প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই টাস্কফোর্সটি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের তদারকি করবে, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করবে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করবে এবং জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাটি সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ নয়, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা দেন।
সভায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
• বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক হারে লিফলেট ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করা।
• স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ক বিশেষ প্রচারাভিযান পরিচালনা করা।
• স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে জোরদার করা।
• ফগার মেশিন ও মশক নিধন কার্যক্রমের মান (কোয়ালিটি) নিয়মিত পরীক্ষা ও তদারকি করা।
• এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।
• নির্মাণাধীন ভবন, ছাদবাগান, টায়ারের দোকান, গ্যারেজ এবং জলাবদ্ধ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন বৃদ্ধি করা।
• গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা প্রচারকে জোরদার করা।
• ডেঙ্গুর লার্ভা শনাক্ত হওয়া স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
• ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ক মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা।
• ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই এখন থেকেই সমন্বিত ও জোরালো প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি। বক্তারা জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার পর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসা, এলজিইডি, ডিপিএইচই, রাজউক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন