ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

কারিগরিতে ৮ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ শূন্য, ষষ্ঠ শ্রেণিতে আসছে নতুন বই


কারিগরিতে ৮ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ শূন্য, ষষ্ঠ শ্রেণিতে আসছে নতুন বই

দেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৫ হাজার ৮৪৪টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে আট হাজার ৪৮৬টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে, এমন তথ্য জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক তুলে ধরেন। ইতিমধ্যে, দুই হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ চেয়ে সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আজ রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম এবং কুমিল্লা–৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মো. আবদুল হাসনাতের পৃথক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এই তথ্যগুলো তুলে ধরেন।

স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

আরও পড়ুন: পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা চিরস্মরণীয়: ওয়াদুদ ভূঁইয়া

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে সাধারণ ধারা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন পাঠ্যপুস্তক চালু করা হবে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ৮৪৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে বর্তমানে সাত হাজার ৭৪ জন কর্মরত আছেন। এ সময় আরো বলা হয়, আট হাজার ৪৮৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, নানা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইনস্ট্রাক্টর (৯ম গ্রেড) ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (১০ম গ্রেড) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিসিএস (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার) পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। ইতিমধ্যে, দুই হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। ৪৫তম বিসিএসে পিএসসি ৯৭ জন ক্যাডার এবং ৩৪৯ জন নন-ক্যাডার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে তাঁদের নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

শিক্ষামন্ত্রী এও জানান, পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণ করা হয়ে থাকে, তবে পদোন্নতিযোগ্য চার হাজার ১৩১টি শিক্ষক ও কর্মচারীর পদে কর্মরত জনবল না থাকায় সেসব পদে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: রুহুল কবির রিজভী: বাংলাদেশে পরিকল্পিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন করছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি

নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে সাধারণ ধারা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ে নতুন একটি পাঠ্যপুস্তক চালু হবে। নতুন পাঠ্যপুস্তকটি শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্র, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করবে।

আবদুল্লাহ আল আমিনের পৃথক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাহাড়ি অঞ্চলে যেসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে তাদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা নিরসনের লক্ষ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাদরি ও গারো মাতৃভাষা ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫টি ভাষার (চাকমা, গারো, মারমা, ত্রিপুরা ও সাদারি) শিক্ষকদের মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু হয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।

যশোর–৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভার স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ নিশ্চিত করতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন একটি পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত করা হবে। এই বই শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, আত্মপ্রকাশের সক্ষমতা এবং বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করবে। এভাবে শিখন কার্যক্রম আরও অংশগ্রহণমূলক ও আনন্দময় হয়ে উঠবে।

বাগেরহাট–২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হকের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার কারণে যেসব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার বকেয়া সৃষ্টি হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বিধি-বিধান অনুসরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বকেয়া এমপিও পরিশোধের ব্যবস্থা নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওবাসী বিএনপির প্রতারণার জবাব ব্যালটে দেবেন: গোলাম পরওয়ার

এ সময় মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করলে বিধি অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

কক্সবাজার–৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান এবং ময়মনসিংহ–৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭৪টি। এর মধ্যে ৫৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ৩০টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮টি এবং প্রকৌশল, কৃষি, মেডিকেল ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ৮টি রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলিদের চোখে যুদ্ধে ‘জয়ী’ ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ পি.এম


ইসরায়েলিদের চোখে যুদ্ধে ‘জয়ী’ ইরান

যে যুদ্ধকে ইসরায়েলের জন্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সেই যুদ্ধ নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন ইসরায়েলের নিজ দেশের মানুষ। বিস্ফোরণের শব্দ থেমে গেছে, কিন্তু পরাজয়ের অনুভূতি যেন এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে ইসরায়েলরাজনীতিতে। নতুন একটি জরিপ বলছে, অধিকাংশ ইসরায়েলির বিশ্বাস এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত জিতেছে ইরান।

হিব্রু ইউনিভার্সিটি ও আগাম ইনস্টিটিউটের যৌথ জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ দশমিক ১ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে তেহরান। শুধুমাত্র তাই নয়, ৮২ দশমিক ৯ শতাংশের মতে, এই যুদ্ধ ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকেও দুর্বল করে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

জরিপে আরও দেখা যায়, ৮৬ শতাংশ মানুষ সম্পূর্ণ যুদ্ধের ফলাফলকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ, সামরিক অভিযান শেষ হলেও সাধারণ মানুষের মনে বিজয়ের অনুভূতি তৈরি হয়নি।

আর এই অসন্তোষের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর। অংশগ্রহণকারীদের ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন, পুরো যুদ্ধ পরিচালনায় তিনি দুর্বল ছিলেন কিংবা ব্যর্থ হয়েছেন। আর ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন না যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সাফল্যের যে দাবি নেতানিয়াহু করেছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে। রাজনৈতিক সমর্থনেও তার স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে। মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন ছিল ৪০ শতাংশের বেশি। জুনে সেটি নেমে এসেছে ৩০ শতাংশেরও নিচে। একই সময়ে তাঁর লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তাও কমছে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধ নিয়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক মনোভাবও। প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পক্ষে। এমনকি এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নন।

এদিকে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই অগ্রগতির কথা জানিয়েছে। কিন্তু লেবাননে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় আবারও শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেই কেবল আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও লেবাননের সংকটকে আলাদা করে দেখার আর সুযোগ নেই। কারণ যুদ্ধের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন কূটনৈতিক আলোচনার ওপরেও প্রভাব ফেলছে সরাসরি। একদিকে জনসমর্থন কমছে, অন্যদিকে যুদ্ধের ফল নিয়েও বাড়ছে প্রশ্ন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন হয়তো পার করছেন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে গ্রেফতার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ পি.এম


ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে গ্রেফতার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

রাজশাহী কলেজে মাস্টার্স শেষ বর্ষের ভাইভা পরীক্ষা দিতে এসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সজিব আলী (২৪) কে গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সামনে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে, পরে পুলিশে সোপর্দ করে।

গ্রেফতারকৃত সজিব আলী রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানার শতিহার এলাকার চর শ্যামপুর গ্রামের মুজাম্মেল হকের ছেলে। তিনি কাটাখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

জানা গেছে যে, সজিব আলী রাজশাহী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ভাইভা পরীক্ষা দিতে কলেজে আসলে শিক্ষার্থীরা তাকে শনাক্ত করেন। এরপর বিভাগের সামনে থেকে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারি বলেন, "তাকে আমাদের কাছে নিয়ে আসা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে নতুন উদ্যোক্তা না আসাই আয় বৈষম্যের মূল কারণ : বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ পি.এম


দেশে নতুন উদ্যোক্তা না আসাই আয় বৈষম্যের মূল কারণ : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন যে, দেশে গত ১২-১৫ বছরে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার কারণে আয় বৈষম্য বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা খুবই কম। যারা পূর্বেই শিল্প-কারখানার মালিক ছিলেন, সেই ব্যক্তিরাই মূলত আরও বড় সাফল্য অর্জন করেছেন। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে গ্যাসের অভাবকে চিহ্নিত করেছেন।

রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা ভবনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বিগত ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১০-১৫ বছরে সেই অনুপাত তীব্রভাবে কমে গেছে। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবাহ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের হাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এটি আয় বৈষম্য বাড়ানোর একটি প্রধান উপায় এবং আমরা সেটি অনুসরণ করেছি। 15-20 বছর আগের তুলনায় আয় বৈষম্য বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বেড়েছে।

আয় বৈষম্যের বৈশ্বিক সূচকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনকাম ডিসপারিটির স্কেল শূন্য থেকে এক পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। সূচক যত বেশি হয়, সংখ্যাটা তত বেড়ে যায় এবং আমাদের এখানে এই বৈষম্য এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের জিডিপিতে এমএসএমই খাতের অবদান আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের জিডিপিতে এই খাতের অবদান মাত্র ২০ শতাংশ। এই হারকে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, কারণ অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহকে গতিশীল রাখার জন্য এমএসএমই খাতকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, আমরা একটি ব্রড-বেইজড (সুদূরপ্রসারী) পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যেসব শিল্প পার্কে প্লট শেষ হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে আরও শিল্প পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গ্যাস সংকট ও শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমরা কম জ্বালানি ব্যবহারকারী শিল্পের দিকে বেশি নজর দেব। বর্তমানে যেসব কল-কারখানা গ্যাস সংকটে ভুগছে, সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানোর লক্ষ্যে সংকট সমাধানে আমরা আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বছরের আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘এআইনির্ভর ভবিষ্যতে মানুষমুখী অন্তর্ভুক্তি: আগামী প্রজন্মের এমএসএমই খাতের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ বিষয়ে মন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন সময়োপযোগী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে মোহাম্মদ সফিউল আলম, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব দ্বারা।

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি রবিবার সকাল ৯টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কার্যকরীভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন সম্পন্ন হয়।

ঐ অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের সহযোগিতায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ন সচিব মোহাম্মদ সফিউল আলম।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাসিবুস সাত্তার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সেলিম বালি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম ও জাফর আহমেদ, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. আবু জাকের খান, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. মাহবুব হাসান, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন যে, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণ, রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য।

জেলায় এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৭ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ হাজার ৭০৮ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৫ হাজার ৯০৯ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে জেলার পাঁচটি উপজেলা ও পৌরসভাসহ ৬১টি ইউনিয়নে মোট ১ হাজার ২০৪টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৯১টি আউটরিচ কেন্দ্র, ৭টি মোবাইল ও অতিরিক্ত কেন্দ্র এবং ৬টি স্থায়ী কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন ১৮৮ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ১৭৯ জন পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং ২ হাজার ৪১২ জন স্বেচ্ছাসেবক।

এছাড়া উল্লেখ্য যে, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থা যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, গ্রেইন এবং নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। এর ফলে দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%