১২:২২ পি.এম
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রাক্কালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর দেশত্যাগ, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাচার এবং ভুয়া বা ব্যাকডেটে সই করা চেক সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গভীর রাতে প্রায় ১৬ কোটি টাকা নগদ সঙ্গে নিয়ে বরিশাল ত্যাগ করেন খোকন আব্দুল্লাহ। পরবর্তীতে এই অর্থ হুন্ডি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ প্রথমে খুলনায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে হুন্ডির মাধ্যমে তা মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত এক যুবলীগ নেতার কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত একাধিক নামসর্বস্ব বা অফশোর প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে তা স্থানান্তর করে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থানরত তার ছেলে প্রত্যুষ সেরনিয়াবাতের কাছে পৌঁছানো হয়।
আরও পড়ুন: নারী শিল্পীদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তির কারণে সুনামগঞ্জে বাউল গানের আসর বন্ধ
পুরো লেনদেন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক হুন্ডি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় শেষ চালানের প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অর্থ লেনদেনের এই কৌশল সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা জানান, আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধে উৎসের পথ গোপন করতে প্রায়ই অফশোর প্রতিষ্ঠানের আশ্রয় নেওয়া হয়। ঘটনা সত্য হলে আন্তর্জাতিক আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বিষয়টি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে খুলনায় আত্মগোপনে থাকার পর কয়েকবার দেশ ছাড়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয় খোকন আব্দুল্লাহর। পরবর্তীতে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন তিনি। ভারতের আসাম হয়ে তিনি কলকাতায় পৌঁছান এবং সেখান থেকে স্ত্রী লুনা আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
আরও পড়ুন: বরিশালে দুই অটোরিকশার চাপায় বৃদ্ধ আব্দুল মন্নান নিহত
খোকন আব্দুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন মাত্র সাত মাস। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই ঠিকাদারি বিল, উন্নয়ন প্রকল্প ও নানা আর্থিক লেনদেন ঘিরে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
পলাতক থাকা অবস্থাতেও খুলনায় আত্মগোপনে থেকে তিনি বিসিসির প্রায় ২৭ কোটি টাকার বিলের চেকে ব্যাকডেটে (পূর্বের তারিখে) স্বাক্ষর করেন। বরিশাল থেকে চেক খুলনায় নিয়ে যাওয়া, সই করানো এবং পুনরায় বরিশালে ফেরত আনার পুরো প্রক্রিয়ায় তার তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) রুবেল ও করপোরেশনের কতিপয় কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, ঠিকাদারদের বিল পাস করার নামে মোট বিলের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ফৌজদারি অপরাধের এক গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খোকন আব্দুল্লাহর এসব আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় খতিয়ে দেখছে।
বিভিন্ন মহলের দাবি মনে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অর্থের উৎস, ব্যাংক লেনদেন এবং বিদেশে টাকা পাঠানোর মাধ্যম উদঘাটন করা জরুরি। আন্তর্জাতিক আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর (FIU) সহযোগিতায় সম্পদ শনাক্ত ও ফেরত আনার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন: বি আর বি ক্যাবল, ৪৮ বছর বিশ্বাসের পথে সমৃদ্ধির যাত্রা
উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর মন্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বর্তমানে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ নেই। ফলে এসব মারাত্মক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বা তার পরিবারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
