০৮:২৬ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর দেশে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই বিজয়কে বাংলাদেশের বিজয় ও দেশের গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এই বিজয়কে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় সমর্থনই এই বিজয় অর্জনের প্রধান কারণ। তাঁর সমর্থন না থাকলে ১০ বছর দীর্ঘ রাস্তা আমরা ১০ সপ্তাহের মধ্যে অতিক্রম করতে পারতাম না।
এছাড়া, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ন কবীরসহ মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমের জন্যও এটি সম্ভব হয়েছে, এমনটাই জানান তিনি।
মন্ত্রিত্ব ছাড়বেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দুই পদেই থাকার নজির আগে থেকেও রয়েছে।
৪০ বছর আগে হুমায়ুন রশীদ সাহেব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন, তিনিও একই সময় দুই পদেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর সঙ্গে জিয়াউর রহমান এবং তাঁর পরিবারের অবদান সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ক্রান্তিলগ্নে জিয়াউর রহমান যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন, তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। জিয়াউর রহমানকে তিনি ‘বাংলার রাখাল রাজা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবদানকে অনন্য বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্মোচনে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক কর্মকা-ের সুযোগ সৃষ্টি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় একটি কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও কার্যকারিতার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের একটি বড় অংশ বিএনপি পরিবারের সন্তান। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদান কখনো অস্বীকার করা যায় না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি জুলাই বিপ্লব কিংবা পূর্ববর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসকে অস্বীকার করা হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একসময় এসব অর্জনের মূল্যও অস্বীকার করতে পারে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলসহ ঢাকা আইনজীবী সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বেলছড়ি এলাকায় যুবসমাজকে মাদক, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে স্থানীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মোবারক হোসেন মহিন এলাকার তরুণ খেলোয়াড়দের হাতে বিভিন্ন খেলার উপকরণ তুলে দেন।
ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা জানান, অনেকেই শিক্ষার্থী হওয়ায় নিয়মিত খেলাধুলার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার সামর্থ্য থাকে না। এমন সহযোগিতা তাদের খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।
খেলোয়াড় সোলেইমান বলেন, আমরা এখনও পড়াশোনা করছি। নিজেরা খেলার সামগ্রী কেনার মতো আর্থিক সক্ষমতা নেই। এই উপকরণ পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারব।
এ সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্যোগটির প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ মাদক, মোবাইল গেম ও অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ ধরনের উদ্যোগ যুবসমাজকে মাঠমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোবারক হোসেন মহিন বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে যুবসমাজকে মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে। খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতাই নয়, একজন তরুণকে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক মূল্যবোধ শেখায়। আমরা চাই আমাদের এলাকার তরুণরা মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থেকে খেলাধুলা ও শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও ক্রীড়াপ্রেমীদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তরুণদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও ক্রীড়া চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে একটি সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে আরও মনোযোগের সঙ্গে খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্থানীয়রা এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশিষ্টজনেরা ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার মতো নৃশংস অপরাধ প্রতিরোধে পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা বলেছেন, শিশুদের গুড টাচ ও ব্যাড টাচ সম্পর্কে শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি নারীর পোশাককে দায়ী করার সামাজিক মানসিকতা পরিবর্তন করা একান্ত জরুরি।
তারা একই সাথে এই প্রবণতারও কঠোর সমালোচনা করেছেন যে, কোনো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেই কেবল বিচার প্রক্রিয়া গতি পায়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও বিচারহীনতা’ বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব মতামত প্রকাশিত হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী আইনবিদ, মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অভাব এবং সামাজিক ট্যাবুকে এ ধরনের অপরাধের বিস্তার পাওয়ার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
একই সাথে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে মামলার বিচার কাজ শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা কেন বাস্তবায়িত হচ্ছে না, সে প্রশ্নও বক্তারা তুলেছেন। তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, ধর্ষণের ঘটনায় এখনও ভুক্তভোগী নারীকেই সমাজ এবং কাঠগড়ায় দোষারোপের শিকার হতে হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ