০৮:৩৪ পি.এম
কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক ভবনের দামী ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ৩ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ট্যাবলেটগুলো টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাটটিতে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাহারছড়া নিউ সার্কিট হাউজ রোডে পুলিশ সুপারের কার্যালয় মোড়সংলগ্ন কোরাল রীফ পূর্বিতা সুলতান ভিলার নবম তলার ৮/এ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে এসব ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আরমান রয়াতী প্রকাশ আরমান বয়াতী (২৭), মো. শামীম (৩০) ও মো. রাকিব (২৫)। তাঁদের বাড়ি যথাক্রমে শরীয়তপুর, পিরোজপুর ও ভোলা জেলায়। এ ঘটনায় মো. রাহাদ হোসেন (২৬) নামে ঢাকার কেরানীগঞ্জের এক ব্যক্তিকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর মডেল থানার একটি মোবাইল টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, উল্লেখিত ফ্ল্যাটে কয়েকজন মাদক কারবারি ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেটসহ অবস্থান করছেন। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে স্পেশাল-০১, স্পেশাল-০২ ও স্পেশাল-০৩ মোবাইল টিমের সদস্যদের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হয়।
রাত ৩টার দিকে পুলিশ সদস্যরা ভবনটির নবম তলার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তিনজনকে পান। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁদের দেহ ও ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় শয়নকক্ষের ওয়াল কেবিনেটের ভেতর থেকে দুটি কালো রঙের ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ব্যাগ দুটির প্রতিটিতে খাকি রঙের স্কচটেপে মোড়ানো ১৫টি করে মোট ৩০টি প্যাকেট ছিল। প্রতিটি প্যাকেটে ৫০টি নীল রঙের পলিজিপার প্যাকেট এবং প্রতিটি পলিজিপার প্যাকেটে ২০০টি করে ট্যাবলেট পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৩ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে রাত ৪টার দিকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ট্যাবলেটগুলো ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা ট্যাবলেটগুলো টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেগুলো কক্সবাজার থেকে ঢাকায় অবস্থানরত পলাতক আসামি রাহাদ হোসেনের কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাটটিতে রাখা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কেনাবেচার কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। ফ্ল্যাটটির ভাড়ার চুক্তিনামা রাহাদ হোসেনের নামে রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’-আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কামরুল ইসলাম দাউদের
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন ও পলাতক রাহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১০(গ)/৪১ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন