প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভুষির ভিটা ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ভাঙন আতঙ্কের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
টানা বৃষ্টির কারণে এবং উজানের ঢলের প্রভাবে গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতল কখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে, আবার কখনো কমছে। এই পানি ওঠা-নামার সাথে সাথে চার উপজেলার নদী তীরবর্তী মোট ২৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কের কারণে আরও দুই শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র স্থানান্তর করছে। ভাঙন কবলিত মানুষগুলো বর্তমানে অর্ধাহারে-অনাহারে জীবন যাপন করছে। জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকায় পরিদর্শনে গেলেও তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
শনিবার, গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর দুপুর ৩টার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৩৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ঘাঘট নদের পানি একই রকম অপরিবর্তীত রয়েছে, যা বিপৎসীমার ১৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৫৮ সেন্টিমিটার এবং তিস্তার নদীর পানি ২১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
চলমান বন্যা মৌসুমের মধ্যে বর্তমানে গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
জেলা জুড়ে ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো হলো ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি এবং কাউয়াবাদা, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার এবং কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, সেই সাথে সদর এবং সাঘাটা উপজেলার কিছু এলাকায়ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকার ভাঙন থামছে না, ফলে নদী পাড়ের মানুষ বিপদে পড়েছে।
সব থেকে বেশি ভাঙন ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ও কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে। সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নেও ভাঙন হচ্ছে। শুক্রবার গভীর রাতে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষির ভিটা গ্রামে পূর্বে ডাম্পিং করা জিও ব্যাগ হঠাৎ তিনটি স্থানে ধসে গেছে। এর মধ্যে এক স্থানে প্রায় ৫০ মিটার, অন্য স্থানে ৩০ মিটার এবং আরেক স্টানে ২০ মিটার এলাকা ডেবে যায়। ধসে যাওয়া তিনটি স্থানের মধ্যে দু’টি সাধারণ মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকাতে এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যদি জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে পুনরায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং না করা হয়, তাহলে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং মানুষসহ জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এ ঘটনা সম্পর্কে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষির ভিটা গ্রামের বাসিন্দা ময়নুল ইসলাম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বাড়ির সামনের বাঁধে ডাম্পিং করা স্থানে ধসে গেছে। বাঁধ ভেঙে গেলে বসতবাড়ি নদীতে তলিয়ে যাবে। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠবো তা জানি না।
অন্যদিকে, ওই গ্রামের সাবেক স্কুল শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, এলাকায় ডাম্পিং করা বাঁধের তিন স্থানে ধসে গেছে। বাঁধ ভেঙে গেলে এলাকার কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে আশ্রয়হীন হয়ে բազմաթիվ মানুষ পড়বে।
দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙনের শিকার নূরি বেগম হতাশ হয়ে বলেন, মাসখানেক ধরে এলাকা ভাঙছে। সমস্ত আবাদি জমি চলে গেছে। বর্তমানে কেবল বাড়ি-ভিটা রয়ে গেছে। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। একবেলার খাবার জোগাড় করতে দু’বেলা না খেয়ে আছি।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানিয়ে দেন, দক্ষিণ রসুলপুরে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। এছাড়াও ভাঙন ঠেকাতে ১০ থেকে ১২টি পয়েন্টে জরুরি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভুষির ভিটা এলাকায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন