ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কুমিল্লায় স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে কাজী মোজাম্মেল হক রিফাত (২৪) নামের এক আসামিকে আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ মামলায় একই সাথে তার উপর ২০ হাজার টাকার অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে, এবং অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রবিবার কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল হান্নান এই রায় প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলী এলাকার কে এম স্বপনের ছেলে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ওই কিশোরী একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হন। এই ঘটনায় ১ অক্টোবর তার মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার তদন্ত শেষ করে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ রিফাতের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন যে, মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি রিফাতকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর বিচারক আসামিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপহরণচেষ্টা থেকে নারীকে বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


অপহরণচেষ্টা থেকে নারীকে বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক নারীকে অপহরণচেষ্টা থেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের প্র valuable জীবন হারালেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। নিহত ওই কর্মকর্তার নাম গ্রুপ ক্যাপ্টেন আসিম তারিক, যিনি বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন।

জানানো হয়েছে, রবিবার (৫ জুলাই) ইসলামাবাদে বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর এবং এয়ার ইউনিভার্সিটির নিকটে ‘শাহীন চক’ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

পাকিস্তান বিমানবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় গ্রুপ ক্যাপ্টেন আসিম তারিক শাহীন চক এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি লক্ষ করেন, এক নারী মোটরসাইকেল আরোহী একজন পুরুষের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িত আছেন। নারীটি খুব বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন। এই অবস্থা দেখার পর আসিম তারিক দ্রুত এগিয়ে যান এবং মোটরসাইকেল আরোহী পুরুষটিকে বাধা দেন।

একপর্যায়ে, ওই ব্যক্তির সঙ্গে তারিকের কথোপকথন শুরু হয়। তর্কাতর্কির সময়, মোটরসাইকেল আরোহী আচমকা একটি হাতিয়ার (পিস্তল) বের করে সরাসরি আসিম তারিকের দিকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন এই কর্মকর্তা এবং ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। ঘটনার পর, নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারী ব্যক্তি তার মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং ভুক্তভোগী ওই নারীর জবানবন্দি রেকর্ড করে। তদন্তে জানা যায়, হামলাকারী ব্যক্তি ওই নারীর পরিচিত কেউ ছিলেন না, বরং তার অফিসের একজন সহকর্মী। ওই নারী পুলিশকে জানান যে, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার জন্য সহকর্মীর মোটরসাইকেলে লিফট নেওয়ার প্রস্তাব তিনি মঞ্জুর করেছিলেন। তবে কিছুদূর যাওয়ার পর ওই সহকর্মী তার অনুমতি ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে রাস্তা পরিবর্তন করে একটি নির্জন এলাকায় (শাহীন চক অঞ্চলে) প্রবেশ করতে শুরু করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারী মোটরসাইকেল থেকে নামার চেষ্টা করেন এবং তাদের মধ্যে এক তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা আসলে অপহরণের চেষ্টা ছিল।

এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হামলাকারীর নাম এবং পরিচয় প্রকাশ করেনি, এবং তাকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে এখনও কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের হুমকির মুখে তাইওয়ানে ফিরল ‘কমিউনিস্টবিরোধী’ শিক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৬ এম


চীনের হুমকির মুখে তাইওয়ানে ফিরল ‘কমিউনিস্টবিরোধী’ শিক্ষা

চীনের বাড়তে থাকা সামরিক চাপ এবং নিরাপত্তা হুমকির কথা উল্লেখ করে প্রায় ২৫ বছর পর আবারও তাইওয়ানে সামরিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কমিউনিস্টবিরোধী দেশপ্রেমের শিক্ষা’ চালু করা হয়েছে। রবিবার, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানায়।

একই সময়ে, তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, দ্বীপটির আশপাশে চীনের নৌবাহিনীর কার্যকলাপ আগের তুলনায় আরো বেড়েছে।

চীনের সামরিক হুমকি, গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোপনে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে সামরিক একাডেমির স্নাতকদের জন্য এই বিশেষ ক্লাস আবার চালু করা হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, এর লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ সামরিক কর্মকর্তাদের জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে আরো সচেতন করে তোলা। এই ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বোঝানো হবে, দেশের নিরাপত্তার জন্য কী ধরনের হুমকি রয়েছে এবং একজন সেনা সদস্য হিসেবে তাদের দায়িত্ব কী।

বিশেষ করে ‘আমরা কেন যুদ্ধ করি’ এবং ‘কার জন্য যুদ্ধ করি’—এই বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হবে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময়, তাইওয়ানে চীনের কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালানো হতো। সে সময় সরকারি প্রচারণায় চীনের কমিউনিস্ট বাহিনীকে ‘কমিউনিস্ট দস্যু’ বলে উল্লেখ করা হত। পরে, দুভাবে সম্পর্ক কিছুটা পরিবর্তিত হলে, সামরিক শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা ‘কমিউনিস্টবিরোধী দেশপ্রেমের শিক্ষা’ ২০০২ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর এর নাম পরিবর্তন করে শুধু ‘দেশপ্রেমের শিক্ষা’ রাখা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন করে চালু হওয়া এই কর্মসূচিতে চীনবিষয়ক নীতিনির্ধারণী সংস্থা মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, বিচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান একাডেমিয়া সিনিকার কর্মকর্তারা বক্তব্য দেবেন। তারা চীনের নীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তাইওয়ানের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করবেন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এই ক্লাসের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বন্ধু ও শত্রু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা, যাতে তারা জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো আরো ভালোভাবে বুঝতে পারেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে চীন দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ। প্রয়োজন হলে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের পথ থেকেও তারা সরে আসবে না বলে একাধিকবার জানিয়েছে চীন। এদিকে, তাইওয়ানের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দ্বীপটির আশপাশে চীনের সামরিক কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চীনের যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের কাছাকাছি এলাকায় টহল ও সামরিক মহড়া চালাচ্ছে।

তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানান, শুক্রবার পর্যন্ত প্রথম দ্বীপমালাজুড়ে ১১০টিরও বেশি চীনা যুদ্ধজাহাজ ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজের চলাচল পর্যবেক্ষণ করেছে তাইওয়ান। এটি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা বলে তিনি উল্লেখ করেন। জোসেফ উ বলেন, প্রথম দ্বীপমালাজুড়ে চীনের এত বড় সামুদ্রিক উপস্থিতি তাদের সম্প্রসারণবাদী নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। তিনি জানান, এই অঞ্চলটি জাপান, তাইওয়ান, ফিলিপাইন এবং বোর্নিও পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মধ্যেই শনিবার তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের কাছে নতুন করে টহল শুরু করে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী। এ ঘটনায় তাইপে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তাইওয়ানের দাবি, ওই জলসীমায় চীনের কোনো আইনি অধিকার বা কর্তৃত্ব নেই। একই সঙ্গে তাইওয়ানের সরকার আবারও বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেইনের পর রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুললেন টুখেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৯ এম


কেইনের পর রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুললেন টুখেল

মেক্সিকোর বিপক্ষে নাটকীয় জয় অর্জনের পর শুধু অধিনায়ক হ্যারি কেইন নন, ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ টুখেলও ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রেফারি ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি কড়া সমালোচনা করে টুখেল বলেছেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ম্যাচ অফিশিয়ালদের পারফরম্যান্স মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না।

বিবিসি স্পোর্টকে টুখেল বলেন, ‘এটা (রেফারিং) যথেষ্ট ভালো ছিল না। রেফারিরা ভালো ছিলেন না, চতুর্থ কর্মকর্তাও ভালো ছিলেন না। এটাই বাস্তবতা।’

বিশেষ করে ভিএআরের একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইংল্যান্ড কোচ। তার দাবি, যে পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি বদলে দেওয়া হয়েছে, সেটি 'স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল' ছিল না। টুখেলের ভাষায়, ‘এটি এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে মাঠের রেফারি প্রথমে ফাউলই দেননি। তারপরও ভিএআর হস্তক্ষেপ করে সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে। এটি স্পষ্ট ভুল ছিল না।’

ভিএআরের কর্মকর্তাদের নিয়েও আপত্তি জানান টুখেল। তিনি বলেন, ‘এমন একটি ম্যাচে যদি ভিএআরে দক্ষিণ আমেরিকার তিনজন কর্মকর্তা থাকেন, তাহলে সেটিও প্রশ্নের জন্ম দেয়।’

তবে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও দলের লড়াইয়ের প্রশংসা করতে ভোলেননি ইংল্যান্ড কোচ। তিনি বলেন, যে দলের হৃদয় আর বিশ্বাস আছে, সেটি এই দল। তারা শুধুই অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে জিতেছে। অসংখ্য প্রতিকূলতা কাটিয়ে আমরা জয় পেয়েছি। দলের জন্য আমি ভীষণ গর্বিত।

এর আগে ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাই একই ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ইংল্যান্ড শিবির থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন উঠল।

তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফলাফল ৩-২ ব্যবধানে এসেছে। স্বাগতিক মেক্সিকোকে আজতেকা স্টেডিয়ামে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। সেমির পথে তাদের বাধা হতে যাচ্ছে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাজ্য থেকে তেহরানে ফিরলেন ইরানি নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাজ্য থেকে তেহরানে ফিরলেন ইরানি নারী

মাজিয়া নামে এক ইরানি নারী যুক্তরাজ্য থেকে তেহরানে ৪০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এসেছেন খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি শুধুমাত্র এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্যই দেশে ফিরে এসেছেন।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় যাওয়ার পথে মাজিয়া বলেন, ‘আমি বিশ্বকে জানাতে এসেছি যে ৪ হাজার বছরের পুরনো একটি সভ্যতাকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। যে এটি ধ্বংস করতে চায়, সে আসলে নিজের দেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’ তার এই মন্তব্যের অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’। তবে মাজিয়ার মন্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাব হয়েছে ঠিক উল্টো। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ ইরানকে আরো শক্তিশালী করেছে। এটি দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।’ মাজিয়া মনে করেন, বিদেশি চাপ ইরানিদের জাতীয় ঐক্য ও সংকল্পকে দৃঢ় করেছে।

তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর হস্তক্ষেপমূলক নীতিরও সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ‘যারা অন্য দেশের সম্পদ কেড়ে নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে।’ আমেরিকার ভূরাজনৈতিক স্বার্থে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ এনে তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ দেন। গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রবেশের আগে তিনি পশ্চিমা গণতন্ত্রের ধারণাকেও প্রত্যাখ্যান করেন এবং জানান, ‘সিরিয়া, ইরাক বা আফগানিস্তানে যে ধরনের গণতন্ত্র দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’

মাজিয়া বলেন, মিনাবের ট্র্যাজেডির স্মৃতি এখনো তাদের মনে গভীরভাবে দাগ কেটে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা এই শোকাবহ ঘটনা ভুলে যাইনি। এক দিনের জন্যও না।’ সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে তাদের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান। তার দাবি, নিরীহ শিশুদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এসব যুদ্ধ মূলত মার্কিন করদাতাদের অর্থ দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের পতাকা হাতে শোকাহত মানুষের ঢল তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে অব্যাহত রয়েছে, যেখানে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়েছে। প্রয়াত নেতার শাহাদাত স্মরণে শিয়া সম্প্রদায়ের শোকগীতি রাজধানীজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ ধৈর্য ধরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

তেহরানের প্রধান সড়কগুলো জাতীয় পতাকা, কালো শোকের ব্যানার ও ধর্মীয় প্রতীকে সজ্জিত করা হয়েছে। শহরের প্রায় প্রতিটি মোড়ে অবস্থান নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকেরা ক্রমেই বাড়তে থাকা জনসমাগমকে নিয়ন্ত্রণ এবং পথনির্দেশনায় কাজ করছেন। আয়োজকদের ধারণা, শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে।

আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে বিদায় জানাতে তেহরানজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। রাজধানীজুড়ে শোক, ধর্মীয় আবেগ ও রাজনৈতিক প্রতীকের ছাপ স্পষ্ট। তবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে আরেকটি দৃশ্য।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিনাবের একটি মেয়েদের স্কুলে কথিত মার্কিন হামলায় নিহত ১৫০ জনেরও বেশি শিশুর ছবি সংবলিত পোস্টার টাঙানো হয়েছে। শোকবার্তার পাশে রাখা এসব ছবি মানুষের কাছে বারবার সাম্প্রতিক যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

যখন ইরান সাম্প্রতিক দশকগুলোর সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতার দাফন সম্পন্ন করছে, তখনো যুদ্ধের ক্ষত দেশটির মানুষের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। নিহত শিশুদের ছবি সেই বেদনাদায়ক স্মৃতিকে আরো স্পষ্ট করে তুলছে। তেহরান থেকে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যের শোভাযাত্রা সোমবার কুম শহরে যাবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায়। সবশেষে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে তাকে দাফন করা হবে।

গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সারা দিন ধরে খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠান চলছে। সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর মধ্যে একটি হলো খামেনির কনিষ্ঠ নাতি-নাতনির ছবি, যা তার কফিনের পাশে রাখা হয়েছে। ছবিটি দেখে অনেক শোকাহত মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

এদিকে, গ্র্যান্ড মোসাল্লায় মানুষের ঢল অব্যাহত রয়েছে। পুরো তেহরানজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষত এখনো মানুষের মনে তাজা মনে হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির নেতৃত্ব অন্তত সাময়িকভাবে জনগণের বড় একটি অংশকে নিজেদের পাশে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%