ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাকৃবিতে বিশ্বকাপের উন্মাদনা, পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতিতে ভিন্ন আমেজ


বাকৃবিতে বিশ্বকাপের উন্মাদনা, পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতিতে ভিন্ন আমেজ

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞের উন্মাদনা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে। এই উন্মাদনায় শিক্ষার্থীরা শুধু বর্তমান সময়ের তারকা লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রকে নয়, ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি পেলে ও ম্যারাডোনার গ্রাফিতি এঁকে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের কমনরুমের দেয়ালে ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি আঁকেন ভেটেরিনারি অনুষদের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক শান্ত। অন্যদিকে, ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের প্রতিকৃতি আঁকেন পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ফারাবি।

মেসি ও নেইমারদের পাশাপাশি পেলে ও ম্যারাডোনার উপর আঁকা দেয়ালচিত্র দুটি বাকৃবির বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ভিন্ন আমেজ ও আনন্দ সৃষ্টি করেছে। গ্রাফিতিগুলো দেখতে এবং ছবি তুলতে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে ভিড় করছেন নানা হলের শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

পেলের গ্রাফিতি অঙ্কনকারী ব্রাজিল সমর্থক ফারাবি বলেন, 'আমার কাছে পেলে ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যাঁর হাতেই তিনটি বিশ্বকাপের ট্রফি উঠেছে। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হিসেবে তাঁর কীর্তি অনন্য।'

প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার গ্রাফিতি তৈরির সময় এবং পরিশ্রমের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'পুরো কাজটি শেষ করতে আমার প্রায় তিন দিন ও তিন রাত লাগিয়েছি। প্রথম দিন স্কেচ করতে সময় লেগেছে। পরে রঙের কাজ করতে দুই দিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখানে প্রায় ১৮ ধরনের রং ব্যবহার করা হয়েছে। ক্লাস শেষ করে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিদিন কাজ করেছি।'

এদিকে, ম্যারাডোনার গ্রাফিতি আঙ্কনকারী আর্জেন্টিনা সমর্থক রেজওয়ানুল হক শান্ত জানান, 'প্রতি চার বছরে একবার বিশ্বকাপ এলে ক্যাম্পাসে উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। সেই আনন্দকে সবচেয়ে বেশি বাড়ানোর জন্য আমরা এই গ্রাফিতির উদ্যোগ নিই।'

শান্ত জানান, প্রায় ১১ ফুট উচ্চতার ম্যারাডোনার গ্রাফিতিটি আঁকতে তার দুই দিন লেগেছে। এতে জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও তাকে সাহায্য করেছে। হলের আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নে গ্রাফিতির যাবতীয় খরচ বহন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির

শুধু শাহজালাল হলেই নয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হল, সোহরাওয়ার্দী হল ও ঈশা খাঁ হলের দেওয়ালেও শিক্ষার্থীরা ফুটিয়ে তুলেছেন বিশ্বকাপের নানা রঙ। তবে চলতি প্রজন্মের তারকাদের ভিড়ে পেলে ও ম্যারাডোনার এই গ্রাফিতি দুটি ক্যাম্পাসে নস্টালজিক হাওয়া আনছে। আঁকার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন এই দুই শিক্ষার্থী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৬ এম


“মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা”

দেশের মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সম্পর্কে জটিলতা দ্রুত সময়ে নিরসনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় নতুনভাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করায় সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান শিগগিরই হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন প্রাপ্তিতে বিলম্বের বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, ‘জুন মাসের ১৬ তারিখেও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষককে বেতন দেয়া হয়নি। একজন শিক্ষক টাকার অভাবে তাঁর মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।’ তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করেন।

সংসদে উত্থাপিত এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম’ প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন লাভ করেছিল। তবে বিগত সরকারের সময় প্রকল্পটি থেকে স্বয়ংক্রিয় ‘ইএফটি’ কার্যক্রম বাদ দেয়ার ফলে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও দ্রুত পরিশোধের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সরকার এই সমস্যার সমাধানে প্রকল্পটিতে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে। গত ৯ জুন একনেক সভায় ইএফটি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে ‘এমইএমআইএস সাপোর্ট (২য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন)’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সংশোধিত প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।

মন্ত্রণালয় জানায়, পূর্বে এই প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি বিভাগের মাত্র আটটি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইএফটি-এর মাধ্যমে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হত। এই নির্দিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত দেশের অন্যান্য সকল মাদ্রাসায় ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়া করতে হচ্ছে। আর এই সনাতন পদ্ধতির কারণেই প্রতি মাসে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে কয়েকদিন বিলম্ব হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশা করছে, খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“সাবেক এমপি হাসানাত আবদুল্লাহসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২০ এম


“সাবেক এমপি হাসানাত আবদুল্লাহসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু”

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল নেতাসহ দুই ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে নতুন ধাপে বিচারিক কার্যক্রম আজ বুধবার (১৭ জুন) শুরু হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমে মামলার ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরুর মধ্য দিয়েই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক ধাপে অগ্রসর হবে।

মামলার চার আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিন। অপরদিকে, পলাতক রয়েছেন বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান উল্লাহ।

গত ২০ মে ট্রাইব্যুনাল চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়।

মামলার ভুক্তভোগী দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাদের সরিয়ে দিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তখনকার পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি টিপু ও কবিরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর পর আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কে কথিত ‘ক্রসফায়ারের’ ঘটনা সাজিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“মাইনের ভয়াবহ হুমকিতে ৫৮ দেশ, মাটির নিচে মৃত্যুর ফাঁদ”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৩ এম


“মাইনের ভয়াবহ হুমকিতে ৫৮ দেশ, মাটির নিচে মৃত্যুর ফাঁদ”

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক মঙ্গলবার বলেছেন যে, বিশ্বের অন্তত ৫৮টি দেশ ও অঞ্চলে অ্যান্টিপারসোনেল মাইনের ঝুঁকি বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে মায়ানমার, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইউক্রেনে এসব মাইনের কারণে অনেক বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন এবং আহত হচ্ছেন।

ভলকার তুর্ক বলেন, অ্যান্টিপারসোনেল মাইন নিষিদ্ধ করার আন্তর্জাতিক চুক্তি গ্রহণের প্রায় ৩০ বছর পরেও এসব বিস্ফোরক মানব জীবনে ক্ষতি করছে। অনেক ক্ষেত্রে মাইনগুলোর পুঁতে রাখার কয়েক দশক পরেও এগুলো প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তুর্ক আরও বলেন, সকল দেশের উচিত এই নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা অস্ত্রের উৎপাদন, ব্যবহার ও হস্তান্তর বন্ধ করা। শুধুমাত্র মাইন অপসারণের কার্যক্রমকেই আরও জোরদার করা উচিত।

সরকার, এনজিও, মানবিক সংস্থা ও সুশীল সমাজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ল্যান্ডমাইন অ্যান্ড ক্লাস্টার মুনিশন মনিটরের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে যে, শুধুমাত্র ২০২৪ সালে ল্যান্ড মাইন এবং যুদ্ধের বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষের কারণে অন্তত ৯৪৫ জন নিহত এবং চার হাজার ৩২৫ জন আহত হয়েছেন।

এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘যেসব হতাহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২০২৪ সালে নথিভুক্ত মোট হতাহতের প্রায় ৯০ শতাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।’ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক হতাহত ঘটনা মায়ানমারে হয়েছে (২০২৯), এরপর সিরিয়ায় (১০১৫), আফগানিস্তানে (৬২৪) এবং তারপর ইউক্রেন, নাইজেরিয়া, মালি, ইয়েমেন ও বুরকিনা ফাসোতে। প্রত্যেকটি দেশেই ২০০-এর অধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু ব্যান ল্যান্ডমাইনস’ নামে একটি পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে মাইন এবং ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্রসহ যুদ্ধের বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষের কারণে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছে অথবা নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। ভলকার তুর্কের দপ্তর জানিয়েছে, ১৯৯৯ সাল থেকে নথিভুক্ত অ্যান্টিপারসোনেল মাইনের কারণে বেসামরিক হতাহতের ৪০ শতাংশেরও বেশি শিশু।

ভলকার তুর্কের দপ্তর আরও উল্লেখ করেছে, হত্যা ও অঙ্গহানির পাশাপাশি অ্যান্টিপারসোনেল মাইন এলাকাগুলোকে প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করে। এছাড়াও অ্যান্টিপারসোনেল মাইন মানুষের বিভিন্ন অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে, কৃষিজমি চাষাবাদের জন্য অনুপযোগী করে তোলে।

অটোয়া মাইন নিষিদ্ধকরণ কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৬২ হলেও, বিপুল পরিমাণ মাইন মজুদ থাকা বেশ কিছু দেশ এখনও এই চুক্তিতে যোগ দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক। সম্প্রতি এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ড এই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন চুক্তিটির বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে। তুর্ক বলেন, যেসব দেশ এখনও চুক্তিটি অনুমোদন করেনি, তাদের দ্রুত তা করা উচিত। আর যেসব দেশ চুক্তি থেকে সরে গেছে, তাদের আবার এতে যোগ দেওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“ব্যাংক খাতে ১০ লাখ কোটি ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ, ৪ লাখ কোটি পুনঃতফসিল সুবিধা”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৬ এম


“ব্যাংক খাতে ১০ লাখ কোটি ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ, ৪ লাখ কোটি পুনঃতফসিল সুবিধা”

দেশের ব্যাংকগুলো খেলাপি কমানোর লক্ষ্যে ঋণের পুনঃতফসিল বৃদ্ধির কাজ শুরু করেছে। গত বছর ব্যাংকগুলো ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের পুনঃতফসিল সুবিধা প্রদান করেছে।

এই ফলে ব্যাংক খাতে গত বছর শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

এর আগে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত 'ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫'-এ এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। সংবাদটি আমার দেশ প্রকাশ করেছে।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালে সর্বাধিক খেলাপি ঋণের পুনঃতফসিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, ২০২১ সালে ১২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে।

২০২২ সালে ৪৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৭৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ৫৯ হাজার ৯২০ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালে ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা পুনঃতফসিল হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক খাতের পুনঃতফসিল করা ঋণের ৫৭ শতাংশ শীর্ষ ১০ ব্যাংকে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে খেলাপি ঋণ কমানো লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের জুলাই মাসে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের পুরো ক্ষমতাই ব্যাংকগুলোর হাতে স্থানান্তরিত হয়। এরপর থেকে খেলাপি ঋণের পুনঃতফসিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, কারণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিজস্ব সিদ্ধান্তে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করছে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা আসার প্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোকে ঋণ নিয়মিত রাখতে পুনঃতফসিলের সুবিধা প্রদান করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। বিগত সরকারের সময় নীতিমালাও শিথিল করা হয়েছিল, ফলে মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে চার শতাংশ টাকা জমা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাওয়া যায়।

ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছে বা মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন কিছু নীতিমালা সৃষ্টি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাত্র দুই শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দেয়। এ ঋণের মেয়াদ সর্বাধিক ১০ বছর এবং ঋণ নিয়মিত হলে প্রথম দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রথম দফায় গত বছরের জুন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক খেলাপি ছিলেন, তাদের জন্য এই সুবিধা দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই সময়সীমা বৃদ্ধি করে নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ গত মাসে এক সার্কুলারে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত আবার বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জানা গেছে, নীতি-সহায়তার আওতায় এক হাজার ৫১৬টি আবেদনের বিপরীতে এক লাখ ৯৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩০০টি গ্রুপের ৯০০টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো ২৫০টি ঋণ আবেদন বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে।

পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ৪০% আবার খেলাপি হয়ে গেছে। ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, তার মধ্যে ৩৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ ঋণ খেলাপির খাতায় হিসাব করা হয়েছে। প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ বলে, গত বছরের শেষে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। এই ঋণের মধ্যে এক লাখ ৭৮ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা আবার খেলাপির আওতায় এসেছে।

এছাড়া পুনঃতফসিলকৃত খেলাপি ঋণ ২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা, যা মোট পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উৎপাদনশীল খাতের উদ্যোক্তারা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন। ২০২৫ সালের শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতির মধ্যে ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ ছিল শিল্প খাতের। দ্বিতীয় স্থানে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত, ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

তাছাড়া, পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ চলতি মূলধন, আমদানিতে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ, বাণিজ্যিক ঋণে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ নির্মাণ, ৩ দশমিক ০১ শতাংশ কৃষি খাতে, জাহাজ নির্মাণে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ অন্যান্য খাতে।

ব্যাংক খাতে 'স্ট্রেসড' বা 'দুর্দশাগ্রস্ত' হিসেবে পুনঃতফসিলকৃত ঋণ জামানত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

একই সময় পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আদায় অযোগ্য হওয়ায় ব্যাংকগুলো ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে। সব মিলিয়ে দেশের ব্যাংক খাতে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ঋণ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%