১১:০৬ এম
চীনের বাড়তে থাকা সামরিক চাপ এবং নিরাপত্তা হুমকির কথা উল্লেখ করে প্রায় ২৫ বছর পর আবারও তাইওয়ানে সামরিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কমিউনিস্টবিরোধী দেশপ্রেমের শিক্ষা’ চালু করা হয়েছে। রবিবার, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানায়।
একই সময়ে, তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, দ্বীপটির আশপাশে চীনের নৌবাহিনীর কার্যকলাপ আগের তুলনায় আরো বেড়েছে।
চীনের সামরিক হুমকি, গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোপনে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে সামরিক একাডেমির স্নাতকদের জন্য এই বিশেষ ক্লাস আবার চালু করা হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, এর লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ সামরিক কর্মকর্তাদের জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে আরো সচেতন করে তোলা। এই ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বোঝানো হবে, দেশের নিরাপত্তার জন্য কী ধরনের হুমকি রয়েছে এবং একজন সেনা সদস্য হিসেবে তাদের দায়িত্ব কী।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
বিশেষ করে ‘আমরা কেন যুদ্ধ করি’ এবং ‘কার জন্য যুদ্ধ করি’—এই বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হবে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময়, তাইওয়ানে চীনের কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালানো হতো। সে সময় সরকারি প্রচারণায় চীনের কমিউনিস্ট বাহিনীকে ‘কমিউনিস্ট দস্যু’ বলে উল্লেখ করা হত। পরে, দুভাবে সম্পর্ক কিছুটা পরিবর্তিত হলে, সামরিক শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা ‘কমিউনিস্টবিরোধী দেশপ্রেমের শিক্ষা’ ২০০২ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরপর এর নাম পরিবর্তন করে শুধু ‘দেশপ্রেমের শিক্ষা’ রাখা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন করে চালু হওয়া এই কর্মসূচিতে চীনবিষয়ক নীতিনির্ধারণী সংস্থা মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, বিচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান একাডেমিয়া সিনিকার কর্মকর্তারা বক্তব্য দেবেন। তারা চীনের নীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তাইওয়ানের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করবেন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এই ক্লাসের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বন্ধু ও শত্রু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা, যাতে তারা জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো আরো ভালোভাবে বুঝতে পারেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তবে চীন দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ। প্রয়োজন হলে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের পথ থেকেও তারা সরে আসবে না বলে একাধিকবার জানিয়েছে চীন। এদিকে, তাইওয়ানের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দ্বীপটির আশপাশে চীনের সামরিক কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চীনের যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের কাছাকাছি এলাকায় টহল ও সামরিক মহড়া চালাচ্ছে।
তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানান, শুক্রবার পর্যন্ত প্রথম দ্বীপমালাজুড়ে ১১০টিরও বেশি চীনা যুদ্ধজাহাজ ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজের চলাচল পর্যবেক্ষণ করেছে তাইওয়ান। এটি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা বলে তিনি উল্লেখ করেন। জোসেফ উ বলেন, প্রথম দ্বীপমালাজুড়ে চীনের এত বড় সামুদ্রিক উপস্থিতি তাদের সম্প্রসারণবাদী নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। তিনি জানান, এই অঞ্চলটি জাপান, তাইওয়ান, ফিলিপাইন এবং বোর্নিও পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মধ্যেই শনিবার তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের কাছে নতুন করে টহল শুরু করে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী। এ ঘটনায় তাইপে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তাইওয়ানের দাবি, ওই জলসীমায় চীনের কোনো আইনি অধিকার বা কর্তৃত্ব নেই। একই সঙ্গে তাইওয়ানের সরকার আবারও বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন