ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নোয়াখালীতে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের


নোয়াখালীতে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় ফয়েজ আহমেদ (৭২) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের সোনাপুর টু চেয়ারম্যান ঘাট সড়কের খাসেরহাট রাস্তা মাথা এলাকার এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ফয়েজ আহমেদ চরজুবলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের একজন বাসিন্দা ছিলেন এবং স্থানীয় আটকপালিয়া বাজারের এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন।

আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ ও পথসভা

স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি নিজের বাড়ির সামনের জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই সময়ে একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

দুর্ঘটনায় তার পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে। এরপর স্থানীয়রা তাকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন: চলতি বছরে ৯ মাসে ‘মব’ সহিংসতায় নিহত ১৮৭ জন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিএসজির শিরোপা উদযাপন ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে সংঘর্ষ, গ্রেফতার ৭৮০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২৫ এম


পিএসজির শিরোপা উদযাপন ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে সংঘর্ষ, গ্রেফতার ৭৮০

ইউরোপের সেরাদের মধ্যে অন্যতম মর্যাদা সম্পন্ন ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এর আনন্দ শেষ পর্যন্ত সহিংসতার কারণে ম্লান হয়ে গেছে। ফরাসি ক্লাব পিএসজি শিরোপা জয়ের পর ফ্রান্সজুড়ে সমর্থকদের উদযাপনের মাঝে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে দেশটির পুলিশ অন্তত ৭৮০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

ফরাসি গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে অভিজ্ঞান হল, পিএসজির ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজধানী প্যারিস সহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় হাজারো সমর্থক নেমে আসেন। তবে আনন্দমিছিলের এক পর্যায়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের পর বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে আগুন দেয়ার, দোকানপাট ভাঙচুরের এবং জনসম্পদের ক্ষয়ের ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা দেখা যায় প্যারিসের বিখ্যাত চ্যাম্পস-এলাইস এলাকায় এবং পিএসজির স্টেডিয়াম পার্চ ডেস প্রিন্সেসের পাশের অঞ্চলগুলোতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও অন্যান্য ভিড় নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৫৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রাজধানী প্যারিসেই প্রায় ৪৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর, চুরি এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য দেশজুড়ে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) সকালে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এদিকে, সহিংসতার ঘটনা সত্ত্বেও পিএসজির শিরোপা উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি বাতিল হয়নি। দলটির খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা এবং সমর্থকদের জন্য নির্ধারিত উৎসব আয়োজন যথারীতি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় একটি জয়ের রাত সহিংসতায় কলঙ্কিত হওয়ায় ফ্রান্সে নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন ইনজেকশনে ক্যানসার টিউমার সম্পূর্ণ নির্মূলের দাবি বিজ্ঞানীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ এম


নতুন ইনজেকশনে ক্যানসার টিউমার সম্পূর্ণ নির্মূলের দাবি বিজ্ঞানীদের

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে এমন একটি ইনজেকশনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে বিজ্ঞানীরা আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, ত্রিমুখী কার্যক্ষমতাসম্পন্ন নতুন এই ইনজেকশন অনেক রোগীর শরীরে টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে টিউমার সম্পূর্ণ নির্মূলও করেছে।

১১টি দেশে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অংশ হিসেবে ‘অ্যামিভান্টাম্যাব’ নামের এই ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রোগীদের ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল অথবা চিকিৎসার পর আবার ফিরে এসেছিল। যাঁদের প্রচলিত চিকিৎসায় অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না, তাদের ওপর এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের টিউমারের আকার ছোট হয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে গেছে।

গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্যানসারবিষয়ক সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজী’-এর বার্ষিক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ১০২ জন রোগীর ওপর এ পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। ফলাফলে দেখা গেছে, ৪৩ জনের টিউমার ছোট হয়ে গেছে অথবা পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৮ জনের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে এবং ১৫ জনের ক্ষেত্রে টিউমার সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, ফুসফুসের ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের মধ্যেও একই ধরনের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানির তৈরি অ্যামিভান্টাম্যাব বর্তমানে প্রায় ৬০টি পৃথক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পরীক্ষা করা হচ্ছে। মলদ্বার, মস্তিষ্ক এবং পাকস্থলীর ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ওপরও এর কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে।

যেভাবে কাজ করে ইনজেকশনটি

বিজ্ঞানীদের মতে, অ্যামিভান্টাম্যাব তিনটি উপায়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে— এটি প্রথমে ইজিএফআর (এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর রিসেপ্টর) নামের একটি প্রোটিনকে বাধা দেয়, যা টিউমারের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। এমইটি নামের একটি জৈবিক পথও বন্ধ করে দেয়, যা অনেক ক্যানসার কোষ চিকিৎসা এড়িয়ে যেতে ব্যবহার করে। পাশাপাশি এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে।

এই চিকিৎসা থেকে উপকার পাওয়া রোগীদের একজন ৫৬ বছর বয়সী কার্ল ওয়ালশ। তাঁর জিহ্বার ক্যানসার ধরা পড়ে ২০২৪ সালে। পরে তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে পরিচালিত ‘ওরিগএএমআই-ফোর’ ট্রায়ালে অংশ নেন।

কার্ল বলেন, প্রথমে আমাকে কেমোথেরাপি ও রোগপ্রতিরোধভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো কার্যকর হয়নি। পরে নতুন এই ট্রায়ালে যুক্ত হই। এখন পর্যন্ত চিকিৎসার ফল নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসা শুরুর পর ফোলা ও ব্যথা অনেক কমে গেছে। আগে কথা বলা ও খাবার খাওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু এখন তিনি প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম হচ্ছেন।

গবেষণার ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তাই এই ইনজেকশনকে ক্যানসারের নিশ্চিত বা সর্বজনীন চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার সময় এখনো আসেনি। অধিকতর বিস্তৃত গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বিশ্লেষণের পরই এর প্রকৃত কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন কোটি খুচরা দোকানকে নজরদারিতে আনছে এনবিআর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪২ এম


তিন কোটি খুচরা দোকানকে নজরদারিতে আনছে এনবিআর

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের প্রায় ৩ কোটি খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

এ লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো খুচরা ব্যবসার জন্য নামমাত্র টার্নওভার ট্যাক্স চালুর প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কর ব্যবস্থার বাইরে থাকা অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ডিলার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খুচরা দোকানে পণ্য সরবরাহের সময় বিলের ওপর শূন্য দশমিক দুই শতাংশ হারে কর উৎসে কেটে রাখবে। অর্থাৎ, প্রতি ১ হাজার টাকার পণ্য ক্রয়ে খুচরা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ টাকা কর কেটে সরকারের কোষাগারে জমা হবে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, কর পরিশোধের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করতে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এ-চালান ব্যবস্থার সঙ্গে এই কর সংযুক্ত করা হবে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি তিন মাস অন্তর মোবাইলে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে জানতে পারবেন তাদের নামে কত টাকা কর জমা হয়েছে। ফলে তারা সহজেই বুঝতে পারবেন তাদের আয় করযোগ্য সীমায় পৌঁছেছে কি না। কর কর্মকর্তারা বলছেন, এই মডেলটি ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপরের স্তরে কর সংগ্রহের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়ীকে কর নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের পদ্ধতির মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি খুচরা দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের অধিকাংশই এখনো আয়কর নেটওয়ার্কের বাইরে। ফলে অর্থনীতির একটি বড় অংশের লেনদেন কর ব্যবস্থার আওতায় আসে না। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্তত তাদের ক্রয়বিক্রয়ের একটি নথিভুক্ত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, উৎস পর্যায়ে কর সংগ্রহের এই পদ্ধতি জাতীয় কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার ভাষায়, খুচরা ব্যবসায়ীদের ক্রয়ের তথ্য নথিভুক্ত হওয়ার ফলে তাদের প্রকৃত আয় সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বড় করপোরেট সুপারশপ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মধ্যে কর-অনুবর্তিতার (ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স) ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যও কিছুটা কমবে। তিনি আরও বলেন, এই তথ্যভাণ্ডার ভ্যাট প্রশাসনের জন্যও সহায়ক হবে। কারণ এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে খুচরা ব্যবসাগুলোকে ভ্যাট নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করার পথ সহজ হবে এবং সামগ্রিক রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, করের বোঝা যদি শেষ পর্যন্ত উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়ে, তাহলে তাদের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে সেই অতিরিক্ত ব্যয় পণ্যের মূল্যে যোগ হয়ে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নতুন ব্যবস্থার বাস্তবায়নে কর প্রশাসনকে বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এনবিআর কর্মকর্তাদের আশা, করের হার অত্যন্ত কম হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে তেমন আপত্তি থাকবে না। বরং ধাপে ধাপে দেশের বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে করের আওতায় এনে রাজস্বভিত্তি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সরেজমিন : জঙ্গল সলিমপুর

রাজনৈতিক ছত্রছায়ার মধ্যে রয়েছে ১১ বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ এম


রাজনৈতিক ছত্রছায়ার মধ্যে রয়েছে ১১ বাহিনী

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের পাশে পাহাড়ের বুক চিড়ে ভিতরে ঢুকে গেছে একটি সরু পথ।

এই পথ ধরে জঙ্গল সলিমপুরের গহিনে যত এগোনো যায়, ততই যেন উন্মোচিত হতে থাকে এক অচেনা, ভূতুড়ে রাজ্যের দৃশ্যপট। চারদিকে পাহাড় কাটার দগদগে ক্ষত আর সারি সারি টিনের চালার নিচে চাপা পড়ে আছে হাজারো মানুষের বোবা কান্না।

প্রায় চার দশক ধরে ৩ হাজার ১০০ একরের এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বীরদর্পে চলছে সরকারি খাসজমি দখল ও ত্রাসের রাজত্ব। সরকার বদলায়, ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু বদলায় না জঙ্গল সলিমপুরের ভাগ্য। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনটি কাগুজে সমিতির আড়ালে ১১টি সশস্ত্র বাহিনী পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য করছে। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে ৩০ হাজার পরিবার। রাষ্ট্রের ভিতর গড়ে ওঠা আরেক ‘রাষ্ট্রের’ রোমহর্ষক চিত্রই উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সরেজমিন অনুসন্ধানে।

রবিবার (৩১ মে) চট্টগ্রামের অপরাধ সাম্রাজ্য খ্যাত জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে সন্ত্রাসীদের আস্তানা নির্মূল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের এলাকা থাকবে না। থাকবে না কোনো অভয়ারণ্য। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে যারা চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে, তাদের আশ্রয়স্থল কোথায় আমরা দেখতে চাই না। জঙ্গল সলিমপুর থেকে সর্বশেষ আস্তানাও আমরা নির্মূল করব।’

জঙ্গল সলিমপুরে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ- ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক দিয়ে এগোলেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন। এর ঠিক বিপরীত দিকে একটি সড়ক প্রবেশ করেছে পাহাড়ের দিকে। প্রবেশ মুখেই পড়ে পাহাড়ের বুক চিড়ে তৈরি হওয়া জঙ্গল সলিমপুরের সরু পথ। সেই পথ ধরে যেতে যেতে দেখা মেলে এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার ক্ষতচিহ্ন। সময়ের আবর্তনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অথবা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হয়তো গডফাদারদের পতন হয়েছে, বদল হয়েছে মুখের। কিন্তু জঙ্গল সলিমপুরের ভাগ্য বদলায়নি। পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্যের এ সোনার ডিম পাড়া হাঁসটি কখনোই হাতছাড়া করতে চায় না কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী।

জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ ও ২০০০ সালের শুরুর দিকে জঙ্গল সলিমপুরে প্রথম দখলদারিত্বের গোড়াপত্তন হয়। ভূমিহীন ও ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসনের ধুয়া তুলে ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে শুরু হয় পাহাড় দখল। শুরুতে এটি একটি নিরীহ আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও খুব দ্রুতই তা এক সুসংগঠিত ভূমি দখলকারী সিন্ডিকেটে রূপ নেয়।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলেছে, জঙ্গল সলিমপুর বর্তমানে তিনটি প্রধান সন্ত্রাসী বাহিনীসহ ১১টি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মূলত তিনটি কাগুজে সংগঠনের আড়ালে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে মূল সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- আলীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল (সমন্বয়) সংগ্রাম পরিষদ এবং চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমাজকল্যাণ সমিতি। এর মধ্যে আলীনগর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া। তিনি ‘আলীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি’র আড়ালেই চালাচ্ছেন কার্যক্রম।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর তিনি রীতিমতো মহিরুহে পরিণত হন। অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় তিনি জঙ্গল সলিমপুরের অঘোষিত সম্রাটে পরিণত হন, যার দাপট বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও অব্যাহত রয়েছে। অথচ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন এই ইয়াসিন।

‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল (সমন্বয়) সংগ্রাম পরিষদ’ মাধ্যমে ‘ছিন্নমূল’ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন শীর্ষ সন্ত্রাসী কাজী মশিউর রহমান ও তার অনুসারী রিদুয়ান। এ সন্ত্রাসী বাহিনীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী দুই নেতার বিরুদ্ধে। আগে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন আওয়ামী লীগের দুই সাবেক এমপি দিদারুল আলম এবং এস এম আল মামুন। এ ছাড়া ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমাজকল্যাণ সমিতি’র নিয়ন্ত্রক রোকন উদ্দিন মেম্বার, যাকে আড়ালে থেকে আশ্রয় দিচ্ছেন বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা।

এ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী ছাড়াও পাহাড়ের গহিনে সক্রিয় রয়েছে- লাল বাদশা বাহিনী, ফারুক বাহিনী, গফুর মেম্বার বাহিনী, গাজী সাদেক বাহিনীসহ ৮টি সশস্ত্র গ্রুপ। নেপথ্যে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে এসব বাহিনীকে মদত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কথা হয় জঙ্গল সলিমপুরের অন্তত সাতজন অধিবাসীর সঙ্গে। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন- জঙ্গল সলিমপুরের এ চক্র ভাঙতে না পারার মূল কারণ হলো এর পেছনে থাকা বিশাল অর্থনৈতিক স্বার্থ। প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি এবং শতকোটি টাকার ভূমি দখলের এ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কতিপয় সদস্যসহ অনেকেই। মাঠপর্যায়ের সন্ত্রাসীরা ধরা পড়লেও নেপথ্যের ইন্ধনদাতা বা হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এসব সন্ত্রাসী বাহিনীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেন প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা। বিনিময়ে তারা প্রতি মাসে নেন মোটা অঙ্কের মাসোহারা।

খাসজমিতে অবৈধ বাণিজ্য: জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাসজমি ও বনভূমি দখল করে শত শত কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ভূমি দখলকারী সিন্ডিকেট। প্রকাশ্য দিবালোকে এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে সমতল করে ২ থেকে ৫ শতকের প্লট তৈরি করা হচ্ছে। এসব প্লট আকারভেদে ২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রধানত নিম্ন আয়ের মানুষ, পোশাক শ্রমিক এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিরা সস্তায় নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় এসব প্লট কিনছেন। তবে ক্রেতাদের কাছে বিক্রির সময় কোনো বৈধ দলিল দেওয়া হয় না; কেবল ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ভুয়া ‘পজেশন’ হস্তান্তরের চুক্তিপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই বিশাল অবৈধ কর্মযজ্ঞের নেপথ্যে রয়েছে তিনটি কথিত সমিতি আলীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল সংগ্রাম পরিষদ এবং চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমাজকল্যাণ সমিতি। এই ভূমি বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে পুরো জঙ্গল সলিমপুরকে ১১টি ব্লকে ভাগ করে ১৫-২২ সদস্যের উপ-গ্রুপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৩ হাজার ১০০ একরের ওপর ২৫ থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। প্লট বেচাকেনায় উভয় পক্ষকেই সমিতিকে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়।

অবৈধ বিদ্যুৎ-পানি সিন্ডিকেট: জঙ্গল সলিমপুরে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকে কেন্দ্র করে এক বিশাল ‘সেবা খাত’ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো। সমিতির আড়ালে পরিচালিত এই সিন্ডিকেট সরকারি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রায় ৩০ হাজার পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে। প্রতি মাসে শুধু এই তিন খাত থেকে তারা ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই এলাকায় মাত্র ২২ মিটারের অধীনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। একটি নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গ্রাহককে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হয় এবং প্রতি ইউনিটের বিল আদায় করা হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা। একইভাবে পানির নতুন সংযোগের জন্য ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়। মাসিক পানির বিল হিসেবে পরিবারপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ১৮০০ থেকে ৩২০০ টাকা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়। বাইরের কোনো দোকান থেকে গ্যাস কেনার সুযোগ তাদের নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%