ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজ সংকটের মধ্যেই বাব আল-মান্দাব ঘিরে উত্তেজনা


হরমুজ সংকটের মধ্যেই বাব আল-মান্দাব ঘিরে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে ইরানের গতিবিধির মধ্যেই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দাব ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নতুন করে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ঝুঁকিতে রয়েছে।

যদি সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ ও আকাশপথের অবরোধ প্রত্যাহার না করা হয়, তবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে রিয়াদের জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেন।

ইয়েমেন, যখন আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে ইরানের ‘মাহান এয়ার’-এর দ্বিতীয় বেসামরিক ফ্লাইটটির অপেক্ষায় রয়েছে, তখন বিভিন্ন গণমাধ্যম নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, রিয়াদকে চাপে ফেলতে ‘আনসারুল্লাহ’ আন্দোলন বাব আল-মানদাবের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগানোর বিষয়টি ভাবছে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইয়েমেনের বন্দরগুলোতে সামুদ্রিক চলাচলের ওপর আরোপিত সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জন্য দেশটি জাতিসংঘ ও সৌদি আরবকে একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। সৌদি আরব যদি এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে, তাহলে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালীতে সৌদি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেবে।

সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক খালেদ আল-শায়েফ ফ্লাইট পুনরায় চালুর নতুন ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনায় নতুন গন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আল-শায়েফ সানা ও তেহরানের মধ্যে ফ্লাইট পুনরায় চালুর কথা সমর্থন করে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ বৈধ।

এদিকে রিয়াদ উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি বলেছেন, সৌদি ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে চালানো যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এর জবাবে আনসারুল্লাহ আবারও হুমকি দিয়েছে, ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ অবসানে বাধ্য করতে তারা ‘বাব আল-মানদাব কার্ড’ (প্রণালী বন্ধের কৌশল) ব্যবহার করবে।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী গত শুক্রবার জানিয়েছে, তারা বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি ইরানি বেসামরিক বিমানকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দেওয়ার সৌদি প্রচেষ্টাকে সফলভাবে সফলভাবে নস্যাৎ করেছে। ইয়েমেন পক্ষ নিশ্চিত করেছে, ইরানি বিমানটি সফলভাবে অবতরণ করে, যাত্রীদের নামিয়ে দেয় এবং নতুন যাত্রী তালিকা নিয়ে তেহরানে ফিরে যায়।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

দেশটির প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী জালাল আল-রোয়েইশান সৌদি জোটের সতর্কবার্তার সরাসরি জবাব দিয়ে সৌদি ও মার্কিন ‘দাদাগিরি’ বা আধিপত্যবাদী আচরণের অবসানের অঙ্গীকার করেছেন। আল-রোয়েইশান ঘোষণা করেন, ইয়েমেন তার সামুদ্রিক ও আকাশপথের চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ ভাঙবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য সানার যুদ্ধের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান।

এছাড়াও আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য আবদুল্লাহ আল-নুআইমি সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব হয়তো ইয়েমেনের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু তারা সেই যুদ্ধ থামাতে পারবে না এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

সূত্র: ইরানা নিউজ।

আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

‘মেক্সিকান ওয়াল’ ওচোয়ার অশ্রুসিক্ত বিদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ পি.এম


‘মেক্সিকান ওয়াল’ ওচোয়ার অশ্রুসিক্ত বিদায়

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মেক্সিকো ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে। ম্যাচ শেষে নিজের আবেগ প্রকাশ করে জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গুইলেরমো ওচোয়া, যা মেক্সিকো ফুটবলের একটি দীর্ঘ ও সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

৪০ বছর বয়সী ওচোয়া আগেই অবশ্য ঘোষণা করেছিলেন যে এই বিশ্বকাপের পরই তিনি পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানাবেন। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচই হয়ে রইল তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। মাঠে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজানোর পর সতীর্থ ও সমর্থকদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই কিংবদন্তি গোলরক্ষক।

২০০৬ সালের বিশ্বকাপ দলে থাকা সত্ত্বেও মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও পরবর্তীতে মেক্সিকোর এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ওচোয়া। দীর্ঘ সময় ধরে টানা ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। বিশেষ করে ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে তার অসাধারণ পারফরমেন্স তাকে বিশ্ব ফুটবলে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।

অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঘরের মাঠে এই ম্যাচে শুরুতে ভালো করে মেক্সিকো। তবে জুড বেলিংহ্যামের দুই গোলের পর ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধে হুলিয়ান কিনিওনেস একটি গোল শোধ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড ১০ জনের দলে চলে গেলেও হ্যারি কেনের পেনাল্টি গোলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয়। শেষ দিকে রাউল হিমেনেজের পেনাল্টি গোলে ব্যবধান ৩-২ হলেও মেক্সিকো সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয়।

৮০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে ঘরের মাঠে বিদায় নেওয়ার কারণে এই হার মেক্সিকোর জন্য আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর প্রথম পরাজয় হিসেবেও নতুন করে যুক্ত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘স্বামী বারবার বাঁচার জন্য কাকুতি করছিলেন, আমি অসহায় ছিলাম’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


‘স্বামী বারবার বাঁচার জন্য কাকুতি করছিলেন, আমি অসহায় ছিলাম’

কক্সবাজারের উখিয়া ও জেলা সদরে টানা ভারী বর্ষণের ফলে একরাতেই পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় ৮ রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের পরিস্থিতির মাঝে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি হয়েছে কক্সবাজার শহরের সাত্তারঘোনা এলাকায়। সেখানে মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যান আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তি। অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা তার স্ত্রী জোৎস্না বেগমের এখন আকুতি সদর হাসপাতালের বাতাসকে ভারি করে তুলছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে জোৎস্না কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেদিনের বিভীষিকাময় রাতের চিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'রাতে আমরা স্বামী, ছেলে ও আমি একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে খাটে ঘুমিয়ে ছিলাম।' হঠাৎ গভীর রাতে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে ঘরের ওপর পড়লে, মুহূর্তেই আমরা মাটির নিচে চাপা পড়ে যাই।

তিনি আরও বলেন, 'ভাগ্যক্রমে আমি ও আমার ছেলে কোনোমতে বের হয়ে আসতে পারলেও আমার স্বামী মাটির নিচে আটকা পড়ে যান। তখন তিনি বাঁচার জন্য বারবার আকুতি জানাচ্ছিলেন।' স্থানীয় লোকজন মাটি খুঁড়ে তাকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তিনি মারা গিয়েছিলেন।

শহরের এই ট্র্যাজেডির পাশাপাশি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও একই রকম অন্ধকার নেমে এসেছে। উখিয়ার ক্যাম্প ১১, সি-১১ ব্লকে রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন আমান উল্লাহর পরিবারের ৭ সদস্য। ভারী বৃষ্টিপাতের এক পর্যায়ে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে ৫ জন। তাদের মধ্যে ৪ জন মারা যান।

সেই বিভীষিকা থেকে বেঁচে ফেরা আমান উল্লাহ জানান, রাতে আমাদের পরিবারের সাতজন সদস্য রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত ১টার দিকে পাহাড় ধসে পুরো ঘর মাটিচাপা পড়ে যায়। এতে আমি ও আমার আরেক ভাই কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যাই, কিন্তু পরিবারের বাকি পাঁচজন মাটির নিচে চাপা পড়েন। আমাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মাটি খুঁড়ে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা জানান, রাত ২টার দিকে ক্যাম্প ১৫ জামতলীতে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের ৫ সদস্য। ৩ ঘণ্টার চেষ্টা শেষে মাটি খুঁড়ে তাঁদের উদ্ধার করা হলেও স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচানো যায়নি। অপর ২ জনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাত দুইটার দিকে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের ক্যাম্প-৭-এ পাহাড়ধসে মো. একরাম (৭) নামে আরও এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা বলেন, 'আমরা খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধার অভিযানে নেমেছি।' বিভাগীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও মাইকিং আগে থেকেই চলমান ছিল এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

উখিয়াস্থ ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস। তবে স্বেচ্ছাসেবকদের অভিযোগ, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে চাচ্ছেন না।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৬৭ মিলিমিটার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং আগামী কিছুদিনও এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া, ২০১৭ সালে বনাঞ্চল উজাড় করে তৈরি করা ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের প্রায় ১২ লাখ বাসিন্দার মধ্যে অন্তত ১ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে তীব্র ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব নাগরিককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে হবে : অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


সব নাগরিককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে হবে : অর্থমন্ত্রী

দেশের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিকসহ সবাইকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো নাগরিক বাদ যাবে না বলে জানা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের সব সরকারি সেবা শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। দেশের প্রতিটি মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজনকৃত ‘ইনোভেশন শোকেসিং’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে জনগণের সময় এবং অর্থ সাশ্রয় হবে। সরকারি দপ্তরে সরাসরি সেবা নিতে আসতে ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব সমস্ত দিক থেকে ডিজিটালাইজেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব জনগণকে এর আওতায় আনতে হবে। ইনক্লুসিভনেস শুধু অর্থনীতিতে হলেও হবে না, সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’

মন্ত্রী যোগ করতে থাকেন, ‘অনেক সেবা ঘরে বসেই পাওয়া সম্ভব। এটি সেবাগ্রহীতাদের জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় প্রত্যেকটি সেবা পৌঁছে দিতে হবে। ঘরে বসে গ্রাহকের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা গেলে সময়, অর্থসহ অনেক কিছু সাশ্রয় হবে। শুধুমাত্র প্রজেক্ট করলে হবে না, সে সম্পর্কে জনগণকে জানানোর উদ্যোগও নিতে হবে।’

এদিন আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গ্রাহক সেবা সহজ করার লক্ষ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনস্থ ২৫টি দপ্তর ও সংস্থা ৫০টি উদ্ভাবন প্রদর্শন করেছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে এ পর্যন্ত ৩২৯টি সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে। এবারের ইনোভেশন শোকেসিংয়ে ৫টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে।

পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়, রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে জনতা ব্যাংক পিএলসি, বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে নিহত অন্তত ২৫ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে নিহত অন্তত ২৫ জন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট রেকর্ড তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুড়ছে। প্রচণ্ড এই গরমের কারণে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, এ খবর জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

শনিবার (৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় এবং এর পরবর্তী দিনগুলোতে লাখ লাখ মানুষকে এই চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, একটি বিশাল 'হিট ডোম' বা তাপবলয় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের ওপর অবস্থিত। এর ফলে ২০টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়িয়ে গেছে। এখনো দেশটির প্রায় ১৪ কোটি মানুষ সক্রিয় তাপ সতর্কতার (হিট অ্যালার্ট) মধ্যে রয়েছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে। সেখানে জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তীব্র গরমের কারণে ১০টি কাউন্টিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৩০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। এদের অনেককে শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন বাড়িতে, নিজ বাড়ির বাইরে, সড়কে ও পার্ক করা গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি সাধারণ কোনো গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ নয়; এই তীব্র গরম যেকোনো বয়সী মানুষ ও পশুর জন্য দ্রুত জীবনঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

নিউজার্সি ছাড়াও ইলিনয় এবং মিসিসিপি অঙ্গরাজ্য থেকেও তাপপ্রবাহে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মিসিসিপির হিন্ডস কাউন্টিতে মিচেল রে কুলি (৭৪) নামের এক বৃদ্ধ নিখোঁজ হওয়ার পর একটি গ্যাস স্টেশনের পেছন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে একই কাউন্টিতে মার্থা আইরিন (৮৩) নামের এক বৃদ্ধা নিজের বাগানে পড়ে যাওয়ার পর আর উঠতে পারেননি। তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এই তীব্র গরমের কারণে শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজন করা স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়। ওই দিন জাতীয় মল চত্বরে আয়োজিত একটি মেলাও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যেখানে ৪৪ জন দর্শনার্থী গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠান চলাকালীন জরুরি সেবা বিভাগ তাপজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ৫১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং ১২ জনকে হাসপাতালে পাঠায়।

আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের এই কেন্দ্রস্থলটি এখন উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-পশ্চিম অঞ্চল থেকে সরে দক্ষিণ ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, ঘন ঘন এমন চরম তাপপ্রবাহের আগমন প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর কোনো বিকল্প নেই। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর (এনডব্লিউএস) জনগণকে প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ, সরাসরি সূর্যরশ্মি থেকে দূরে থাকা এবং প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%