০৪:৪৭ এম
মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যরা ১০০ বস্তা ইউরিয়া সারের একটি চালানসহ ২ পাচারকারিকে আটক করেছে। বিসিআইসির আমদানি করা এই পরিমাণ সারের চালান চট্টগ্রাম থেকে রাখাইনে পাচার হচ্ছিল, এই তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানির এত বড় সারের চালানের নেপথ্যে সীমান্তের পাচারকারি সিন্ডিকেট ছাড়াও কৃষি বিভাগ ও বিসিআইসির যে কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছে তা উদঘাটনে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে।
কক্সবাজারের বিজিবি রামু-৩০ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সোমবার (২৯ জুন) রাত ৯টার দিকে বিজিবি সদস্যরা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের মরিচ্যা বিজিবি তল্লাশি ফাঁড়িতে সার বোঝাই একটি মিনি ট্রাক আটক করেন। এরপর রামু ও উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মিনি ট্রাক থেকে ১০০ বস্তা সারসহ দুজনকে আটক করা হয়। জব্দ করা সারের সরকারি মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: মাদারবাড়ি বালুর মাঠে ১৫ হাজার স্কয়ার ফুটের দৃষ্টিনন্দন খেলার মাঠ হবে
আটকদের একজনের নাম মোহাম্মদ জাহেদ (২৫) এবং অন্যজন মিনি ট্রাকের চালক নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দা সৈয়দ করিম (২৮)। এ ব্যাপারে রামু থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহেদ আলম জানিয়েছেন, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের সার ও ইয়াবা পাচারকারি সিন্ডিকেট রাখাইনে পাচারের উদ্দেশ্যে এই সারের চালানটি নিয়ে যাচ্ছিল আনজুমান সীমান্ত দিয়ে।
রামু উপজেলা সদরের ফতেখারকুল ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স রামু স্টোরের মালিকানাধীন গুদাম থেকে সারের বস্তাগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সীমান্ত এলাকায়। তবে আটক সারের পাচারকারি সিন্ডিকেট এখনো পর্যন্ত চিহ্নিত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পাচারকারি সিন্ডিকেটের সবাই উখিয়ার পালংখালী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা।
বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) উপ-পরিচালক (ডিডি) বিমল কুমার প্রামাণিক কালের কণ্ঠকে জানান, ‘প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সারের চালানটি রাখাইনে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রামু উপজেলা সদরের গুদামটি আমি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছি।’
আরও পড়ুন: সিলেটে রাবার বাগান থেকে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুটি এয়ারগান উদ্ধার
তিনি জানান, কক্সবাজারে কেবল একজন ডিলারের কাছে এত বিপুল পরিমাণের সার মজুদ নেই। রাখাইনে পাচারের জন্য সারের বস্তা চট্টগ্রাম থেকে এনে রামুতে হয়তোবা মজুদ করা হয়েছিল। বিদেশ থেকে আমদানির সার পাচারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাখাইনে ইউরিয়া সারের ব্যাপক চাহিদার কারণে পাচার বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। প্রতি বস্তা সারের মূল্য রাখাইনে ৫/৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশে বস্তা প্রতি সারের সরকারি মূল্য এক হাজার ৩৫০ টাকা। সারের ডিলারগণ চট্টগ্রামের খোলা বাজার এবং বিসিআইসি সংশ্লিষ্ট লোকজনের নিকট থেকে প্রতি বস্তা ২ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে উখিয়ার আনজুমান সীমান্ত দিয়ে পাচার করছে। বিচারের বিষয়টি হচ্ছে, বস্তাপ্রতি পাচার খরচ এক হাজার টাকা হলেও পাচারকারিদের জন্য ২/৩ হাজার টাকা মুনাফা হয়ে থাকে। এ কারণেই পাচারকারিরা নাফনদ পাড়ি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সার পাচার অব্যাহত রেখেছে।
সার পাচারের বিষয়ে উখিয়ার বিজিবি-৬৪ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জাহিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, ‘রাখাইনে সারের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বিজিবি টহল দলের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচারকারিরা নানা কৌশলে সারের চালান পাচার করে আসছে। প্রতি রাতে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে নাফনদ দিয়ে পাচারকালে ৩০/৪০ বস্তা করে সার জব্দ করে থাকেন। তবে পাচারকারিদের পাচার থামানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।' তিনি আরো বলেন, ইয়াবা ও সার পাচার রোধে বিজিবি এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: পাবনায় অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে ডিবির অভিযান, গ্রেপ্তার ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন