প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর সঙ্গে জিয়াউর রহমান এবং তাঁর পরিবারের অবদান সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ক্রান্তিলগ্নে জিয়াউর রহমান যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন, তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। জিয়াউর রহমানকে তিনি ‘বাংলার রাখাল রাজা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবদানকে অনন্য বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্মোচনে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক কর্মকা-ের সুযোগ সৃষ্টি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় একটি কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও কার্যকারিতার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের একটি বড় অংশ বিএনপি পরিবারের সন্তান। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদান কখনো অস্বীকার করা যায় না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি জুলাই বিপ্লব কিংবা পূর্ববর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসকে অস্বীকার করা হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একসময় এসব অর্জনের মূল্যও অস্বীকার করতে পারে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলসহ ঢাকা আইনজীবী সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন