মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০৭:৪৫ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে ডাকাতির শিকার হওয়া ৩১টি ষাঁড়-বাছুর বোঝাই একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে সরাইল উপজেলার ধরন্তী এলাকা থেকে। ট্রাকটি উদ্ধার করার সময় ডাকাতদের জিম্মি করে রাখা চালক ও হেলপারকেও উদ্ধার করা হয়। তবে, অভিযুক্ত ডাকাতরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালাতে সক্ষম হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে এই ঘটনা ঘটে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, গভীর রাতের টহলরত পুলিশ কুট্টাপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীদের কাছ থেকে জানতে পারে যে, বিজয়নগরের বুধন্তী-চান্দুরা এলাকায় একটি গরুভর্তি ট্রাক ডাকাতির শিকার হয়েছে। পুলিশ খবর পেয়ে ট্রাকটির পিছু ধাওয়া শুরু করে।
পুলিশের ধাওয়া টের পেয়ে ডাকাতরা মহাসড়ক ছেড়ে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে প্রবেশ করে। পরে ধরন্তী ব্রিজ এলাকায় পুলিশ চেকপোস্ট বসালে ডাকাতরা সেটি ভেঙে পালাতে চেষ্টা করে। এ সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের চাপের মুখে ডাকাতরা ট্রাকটি ফেলে পাশের হাওরে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩১টি ষাঁড়-বাছুরসহ ট্রাক, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন মিনি পিকআপ, একটি ব্যাগ, আইফোন-৬ প্লাস, গাড়ির কাগজপত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া, হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় ট্রাকের চালক হায়দার আলী এবং হেলপার মো. হুমায়ুন কবির বিপ্লবকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ট্রাকটি সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে নরসিংদীর একটি পশুর হাটে ৩১টি ষাঁড়-বাছুর নিয়ে যাচ্ছিল। পথে বিজয়নগরের বুধন্তী ও চান্দুরা এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে ডাকাতরা মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাকটি থামায় এবং চালক ও হেলপারকে মারধর করে হাত-চোখ বেঁধে ট্রাকটি ছিনতাই করে নেয়। পরে এক রাখাল পালিয়ে গিয়ে মালিককে বিষয়টি জানালে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ৯৯৯ থেকে খবর পাওয়ার পর বিজয়নগর থানা পুলিশ ডাকাতদের ধাওয়া শুরু করে। পরে ট্রাকটি সরাইল থানার এলাকায় প্রবেশ করলে, দুই থানার পুলিশের সমন্বিত অভিযানে ট্রাকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় আইনগত কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার সদর উপজেলায় আজ গরু নিয়ে করতোয়া নদী পার হওয়ার সময় পানিতে ডুবে গুল মোহাম্মদ আলী (৬০) নামক একজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের বোদাপাড়া এলাকায় ঘটে এই দুঃখজনক ঘটনা। মৃত গুল মোহাম্মদ আলী জেলার সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের বোদাপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে গরু নিয়ে করতোয়া নদী পার হওয়ার সময় তিনি হঠাৎ করে প্রবল স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে যান। এ সময় নদীর পাড়ে উপস্থিত কয়েকজনের চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন তাৎক্ষণিকভাবে গুল মোহাম্মদ আলীকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে খবর পাওয়ার পর পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর নদী থেকে গুল মোহাম্মদ আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তুষার কান্তি রায় জানান, খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ জেলার সমতা এনজিও এর গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার মানুষের বিপুল পরিমাণ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এবং আত্মগোপনে থাকা, সমতা এনজিও এর নির্বাহী পরিচালক প্রতারক সাইদুর রহমান শাহিনকে আজ ১১ জুলাই জনগণের সহায়তায় নওগাঁ জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে।
প্রতারক শাহিন ০৮টি সাজা সহ ওয়ারেন্টের পলাতক আসামি। যার মধ্যে জিআর মোট ০২টি, সিআর ০৪টি এবং সিআর সাজা ২টি, সবমিলিয়ে ০৮টি ওয়ারেন্ট রয়েছে। সমতা এনজিও এর নির্বাহী পরিচালক প্রতারক সাইদুর রহমান শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধুপুরে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
টাঙ্গাইলের মধুপুরে এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে মধুপুর রানী ভবানী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মধুপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি নঈম উদ্দীন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট ওবায়দুল হক নাসির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোছাম্মদ লায়লা আন্জুমান বানু, ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, মধুপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একে এম ফজলুল হক, মধুপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিম্স, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রিজভী আহমেদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়া সংগঠক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণ করে মধুপুর উপজেলা দল এবং ঘাটাইল উপজেলা দল। খেলায় মধুপুর একাদশকে হারিয়ে ঘাটাইল একাদশ ০/১ গোলে বিজয়ী হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভুষির ভিটা ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ভাঙন আতঙ্কের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
টানা বৃষ্টির কারণে এবং উজানের ঢলের প্রভাবে গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতল কখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে, আবার কখনো কমছে। এই পানি ওঠা-নামার সাথে সাথে চার উপজেলার নদী তীরবর্তী মোট ২৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কের কারণে আরও দুই শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র স্থানান্তর করছে। ভাঙন কবলিত মানুষগুলো বর্তমানে অর্ধাহারে-অনাহারে জীবন যাপন করছে। জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকায় পরিদর্শনে গেলেও তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
শনিবার, গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর দুপুর ৩টার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৩৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ঘাঘট নদের পানি একই রকম অপরিবর্তীত রয়েছে, যা বিপৎসীমার ১৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৫৮ সেন্টিমিটার এবং তিস্তার নদীর পানি ২১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
চলমান বন্যা মৌসুমের মধ্যে বর্তমানে গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
জেলা জুড়ে ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো হলো ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি এবং কাউয়াবাদা, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার এবং কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, সেই সাথে সদর এবং সাঘাটা উপজেলার কিছু এলাকায়ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকার ভাঙন থামছে না, ফলে নদী পাড়ের মানুষ বিপদে পড়েছে।
সব থেকে বেশি ভাঙন ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ও কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে। সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নেও ভাঙন হচ্ছে। শুক্রবার গভীর রাতে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষির ভিটা গ্রামে পূর্বে ডাম্পিং করা জিও ব্যাগ হঠাৎ তিনটি স্থানে ধসে গেছে। এর মধ্যে এক স্থানে প্রায় ৫০ মিটার, অন্য স্থানে ৩০ মিটার এবং আরেক স্টানে ২০ মিটার এলাকা ডেবে যায়। ধসে যাওয়া তিনটি স্থানের মধ্যে দু’টি সাধারণ মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকাতে এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যদি জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে পুনরায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং না করা হয়, তাহলে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং মানুষসহ জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এ ঘটনা সম্পর্কে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষির ভিটা গ্রামের বাসিন্দা ময়নুল ইসলাম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বাড়ির সামনের বাঁধে ডাম্পিং করা স্থানে ধসে গেছে। বাঁধ ভেঙে গেলে বসতবাড়ি নদীতে তলিয়ে যাবে। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠবো তা জানি না।
অন্যদিকে, ওই গ্রামের সাবেক স্কুল শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, এলাকায় ডাম্পিং করা বাঁধের তিন স্থানে ধসে গেছে। বাঁধ ভেঙে গেলে এলাকার কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে আশ্রয়হীন হয়ে բազմաթիվ মানুষ পড়বে।
দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙনের শিকার নূরি বেগম হতাশ হয়ে বলেন, মাসখানেক ধরে এলাকা ভাঙছে। সমস্ত আবাদি জমি চলে গেছে। বর্তমানে কেবল বাড়ি-ভিটা রয়ে গেছে। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। একবেলার খাবার জোগাড় করতে দু’বেলা না খেয়ে আছি।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানিয়ে দেন, দক্ষিণ রসুলপুরে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। এছাড়াও ভাঙন ঠেকাতে ১০ থেকে ১২টি পয়েন্টে জরুরি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভুষির ভিটা এলাকায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ