০৪:০১ পি.এম
প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়া বগুড়ার আদমদীঘি থানার আলোচিত-সমালোচিত পুলিশ কনস্টেবল রানা মাসুদের মেয়েকে এক মাস ২২ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে ওই কিশোরীকে অপহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে মূল অভিযুক্ত যুবকও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার দৈব নন্দপুর গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত যুবকের নাম শহীদ হোসেন (২০)।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ডিবি কার্যালয় চত্বরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিবেদন দেন এই বিষয়ে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান যে, উদ্ধার হওয়া কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত বরিশালের তরুণ সংগঠক আরিফুর রহমান, এক দশকের কাজের স্বীকৃতি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, বগুড়ার আদমদীঘি থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রানা মাসুদের মেয়ের সঙ্গে শহীদ হোসেন নামের এক যুবকের প্রেম গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে গত ১ মে ওই যুবক পুলিশ সদস্যের মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পরপরই কনস্টেবল রানা মাসুদ তার কর্মস্থল আদমদীঘি থানায় মামলা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মামলা নেয়ার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে কনস্টেবল রানা মাসুদ বাধ্য হয়ে বগুড়ার আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গত ৭ মে আদমদীঘি থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় অভিযুক্ত শহীদ হোসেনসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়।
কনস্টেবল রানা মাসুদের অভিযোগ, তার মেয়েকে আগে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছিল। সেখানে পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাফিজ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করলেও তা তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেননি। এই বিষয়গুলো নিয়ে কনস্টেবল রানা মাসুদ পরবর্তীতে ঢাকা গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আদমদীঘি ও পাঁচবিবি থানার দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে, নিজে পুলিশ সদস্য হয়েও পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
কনস্টেবল রানা মাসুদের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তার পলাতক মেয়েও প্রেমিক শহীদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দেয়। সেখানে সে উল্টো তার পিতার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলে। এই ঘটনার এক পর্যায়ে সম্প্রতি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে কনস্টেবল রানা মাসুদকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ৫৬৬ মন্দির-মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়িয়েছে এসআরবি-১৩
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সংবাদ ব্রিফিংয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, যেহেতু উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের কম, তাই তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আইনগতভাবে অপহরণজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মামলাও রয়েছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কন্যা অপহরণের পর তাকে উদ্ধার করার জন্য কনস্টেবল রানা মাসুদ বিধিবহির্ভূত আচরণ করায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
ডিবি পুলিশের সংবাদ ব্রিফিংয়ের পর সেখানে উপস্থিত সাময়িক বরখাস্ত কনস্টেবল রানা মাসুদও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তার মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য ডিবি পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
তবে তিনি তার আগের দাবিতে অনড় থেকে মন্তব্য করেন, ‘ঘটনার পর যদি আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতেন, তাহলে আমার মেয়ে আরও আগে উদ্ধার হতো।’ একই সঙ্গে তিনি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর হাফিজের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘তিনি আমার মেয়েকে উদ্ধার করলেও তাকে ফিরিয়ে দেননি।’
আরও পড়ুন: রংপুরে নেসকোর প্রিপেইড মিটার অপসারণের দাবিতে হরতালের ডাক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন