০৪:২৪ পি.এম
ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ : রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী জনসভার প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
আজ সোমবার বেলা ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন।
সালেহ শিবলী বলেন, ‘বর্তমান সরকার তোষামোদ ও বন্দনার রাজনীতি থেকে বের হয়ে এসেছে এবং নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছে। অতীতে মঞ্চে উঠে দীর্ঘ সময় বন্দনা করার যে প্রথা ছিল, সরকার সে থেকে সরে এসেছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক যেসব বিষয় দীর্ঘকাল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো থেকেও বেরিয়ে আসা গেছে।’
আরও পড়ুন: মুকসুদপুরে পিকআপের চাপায় বাবা ও ৬ বছরের মেয়ে নিহত
সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের হিসাব তুলে ধরার সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সাধারণত সরকারগুলোর প্রথম ১০০ দিনকে একটি 'হানিমুন পিরিয়ড' হিসাবে গণ্য করে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়, যা একটি প্রথাগত বিষয়, তবে এটি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত কোনো বিষয় ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূলত কাজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রাথমিক ফল পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতেই এই ১৮০ দিনের পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।’
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দফা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অতীতে নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেভাবে ধরে ধরে বাস্তবায়নের নজির দেখা যায়নি।’
রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার সফলতা হিসেবে প্রেস সচিব বলেন, ‘রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতীতে যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল, ক্ষতির দায় সরাসরি সরকারের ওপর না থাকলেও জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে শোকাহত পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
আরও পড়ুন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন
কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সালেহ শিবলী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যেখানে রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের দায়িত্ব এবং নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা সমান রয়েছে। রাষ্ট্র তার সাধ্য অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াবে। এই রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সবাই ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ চেতনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।’
সালেহ শিবলী বলেন, ‘অতীতে মিরপুরে সেনাবাহিনীর একজন নিহত কর্মকর্তার বাসায় প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত হয়ে যে প্রমাণ দিয়েছেন যে সরকার মজলুমের পাশে রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পছন্দ করেন। সম্প্রতি বাসযাত্রার সময় রাস্তা অতিমাত্রায় ফাঁকা রাখার বিষয়টি নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনো ভোগান্তি না হয়। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করা এবং নিজেকে আলাদা না ভাবার বিষয়টি নতুন বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন।’
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা।
আরও পড়ুন: রাবি স্টেশনে থামবে তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেন
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন