০৪:০০ পি.এম
খুলনার পাইকগাছায় গাছ থেকে ডাব পেড়ে খাওয়ায় গফুর গাজী (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে টেনে হিচরে উলঙ্গ করে ফেলাসহ বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের মটবাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ওই দিন মো. গফুর গাজী তার বাড়ির পাশে নিজের লাগানো একটি নারকেল গাছ থেকে ডাব পেড়ে খায়। এরপর তিনি কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষ মৃত আলেক মোড়লের ছেলে মাজেদ মোড়ল (৪৫) সহ তার ভাই ছবেদ মোড়ল (৪৮) ও ছবেদ মোড়লের ছেলে রানা মোড়ল (২৮) এসে বৃদ্ধ গফুর গাজীকে ডাব পেড়ে খাওয়ার কারণ জানতে চান। তখন গফুর বলেন, "আমি আমার লাগানো গাছ থেকে ডাব পেড়ে খেয়েছি, তাতে সমস্যা কি?" এ কথা বলার সাথে সাথে তারা এলোপাথাড়ি মারধর করে, মুখের দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং তার পরনের লুঙ্গি খুলে গলায় পেঁচিয়ে শাঁস রুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
আরও পড়ুন: সাবরাং ইউনিয়নে শোডাউন দিয়ে প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থীরা
এই সময় বৃদ্ধ গফুর গাজী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে সেখান থেকে হাত-পা বেঁধে উলঙ্গ করে টেনে হিচড়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী মাজেদ মোড়লের বাড়ির সামনে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে পুনরায় মারধর করতে থাকে। এ সময় স্থানীয়রা তার পরিবারের লোকজনকে খবর দিলে তারা লোকজন ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে, প্রত্যক্ষদর্শী গৃহবধূ মাহফুজা বেগম ও ছবিরন বিবিসহ একাধিক এলাকাবাসী জানান, বৃদ্ধ গফুর গাজীর সঙ্গে যে ঘটনাটি হয়েছে তা খুবই ন্যাক্কারজনক। আমরা গ্রামবাসী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ জানান, মারপিটের বিষয়ে জানতে পেরে আমি সেখানে গিয়ে দেখি গফুরকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় আমি কয়েকজন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। সামান্য বিষয় নিয়ে তাকে এভাবে মেরে আহত করাটা ঠিক নয়।
আরও পড়ুন: মধুপুরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ ছবেদ মোড়লের ছেলে আরিফ হোসেন বলেন, গফুর গাজী প্রায়ই আমাদের গাছ থেকে ডাব ও নারকেল পেড়ে খায়। আজ সে হাতেনাতে ধরাপড়ে। রাগের মাথায় কিছু মারপিট করে আমার পিতা, ছোটভাই ও চাচা। পরে প্রতিপক্ষরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে আমার ছোট ভাই রানাকেও বেদম মারপিট করেছে। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে খুমেক হাসপাতালে পাঠান রেফার করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন