০৫:১৮ পি.এম
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বৃহস্পতিবার বলেছেন, তেহরান বর্তমানে শক্তির অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গালিবাফ ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের ‘যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয়’ এই আলোচনার পটভূমি তৈরি করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান আলোচনা এবং আগের সময়গুলোর মধ্যে পার্থক্য হলো, আজ এই যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয়ের পতাকা, যা শত্রু ও বন্ধু উভয়েই স্বীকার করেছে, সেটিই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।’
গালিবাফ আরও বলেন, ইরানের সামরিক অর্জনগুলোকে দেশের স্বার্থে দীর্ঘস্থায়ী একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় রূপান্তর করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনো যুদ্ধ যদি বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি তা একটি আইনি ও রাজনৈতিক নথিতে রূপ না নেয় এবং সেই বিজয়গুলো নথিভুক্ত না হয়, তাহলে তার কোনো উপকার থাকে না।’
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদি হামলায় শিশুসহ ১২ নিহত, নিষিদ্ধ বোমার অভিযোগ
পরমাণু ইস্যুতে চলমান পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একসঙ্গে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর, গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান দুজনেই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
তবে একই সময়ে লেবাননে সংঘাত অব্যাহত থাকে। ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলায় সেখানে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে বিরল সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, তবে আলোচনাটি কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এর পরেই ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে।
১৪ এপ্রিল লেবানন এবং ইসরাইল কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মত কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করে এবং ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। কিন্তু হিজবুল্লাহ ওই আলোচনার অংশ না হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আবার সংঘর্ষ শুরু হয়।
২১ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান, এই সময় পরোক্ষ আলোচনা চলতে থাকে। ৭ জুন ইসরাইল বৈরুত শহরে বোমা হামলা চালায়। তার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরদিন ইসরাইল মধ্য এবং পশ্চিম ইরানে বিমান হামলা চালায়।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ী হামলা মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
৯ জুন হরমুজ প্রণালীতে একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করে। পাল্টাপাল্টি হামলা পরবর্তী দিনও অব্যাহত থাকে।
১৪ জুন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেন। গত বুধবার ট্রাম্প এবং তার ইরানি সমকক্ষ মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফার বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তির বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের প্রতিনিধিদের আগামীকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি অবকাশকেন্দ্র বুর্গেনস্টকে বৈঠকে বসবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলো আগামীকাল বুর্গেনস্টকে বৈঠক করবে। সেখানে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’
আরও পড়ুন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন