বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:২৮ পি.এম
ফিফা বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরে নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল। গত সোমবার স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর প্রধান কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তার দায়িত্ব ছাড়েন। তার উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে জোরালো আলোচনা এখন অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ জর্জ জেসুসের নাম নিয়ে।
যদিও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি, তবে আশা করা হচ্ছে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নতুন কোচের নাম প্রকাশ করা হবে।
বুধবার এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন কোচকে অবশ্যই পর্তুগিজ ফুটবল সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখতে হবে এবং ফেডারেশন ও জাতীয় দলের জয়ের মানসিকতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। আমাদের সামনে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। আমি নিজেই পুরো বিষয়টি দেখছি এবং আশা করছি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইতিবাচক খবর দিতে পারব।’
পর্তুগালের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক আ বোলা এবং ইএসপিএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে জর্জ জেসুসকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এফপিএফ।
গত মে মাসে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরকে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জেতানোর পর বর্তমানে ৭১ বছর বয়সী এই কোচ ফ্রি এজেন্ট হিসেবে রয়েছেন। যদিও জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা তার নেই, কিন্তু ক্লাব ফুটবলে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশ-বিদেশে অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
বেনফিকার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি তিনটি লিগ শিরোপাসহ মোট ১০টি ট্রফি জিতেছেন। ২০১৯ সালে তিনি ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোর দায়িত্ব নেন এবং মাত্র এক বছরের মধ্যে পাঁচটি বড় শিরোপা জিতে ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচে পরিণত হন। এরপর ২০২৩-২৪ মৌসুমে আল হিলালকে ঘরোয়া ট্রেবল জিতিয়েও নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ২০২৫ সালে কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের কোচ হওয়ার আগে সেলেসাওদের দায়িত্বের জন্যও তার নাম আলোচনার মধ্যে ছিল।
বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে চায় পর্তুগাল। শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেই সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বাধীন দল।
এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা সামনের পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেন, ‘পর্তুগিজ ফুটবলে নতুন এক জয়ের যুগ শুরু করতে চাই আমরা। এবারের বিশ্বকাপ আমাদের প্রত্যাশার অনেক নিচে ছিল। এখন যত দ্রুত সম্ভব সেই হতাশার জবাব দিতে হবে। সামনে নেশনস লিগ, সেখানে আমাদের লক্ষ্য শিরোপা জয়। এরপর রয়েছে ইউরো এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ, যা আমাদের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের লক্ষ্য ও স্বপ্ন দুটোই এখন অনেক বড়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে র্যাব-৭-এর অভিযানে ৭০ কেজি গাঁজাসহ কথিত মাদক কারবারি রবিউল আলম এবং তার সহযোগী রোকসানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই গ্রেপ্তার অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয় বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায়, উপজেলার পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোমারবাড়ি গ্রামের একটি বাড়িতে। পরে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) র্যাব-৭-এর পক্ষ থেকে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব এবং স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা গোমারবাড়ি এলাকার পালোয়ান বাড়িকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এই এলাকায় র্যাব একাধিক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০০ কেজি গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করেছে।
এসব ঘটনার কারণে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও রবিউল আলমকে অগ্রিম গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গত ২৫ জুন রাতে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব প্রায় ৩০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। ওই ঘটনার সময় অভিযুক্ত মুজিবুল হক প্রকাশ রবিউল ও রাজমিস্ত্রি সিয়ামকে সাক্ষী হওয়ার কথা বলে নিয়ে গিয়ে আসামি করা হয়েছে, এমন অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী ও সুশীল সমাজ মানববন্ধন করে প্রকৃত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় র্যাব-৭ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। গত বুধবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিউল আলমের বাড়ির রান্নাঘরে অভিযান চালিয়ে ৭০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় গোমারবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে রবিউল আলম এবং তার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত রিপন হোসেনের স্ত্রী রোকসানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় র্যাব-৭, সিপিসি-১-এর পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন উল্লেখ করেন, র্যাব ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুজনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সাত বছরের কারাদণ্ড দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে। ২০২৪ সালে জারি করা বিতর্কিত সামরিক আইন এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অপরাধে দেওয়া এ সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেয়া হয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রায়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি বলেন, "সকল আপিল খারিজ করা হলো। পূর্ববর্তী আদালতের রায়ের কোনও আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে কোনও ভুল বোঝাবুঝি হয়নি।"
রায়ের পর ইউন সুকের আইনজীবীরা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত পর্যালোচনা ছাড়াই সুপ্রিম কোর্ট এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। ইউনের এক আইনজীবী বলেন, "আমরা সাংবিধানিক অভিযোগসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক পর্যালোচনার মাধ্যমে এই রায়ের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করব।"
চলতি আগস্টের জানুয়ারিতে একটি নিম্ন আদালত ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নিজের গ্রেফতার ঠেকাতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ব্যবহার করার অভিযোগে ইউন সুককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে আপিল আদালত সেই সাজা বাড়িয়ে সাত বছর করেন।
এদিকে, বিতর্কিত সামরিক আইন জারির মাধ্যমে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার পৃথক মামলায় তিনি ইতোমধ্যেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। ইউন সুকের দাবি, সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্তটি জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালত বলেছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, যার ফলে বিপুল সামাজিক ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া, উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে আরেক মামলায় তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। ইউনের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টাকে যৌক্তিক প্রমাণ করার উদ্দেশ্যেই ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। সূত্র: ডয়েচে ভেলে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ জন মারা গেছেন। একইসঙ্গে হাসপাতলে ভর্তি হয়েছেন ১৯০ জন। বৃহস্পতিবার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের द्वारा জানানো হয়েছে এ তথ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন মারা গেছে।
এখন পর্যন্ত চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও, ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৭৪৭ জনের মাঝে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুরভুরিয়া চা বাগান থেকে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের দ্বারা। পরে উদ্ধার করা সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার সময় উপজেলার ভানুগাছ সড়কের ফিনলে টি কোম্পানির ভুরভুরিয়া চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশন থেকে অজগরটি উদ্ধার হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশনে নিয়মিত চা পাতা তুলছিলেন শ্রমিকরা। আচমকা তারা একটি অজগর সাপ দেখতে পান এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফলে তারা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
এ ঘটনার পর বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান এ বিষয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ঘটনাস্থলে এসে অজগরটিকে উদ্ধার করেন এবং এটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা অজগরটি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে এটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অথবা অন্য কোনো সংরক্ষিত গভীর বনাঞ্চলে অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, বর্ষাকালে খাবারের সন্ধানে কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক সময় অজগর চা বাগানের ঝোপঝাড়ে চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ