০৮:০৯ এম
ব্রাজিল দলের পক্ষে ভিনিসিউস জুনিয়র থাকার পরও, পেনাল্টি নেয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েসকে। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ১৪ মিনিটের সময় মাতেউস কুনিয়া পেনাল্টি এনে দেন। সেলেসাওদের পক্ষে পেনাল্টি নিতে তারা আশা করেছিলেন ভিনিসিউসকে। তবে অবাক করার মতো ভিনিসিউসের পরিবর্তে ব্রুনোকে পেনাল্টি নিতে দেখা যায়। ব্রুনোর ধীরগতির রান-আপ এবং স্টাটার-স্টেপে নেওয়া শট সহজেই নরওয়ের গোলরক্ষক ওর্ইয়ান নিলান্ড ঠেকান।
দ্বিতীয়ার্ধের সময় কোচ কার্লো আনচেলত্তি ব্রুনোকে মাঠ থেকে তুলে নেন। ইনজুরি সময়ে ব্রাজিল যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, তখন বদলিরূপে নামা নেইমার আরেকটি পেনাল্টি সফলভাবে জালে জড়ান। সেখানেও ভিনিসিউসকে পেনাল্টি নিতে দেখা যায়নি।
শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ২-১ গোলে হেরে যায়, যা ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নেবে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ আনচেলত্তি জানান, পেনাল্টি নেওয়ার ক্রম নির্ধারণে তারা পরিসংখ্যান (স্ট্যাটস) ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, 'আমরা গত এক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেছি, আমাদের খেলোয়াড়দের ও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের তথ্য। সেলেসাও দলে সেরা পেনাল্টি টেকার ছিলেন রাফিনিয়া।'
আরও পড়ুন: কানে হেডফোন দিয়ে রেললাইনে হাঁটছিলেন তরুণ, নিমিষেই শেষ
এই ম্যাচে চোটের কারণে বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া খেলতে পারেননি। আনচেলোত্তি আরও বলেন, 'যারা উপলব্ধ ছিলেন, তাদের মধ্যে সেরা ছিলেন নেইমার, তারপর ইগর থিয়াগো, এরপর ব্রুনো গিমারায়েস এবং তারপর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। আমরা ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলাম, কারণ আমাদের মনে হয়েছে মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ছিলেন।' সেই সময় নেইমার ও ইগর থিয়াগো দুজনই বেঞ্চে ছিলেন।
ভিনিসিউস ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আনচেলোত্তির অধীনে রিয়াল মাদ্রিদে ৯টি পেনাল্টির মধ্যে ৬টি সফলভাবে রূপান্তর করেছিলেন। তবে জাতীয় দলের হয়ে তার পেনাল্টি রেকর্ড শক্তিশালী নয়। ব্রাজিলের হয়ে তিনি দুটি পেনাল্টি নিয়েছেন, যার মধ্যে একটি গোলে রূপান্তর করতে পেরেছেন। অন্যটি ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আনচেলোত্তির অধীনে মিস করেছিলেন। আনচেলোত্তির ছেলে ও সহকারী কোচ দাভিদে আনচেলত্তি বাবার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
তিনি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, 'এটি আগেই নির্ধারিত সিদ্ধান্ত ছিল, যেমনটা আমরা সব ম্যাচেই করি। কে পেনাল্টি নেবে, তা আমরা ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিই। এটি কোচিং স্টাফের সিদ্ধান্ত। পেনাল্টি মিস করা ফুটবলের অংশ, আর আজ সেটাই ঘটেছে।'
মজার বিষয় হলো, বলের দখল মাত্র ৩৪ শতাংশ থাকলেও, ম্যাচে অধিকাংশ গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল। এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিলের সবচেয়ে কম বল দখলের ম্যাচ, তবে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাবেক ফুটবল খেলোয়াড়দের ৭৫ শতাংশের মস্তিষ্কে রোগের লক্ষণ: গবেষণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন