ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তিন কোটি খুচরা দোকানকে নজরদারিতে আনছে এনবিআর


তিন কোটি খুচরা দোকানকে নজরদারিতে আনছে এনবিআর

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের প্রায় ৩ কোটি খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

এ লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো খুচরা ব্যবসার জন্য নামমাত্র টার্নওভার ট্যাক্স চালুর প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কর ব্যবস্থার বাইরে থাকা অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ডিলার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খুচরা দোকানে পণ্য সরবরাহের সময় বিলের ওপর শূন্য দশমিক দুই শতাংশ হারে কর উৎসে কেটে রাখবে। অর্থাৎ, প্রতি ১ হাজার টাকার পণ্য ক্রয়ে খুচরা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ টাকা কর কেটে সরকারের কোষাগারে জমা হবে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, কর পরিশোধের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করতে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এ-চালান ব্যবস্থার সঙ্গে এই কর সংযুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি তিন মাস অন্তর মোবাইলে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে জানতে পারবেন তাদের নামে কত টাকা কর জমা হয়েছে। ফলে তারা সহজেই বুঝতে পারবেন তাদের আয় করযোগ্য সীমায় পৌঁছেছে কি না। কর কর্মকর্তারা বলছেন, এই মডেলটি ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপরের স্তরে কর সংগ্রহের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়ীকে কর নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের পদ্ধতির মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি খুচরা দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের অধিকাংশই এখনো আয়কর নেটওয়ার্কের বাইরে। ফলে অর্থনীতির একটি বড় অংশের লেনদেন কর ব্যবস্থার আওতায় আসে না। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্তত তাদের ক্রয়বিক্রয়ের একটি নথিভুক্ত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, উৎস পর্যায়ে কর সংগ্রহের এই পদ্ধতি জাতীয় কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার ভাষায়, খুচরা ব্যবসায়ীদের ক্রয়ের তথ্য নথিভুক্ত হওয়ার ফলে তাদের প্রকৃত আয় সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বড় করপোরেট সুপারশপ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মধ্যে কর-অনুবর্তিতার (ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স) ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যও কিছুটা কমবে। তিনি আরও বলেন, এই তথ্যভাণ্ডার ভ্যাট প্রশাসনের জন্যও সহায়ক হবে। কারণ এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে খুচরা ব্যবসাগুলোকে ভ্যাট নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করার পথ সহজ হবে এবং সামগ্রিক রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, করের বোঝা যদি শেষ পর্যন্ত উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়ে, তাহলে তাদের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে সেই অতিরিক্ত ব্যয় পণ্যের মূল্যে যোগ হয়ে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নতুন ব্যবস্থার বাস্তবায়নে কর প্রশাসনকে বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এনবিআর কর্মকর্তাদের আশা, করের হার অত্যন্ত কম হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে তেমন আপত্তি থাকবে না। বরং ধাপে ধাপে দেশের বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে করের আওতায় এনে রাজস্বভিত্তি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সরেজমিন : জঙ্গল সলিমপুর

রাজনৈতিক ছত্রছায়ার মধ্যে রয়েছে ১১ বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ এম


রাজনৈতিক ছত্রছায়ার মধ্যে রয়েছে ১১ বাহিনী

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের পাশে পাহাড়ের বুক চিড়ে ভিতরে ঢুকে গেছে একটি সরু পথ।

এই পথ ধরে জঙ্গল সলিমপুরের গহিনে যত এগোনো যায়, ততই যেন উন্মোচিত হতে থাকে এক অচেনা, ভূতুড়ে রাজ্যের দৃশ্যপট। চারদিকে পাহাড় কাটার দগদগে ক্ষত আর সারি সারি টিনের চালার নিচে চাপা পড়ে আছে হাজারো মানুষের বোবা কান্না।

প্রায় চার দশক ধরে ৩ হাজার ১০০ একরের এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বীরদর্পে চলছে সরকারি খাসজমি দখল ও ত্রাসের রাজত্ব। সরকার বদলায়, ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু বদলায় না জঙ্গল সলিমপুরের ভাগ্য। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনটি কাগুজে সমিতির আড়ালে ১১টি সশস্ত্র বাহিনী পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য করছে। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে ৩০ হাজার পরিবার। রাষ্ট্রের ভিতর গড়ে ওঠা আরেক ‘রাষ্ট্রের’ রোমহর্ষক চিত্রই উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সরেজমিন অনুসন্ধানে।

রবিবার (৩১ মে) চট্টগ্রামের অপরাধ সাম্রাজ্য খ্যাত জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে সন্ত্রাসীদের আস্তানা নির্মূল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের এলাকা থাকবে না। থাকবে না কোনো অভয়ারণ্য। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে যারা চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে, তাদের আশ্রয়স্থল কোথায় আমরা দেখতে চাই না। জঙ্গল সলিমপুর থেকে সর্বশেষ আস্তানাও আমরা নির্মূল করব।’

জঙ্গল সলিমপুরে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ- ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক দিয়ে এগোলেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন। এর ঠিক বিপরীত দিকে একটি সড়ক প্রবেশ করেছে পাহাড়ের দিকে। প্রবেশ মুখেই পড়ে পাহাড়ের বুক চিড়ে তৈরি হওয়া জঙ্গল সলিমপুরের সরু পথ। সেই পথ ধরে যেতে যেতে দেখা মেলে এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার ক্ষতচিহ্ন। সময়ের আবর্তনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অথবা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হয়তো গডফাদারদের পতন হয়েছে, বদল হয়েছে মুখের। কিন্তু জঙ্গল সলিমপুরের ভাগ্য বদলায়নি। পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্যের এ সোনার ডিম পাড়া হাঁসটি কখনোই হাতছাড়া করতে চায় না কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী।

জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ ও ২০০০ সালের শুরুর দিকে জঙ্গল সলিমপুরে প্রথম দখলদারিত্বের গোড়াপত্তন হয়। ভূমিহীন ও ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসনের ধুয়া তুলে ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে শুরু হয় পাহাড় দখল। শুরুতে এটি একটি নিরীহ আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও খুব দ্রুতই তা এক সুসংগঠিত ভূমি দখলকারী সিন্ডিকেটে রূপ নেয়।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলেছে, জঙ্গল সলিমপুর বর্তমানে তিনটি প্রধান সন্ত্রাসী বাহিনীসহ ১১টি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মূলত তিনটি কাগুজে সংগঠনের আড়ালে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে মূল সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- আলীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল (সমন্বয়) সংগ্রাম পরিষদ এবং চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমাজকল্যাণ সমিতি। এর মধ্যে আলীনগর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া। তিনি ‘আলীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি’র আড়ালেই চালাচ্ছেন কার্যক্রম।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর তিনি রীতিমতো মহিরুহে পরিণত হন। অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় তিনি জঙ্গল সলিমপুরের অঘোষিত সম্রাটে পরিণত হন, যার দাপট বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও অব্যাহত রয়েছে। অথচ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন এই ইয়াসিন।

‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল (সমন্বয়) সংগ্রাম পরিষদ’ মাধ্যমে ‘ছিন্নমূল’ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন শীর্ষ সন্ত্রাসী কাজী মশিউর রহমান ও তার অনুসারী রিদুয়ান। এ সন্ত্রাসী বাহিনীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী দুই নেতার বিরুদ্ধে। আগে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন আওয়ামী লীগের দুই সাবেক এমপি দিদারুল আলম এবং এস এম আল মামুন। এ ছাড়া ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমাজকল্যাণ সমিতি’র নিয়ন্ত্রক রোকন উদ্দিন মেম্বার, যাকে আড়ালে থেকে আশ্রয় দিচ্ছেন বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা।

এ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী ছাড়াও পাহাড়ের গহিনে সক্রিয় রয়েছে- লাল বাদশা বাহিনী, ফারুক বাহিনী, গফুর মেম্বার বাহিনী, গাজী সাদেক বাহিনীসহ ৮টি সশস্ত্র গ্রুপ। নেপথ্যে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে এসব বাহিনীকে মদত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কথা হয় জঙ্গল সলিমপুরের অন্তত সাতজন অধিবাসীর সঙ্গে। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন- জঙ্গল সলিমপুরের এ চক্র ভাঙতে না পারার মূল কারণ হলো এর পেছনে থাকা বিশাল অর্থনৈতিক স্বার্থ। প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি এবং শতকোটি টাকার ভূমি দখলের এ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কতিপয় সদস্যসহ অনেকেই। মাঠপর্যায়ের সন্ত্রাসীরা ধরা পড়লেও নেপথ্যের ইন্ধনদাতা বা হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এসব সন্ত্রাসী বাহিনীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেন প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা। বিনিময়ে তারা প্রতি মাসে নেন মোটা অঙ্কের মাসোহারা।

খাসজমিতে অবৈধ বাণিজ্য: জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাসজমি ও বনভূমি দখল করে শত শত কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ভূমি দখলকারী সিন্ডিকেট। প্রকাশ্য দিবালোকে এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে সমতল করে ২ থেকে ৫ শতকের প্লট তৈরি করা হচ্ছে। এসব প্লট আকারভেদে ২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রধানত নিম্ন আয়ের মানুষ, পোশাক শ্রমিক এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিরা সস্তায় নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় এসব প্লট কিনছেন। তবে ক্রেতাদের কাছে বিক্রির সময় কোনো বৈধ দলিল দেওয়া হয় না; কেবল ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ভুয়া ‘পজেশন’ হস্তান্তরের চুক্তিপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই বিশাল অবৈধ কর্মযজ্ঞের নেপথ্যে রয়েছে তিনটি কথিত সমিতি আলীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল সংগ্রাম পরিষদ এবং চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমাজকল্যাণ সমিতি। এই ভূমি বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে পুরো জঙ্গল সলিমপুরকে ১১টি ব্লকে ভাগ করে ১৫-২২ সদস্যের উপ-গ্রুপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৩ হাজার ১০০ একরের ওপর ২৫ থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। প্লট বেচাকেনায় উভয় পক্ষকেই সমিতিকে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়।

অবৈধ বিদ্যুৎ-পানি সিন্ডিকেট: জঙ্গল সলিমপুরে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকে কেন্দ্র করে এক বিশাল ‘সেবা খাত’ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো। সমিতির আড়ালে পরিচালিত এই সিন্ডিকেট সরকারি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রায় ৩০ হাজার পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে। প্রতি মাসে শুধু এই তিন খাত থেকে তারা ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই এলাকায় মাত্র ২২ মিটারের অধীনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। একটি নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গ্রাহককে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হয় এবং প্রতি ইউনিটের বিল আদায় করা হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা। একইভাবে পানির নতুন সংযোগের জন্য ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়। মাসিক পানির বিল হিসেবে পরিবারপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ১৮০০ থেকে ৩২০০ টাকা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়। বাইরের কোনো দোকান থেকে গ্যাস কেনার সুযোগ তাদের নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
দাবি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের

আইআরজিসির প্রভাবেই ক্ষমতার কেন্দ্র, সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পেজেশকিয়ানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:১১ এম


আইআরজিসির প্রভাবেই ক্ষমতার কেন্দ্র, সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পেজেশকিয়ানের

ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আশ্চর্যজনক নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবী পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে সরকার কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট কঠোরপন্থি কমান্ডারদের হাতে বাস্তব ক্ষমতা চলে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Iran International এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে কথিত হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সম্প্রতি সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করেন যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রেসিডেন্ট এবং সরকারের ভূমিকা ক্রমশই সীমিত হয়ে পড়ছে। ফলে প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, যার সুযোগ নিয়ে আইআরজিসির কঠোরপন্থি অংশ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন এবং সরকার পরিচালনা করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই তিনি অবিলম্বে পদত্যাগের অনুমতি চেয়েছেন। তবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়েএখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে ইরানের বেসামরিক প্রশাসন এবং সামরিক-নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে যে, আইআরজিসি ধীরে ধীরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে, যার ফলে প্রেসিডেন্টের প্রশাসন নীতিনির্ধারণ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট, আন্তর্জাতিক চাপ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ভেতর মতবিরোধ আরো প্রকট হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের খবর দেশটির শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, কিন্তু যদি এই খবর সত্যি হয় তবে তা দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতার স্তরে গভীর রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুগের জিন্নাহ নাহিদ ইসলাম : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৬ এম


যুগের জিন্নাহ নাহিদ ইসলাম : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট দিয়েছেন।

রবিবার (৩১ মে) রাত ১১টার সময় দেওয়া ওই পোস্টে তিনি নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম ও সাদিক কায়েমকে উল্লেখ করে মন্তব্য করেন।

রবিবার (৩১ মে) রাত ১১টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, "যুগের জিন্নাহ নাহিদ ইসলাম, যুগের ইকবাল মাহফুজ আলম, যুগের মওদূদী সাদিক কায়েম। এত মারামারি না করে একজনকে বাছাই করে নিলেই তো হয়!"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপি থেকে ঝালকাঠি জেলার আহ্বায়ক মান্না পদত্যাগ করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ এম


এনসিপি থেকে ঝালকাঠি জেলার আহ্বায়ক মান্না পদত্যাগ করেছেন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) ঝালকাঠি জেলা শাখার আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মাইনুল ইসলাম মান্না। গত ২৩ মে লিখিত অব্যাহতি পত্র এসসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির আহব্বায়ক বরাবরে পাঠানো হলেও, ৩১ মে রাত ১০টার দিকে মান্না তার ফেসবুক ওয়ালে বিষয়টি জানান দেন।

অব্যাহতি পত্রটি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশনে মান্না লিখেছেন, ‘এ সিদ্ধান্ত একান্তই আমার ব্যক্তিগত। কারো কোনো জোর জবরদস্তি বা চাপে এই সিদ্ধান্ত নেইনি। আহবায়ক থাকাকালীন সময় কেউ যদি আমার কোনো ব্যবহারে বা কথায় কষ্ট পেয়ে থাকেন, দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন।’

এনসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো অব্যাহতি পত্রে মান্না লিখেছেন, ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণবশত আমি ঝালকাঠি জেলার আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। আমি সর্বদা দলের আদর্শ ও কর্মকাণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও দলের কল্যাণ কামনা করি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%