থী এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ এ পথে চলাচল করে। পাশাপাশি আশপাশের ১৫ গ্রামের বাসিন্দাও এই পথ ব্যবহার করছে। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁশের সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রায়ই তৈরি হয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য পারাপারে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে সময় নষ্ট হয় এবং কৃষকদের কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অনেক সময় আশ্বাস পেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশ এলাকাবাসী। এ বিষয়ে মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, "সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই ই-টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।" এলাকা বাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হলে ১৫ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন