১০:৫৮ এম
ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে এক মুদি ব্যবসায়ীর ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের পর সাইফুল ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। এই দাবি ব্যবসায়ী মেনে না নেওয়ায় সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে। প্রভাব খাটিয়ে তাদের এলাকা ছাড়া করেছিল ব্যবসায়ীর পরিবারটিকে। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে ঘটনাটি ঘটেছে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামে। এমন অভিযোগ করেছে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও স্বজনরা।
আবুল কাসেম (৪২) নামের ওই ব্যবসায়ী, যিনি দুওসুও ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের কুসমতদ্দিনের ছেলে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, মেয়ের বদনাম ও অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
অভিযোগ ওঠা সাইফুল ইসলাম একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে এবং তিনি বিবাহিত, তার বাড়িতে পূর্বের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে সাইফুল বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।
জানা গেছে, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার সময় সাইফুল ইসলাম ওই স্কুলছাত্রীর মুখ চেপে ধরে অটোতে তুলে নিয়ে যায় এবং ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে জোর করে তাকে কাগজে সই করতে বলেন। রাজি না হলে ব্যবসায়ীর বাবাকে বাজারে যাওয়ার সময় এবং ছোট ভাইকে মাদ্রাসা থেকে ফেরার সময় মেরে ফেলার হুমকি দেয় সাইফুল। ভয়ের কারণে ওই স্কুলছাত্রী সই করেন কাগজে। এরপর তাকে বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ১ জুলাই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাইফুল ইসলাম মুদি ব্যবসায়ীকে জানায় যে তার মেয়েকে বাড়িতে দিয়ে যেতে হবে এবং সঙ্গে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। বিয়ের এ দাবি ও টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ওইদিন বিকালে ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনেই তাকে মারধর করেন সাইফুল ও তার লোকজন।
ব্যবসায়ীর স্ত্রী লাবনী আক্তার জানিয়েছেন, ‘সাইফুল ও তার লোকজনের ভয়ে আমরা ৪ দিন ধরে ভগ্নিপতির বাড়িতে ছিলাম। বার বার ফোনে হুমকি দিচ্ছিল সাইফুল। মেয়েও টাকা চাচ্ছিল। সকালে আমার স্বামী বাড়িতে আসেন, তখন আমরা কেউ ছিলাম না। এসে দেখি দরজা বন্ধ, দরজা ভেঙে দেখি তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।’
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
ব্যবসায়ীর ভাই আবুল কালাম জানিয়েছেন, ‘ভয় ও অপমান সহ্য করতে না পেরে আমার ভাই এই পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা সাইফুলের বিচার চাই। পুরো গ্রামের সামনে আমার ভাইকে অপমানিত করাসহ মারধর করেছে সাইফুল।’
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে সাইফুল ইসলামকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী রুবা আক্তার বলেন, ‘সাইফুল বাড়িতে নেই।’ তিনি জানান যে সাইফুল ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেননি। বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ব্যবসায়ীর মেয়ের সাথে প্রতিবেশীদের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবার যদি আত্মহত্যা প্ররোচণার মামলা করে, পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন